বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আলোচনা সভায় দীপংকর তালুকদার

পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ছাড়া কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না

Picture1

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দীপংকর তালুকদার বলেছেন, এমন একটা সময় আসবে ভবিষ্যতে পার্বত্য চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল থাকবে না। কারণ সাধারণ মানুষ এখন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে তারা দলে দলে আওয়ামী লীগের পতাকাতলে সমবেত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক দলগুলোর সাথে বিএনপি, জামাত, সম-অধিকারসহ অন্যান্য দলের সাথে কোন মতপার্থক্য নেই। পার্বত্য এলাকার আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো এখানে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগকে ঠেকাতেই তৎপর, কারন আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হলে পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রদায়িক রাজনীতি দলগুলোর অস্তিত্ব একসময় বিলীন হয়ে যাবে। গতকাল শনিবার বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ রাঙ্গামাটি জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সভাপতি মো: সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে ও পৌর সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সুমন ত্রিপুরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মো: মুছা মাতব্বর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল মতিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো: রফিকুল মাওলা, দপ্তর সম্পাদক মো: রফিক, জেলা ওলামা লীগের সভাপতি ক্বারী মো: ওসমান গনি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো: শাওয়াল উদ্দিন, সদর থানা যুবলীগের সভাপতি মো: আবু মুছা, সদর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: নজরুল ইসলাম, জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সদস্য রবীন্দ্রনাথ ও মো: আব্দুস সাত্তার।

দীপংকর তালুকদার বলেন, পাহাড়ে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো একমাত্র আওয়ামী লীগকেই প্রতিপক্ষ মনে করে প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হুমকি দিচ্ছে। তারা মনে করছে পার্বত্য এলাকার প্রগতিশীল রাজনীতির ধারাকে ধ্বংস করতে হলে আওয়ামী লীগকেই ঠেকাতে হবে। তাদের এ স্বপ্ন কখনোই পূরণ হবেনা উল্লেখ করে দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগের অগ্রযাত্রাকে কেউ কখনোই রুখতে পারবেনা। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অসাম্প্রদায়িক ধারাকে শক্তিশালী করতে হলে এখানে পাহাড়ি-বাঙ্গালি সকলকে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

দীপংকর তালুকদার আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্ব-পরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর হত্যাকারীরা ৭৫ পরবর্তী সময়ে ১৫ আগষ্টকে নাজাত দিবস হিসেবে পালন করতো। তারই ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়া স্বাধীনতা বিরোধীদের খুশি করতে ১৫ আগষ্ট মিথ্যা জন্মদিন পালন করছেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ২০০৪ সালে একই কায়দায় ২১ আগষ্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পিছনে মেজর জিয়াউর রহমান যেভাবে জড়িত ছিলেন, ঠিক একইভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলার সাথে বেগম খালেদা জিয়া জড়িত। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যেভাবে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে ঠিক একইভাবে ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলাকারীদেরও বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থেকে আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

আলোচনা সভা শেষে রাঙ্গামাটি জেলা শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০জন নেতা-কর্মী দীপংকর তালুকদারের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment