প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ

জেলা পরিষদের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবী সন্তু লারমার

সিএচটি-অবজারভার.কম : রোববার ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ :
Quetion Paper
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ পার্বত্য চুক্তির আলোকে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের হন্তান্তরিত বিভাগগুলোতে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের দাবী করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় (সন্তু) লারমা। এদিকে জেলা পরিষদের এমসিকিউ প্রশ্ন শুধু পরীক্ষার্থী ছাড়া কেউ দেখতে পায় না। কিন্তু গতকাল এই প্রশ্নপত্র রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যাওয়ায় শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে জনগণ প্রশ্ন তুলেছে।
পরিষদের নিয়োগ কার্যক্রম পার্বত্য চুক্তি এবং সংশোধীত পার্বত্য জেলা পরিষদের আইন পরিপন্থী উল্লেখ করে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধের জন্য গত ৩১ আগষ্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, রাঙামাটি সাংসদ, প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সচিব, প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সচিব, পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করেন সন্তু লারমা।
গভীর রাতে ফল প্রকাশ ও মৌখিক পরীক্ষা:
আঞ্চলিক পরিষদের অনুরোধকে তোয়াক্কা না করে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নিয়োগ কার্যক্রম চলছে। গত শুক্রবার পরিষদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল শনিবার রাত ২ টায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফল প্রকাশ নিয়ে পুরো রুদ্ধকর অবস্থা ছিল জেলা পরিষদ। সারাদিন পরিষদের প্রধান গেটে ছিল তালা। ভিতরে বাইরে ছিল অতিরিক্ত পুলিশ। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের রবিবার প্রথম দফা মৌখিক পরীক্ষানেওয়া হয়। রবিবার দ্বিতীয় দফায় পরীক্ষা নেওয়া হবে।
মেধা নয় দলীয় পরিচয় প্রাধান্য:
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে এবারের নিয়োগ পরীক্ষায় মেধাকে নয় দলীয় পরিচয়কে আগে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এরপর মুক্তিযোদ্ধা এরপর অন্যান্যকে দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। রাঙামাটি জেলা পরিষদ ও নিয়োগ কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অনীল তঞ্চঙ্গ্যার স্ত্রী সান্তনা চাকমা বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে শতভাগ সম্ভব না হওয়ায় অন্তত ৫০ ভাগ দলীয় ব্যাক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর পর মুক্তিযোদ্ধা কোটা। এর পর মেধার বিষয়টি আসবে।
উল্লেখ্য, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরিত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকের ১০টি উপজেলার ৩২৫টি পদের জন্য রাঙামাটি জেলার স্থায়ী বাসিন্দাদের নিকট হতে গত ১৬ মার্চর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষিকার শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ হয় এইচএসসি এবং শিক্ষকদের ¯œাতক। এই বিজ্ঞপ্তির আলোকে প্রাপ্ত আবেদনপত্রগুলো নিয়ে গত ৪ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই নিয়োগ পরীক্ষার কার্যক্রমে শুরু থেকে অনিয়মের অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের।
প্রশ্নপত্র ফাঁস:
জেলা পরিষদের এমসিকিউ প্রশ্ন শুধু পরীক্ষার্থী ছাড়া কেউ দেখতে পায় না। কিন্তু রবিবার এই প্রশ্নপত্র রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে। স্থানীয় কযেকজন পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন জেলা পরিষদের একটি সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে এই প্রশ্নপত্র বিক্রি করেছে। তারা নিজেদের প্রার্থীদের প্রশ্ন পত্র দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করিয়েছে। পরীক্ষার্থীরা বলেন, দীর্ঘ এতো বছর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করলেও কখনোই প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে আসতে পারিনি। তারা বলেন, এই প্রশ্নপত্র যদি তারা ফাঁস না করে তাহলে কি ভাবে এই প্রশ্ন পত্র সকলের হাতে আসলো।
প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের নিয়োগ কমিটির সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রশ্ন পত্র ফাঁস হওয়ার কোন সুযোগ নেই। সকাল বেলা শিক্ষক নিয়োগ প্রশ্নপত্র করা হয়েছে। সরাসরি তা পরীক্ষার্থীদের হাতে চলে গেছে। এখানে কোন প্রকার দুর্ণীতির সুযোগ নেই। তবে আপনাদের হাতে যে প্রশ্ন আছে তা হয়তো কেউ নিজেরাই বানিয়ে ছাপিয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment