দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি এগিয়ে নিতে হবে

সিএইচটি-অবজারভার.কম: বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :

ITইন্টারনেট সপ্তাহ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলায় আজ বুধবার শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ডিজিটাল মেলা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ডিজিটাল মেলার উদ্বোধন করেন রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: কামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার চেয়ারম্যান তরুন কান্তি চাকমা, ভাইস চেয়ারম্যান রীতা চাকমা, পলাশ কুসুম চাকমা, জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার (ভূমি) পারভেজ আহম্মেদ ও রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রশিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন জানান, বর্তমান যুগে ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ছাড়া দেশ এগুতে পারে না। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে। ফেইসবুক, ইউটিউব ও স্কাইপের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এখানো পাচ্ছে। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তিকে এগিয়ে নিতে হবে। তরুণরা দেশের ভবিষ্যৎ তাই বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য সম্বলিত ডিজিটাল আইডি কার্ডের কাজ শুরু করেছে। যাতে করে একজন নাগরিক তার একটি ডিজিটাল আইডি কার্ডের মাধ্যমে লাইসেন্স, পাসপোর্টসহ সকল প্রকার কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, এর কারণ হচ্ছে যে, আমরা যেসকল সেবা বর্তমানে দিচ্ছি সেক্ষেত্রে অনেক সময় আমরা মানুষজনকে হয়রানি করে থাকি অনেকটা অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতেই ডিজিটাল আইডি কার্ডের প্রয়োজন রয়েছে এবং সরকার সেটি উপলব্ধি করতে পেরেই প্রত্যেক নাগরিকের জীবনাবলি ডিজিটালাইজেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এলক্ষে কাজও শুরু করেছে। তাই ডিজিটাল পদ্ধতি সম্বলিত তথ্য প্রযুক্তির সেবা তৃণমুল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন।
মেলায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা চেয়ারম্যান তরুন কান্তি চাকমা বলেন, ইন্টারনেট হলো আলাদিনের আশ্চর্য্য প্রদীপ। এই প্রদীপের মতোই ঘসার পরিবর্তে সার্চ দিলে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই এখানে পাওয়া যায় এবং শিখা যায় ইন্টারনেট থেকে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং সদ্ব্যবহার করে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান আরো বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে পুরো দেশটাকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করেছেন, সে অনুসারে আমরা সকলেই যদি যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে গেলে হয়তো ২১ সালের মধ্যেই আমাদের দেশটা ডিজিটাল হয়ে যাবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, তবে একটা বিষয় পার্বত্য চট্টগ্রামের বেলায় আমরা দেখতে পাচ্ছি, এখনো এখানে ইন্টানেট সুবিধা বলতে আমরা শুধুমাত্র পৌরসভা কেন্দ্রিক লক্ষ্য করছি। আমরা যখন ইউনিয়ন পর্যায়ে যাই তখন অনেক জায়গায় থ্রিজি পাওয়া যায় না, নেটে ঢুকা যায়না, আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারি না, এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। আমরা চাই অতি শীঘ্রই পার্বত্য চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে ইন্টারনেট সুবিধা পৌছে দিক বর্তমান সরকার। এতে করে প্রান্তিক পাহাড়ি জনগোষ্ঠির লোকেরা তথ্য প্রযুক্তিতে অগ্রসর হয়ে নিজেদেরকে প্রযুক্তির ছোয়ায় নিয়ে আসতে পারবে।
এসময় বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি সঙ্গীসহ বিশেষ অতিথিদের নিয়ে মেলায় ফিতা কেটে শুভ উদ্বোধনের সূচনা করেন। সদর উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নের তথ্য সেবা কেন্দ্র গুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল অপারেটররা মেলায় অংশগ্রহণ করে স্টল প্রদর্শন করেন। পরে প্রধান অতিথি মেলায় অংশ নেওয়া ষ্টলগুলো ঘুরে ঘূরে দেখেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment