তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়কে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে মানববন্ধন

জেলা পরিষদের সদস্য চানমুনি তংচঙ্গ্যাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে

সিএইচটি-অবজারভার.কম: সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :

Tanchangya

সম্প্রদায় ভিত্তিক সদস্য থাকার পরেও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগকৃত সোয়া তিনশত প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়োগ না দেওয়ায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে রাজস্থলী উপজেলায় মানববন্ধন করেছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের কয়েকশত নারী-পুরুষ। আজ সোমবার সকালে রাজস্থলী সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই মানব বন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থা রাজস্থলী অঞ্চল কমিটির উদ্যোগে ঘন্টাব্যাপী আয়োজিত মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দীপময় তালুকদার, রাজস্থলী তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত প্রসাদ তঞ্চঙ্গ্যা, ইউপি মেম্বার কিশোর তঞ্চঙ্গ্যা, জন প্রতিনিধি সন্তোষ তঞ্চঙ্গ্যা, কার্ব্বারী রাঙ্গাধন তঞ্চঙ্গ্যা, বিশিষ্ট সমাজ উন্নয়নকর্মী সুভাষ তঞ্চঙ্গ্যা, জ্যোতির্ময় তঞ্চঙ্গ্যা, তঞ্চঙ্গ্যা ছাত্র-যুব সংসদের সাধারণ সম্পাদক নিরন্ত তঞ্চঙ্গ্যা, নারী নেত্রী অনুপ্রভা তঞ্চঙ্গ্যা, জন প্রতিনিধি-শিক্ষাবিদসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
মানব বন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, আদিবাসী হিসেবে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকার পরও অতি সম্প্রতি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে একজন তঞ্চঙ্গ্যা প্রার্থীকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। মেধানুসারে সম্প্রদায় ভিত্তিক কোটা অনুসরণের কথা থাকলে সেটা যথাযথভাবে পালন করা হয়নি, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অবমাননাকর। বক্তারা বলেন, পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসকারী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা অনুপাতে তাদের নায্য অধিকার সংরক্ষণ করে সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে এটাই প্রমানিত হয়েছে যে, এখানে জাতিগত বৈষম্যের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সাথে অন্য সম্প্রদায়ের বিভেদ ও সংঘাত সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। যা একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে কখনো কাম্য নয়। বক্তারা আরো বলেন, রাজস্থলী উপজেলা থেকে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের সদস্য থাকা সত্ত্বেও এই উপজেলার তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের একজন প্রার্থীরও নিয়োগ না হওয়া খুবই দুঃখজনক। এজন্য দায়ী জেলা পরিষদের সদস্য চানমুনি তঞ্চঙ্গ্যাকে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে ভুল শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হয়, অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রতিটি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সকল প্রকার অনুষ্ঠানে চানমুনি তঞ্চঙ্গ্যাকে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত রাখা হবে এবং অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হবে বলে সমাবেশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
পরে মানববন্ধন শেষে ভবিষ্যতে এই ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাতে বৈষম্য সৃষ্টি করা না হয় সে লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment