বান্দরবানে ম্রো জনগোষ্ঠির নবান্ন উৎসব

পরিবেশের ক্ষতি হলেও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জুমচাষ করতে হবে-বীর বাহাদুর

সিএইচটি-অবজারভার.কম : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :
পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও ঐতিহ্য সংরক্ষণে জুমচাষকে লালন করতে হবে-বীর বাহাদুর এমপি

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেছেন, জুমচাষ পাহাড়ি এলাকার ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ পদ্ধতি। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলেও এটিকে আমাদের লালন করতে হবে। তিনি বলেন, পাহাড়ে এখন ফলন কমে গেছে। কৃষি বিভাগের সাথে আলোচনা করে উন্নত জাতের ফসল উৎপাদনে জুম চাষীদের আলাদা দক্ষতা অর্জন করতে হবে। আজ শনিবার বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মোলং পাড়ায় ম্রো সম্প্রদায়ের নবান্ন উৎসব ‘চামুপক্পই’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এ কথা বলেন।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্যউচিং চাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা রেড ক্রিসেন্টের সাধারণ সম্পাদক এ.কে এম জাহাঙ্গীর, জেলা পরিষদ সদস্য ম্রো সা খেয়া ও সিং ইয়াং ম্রো।

সভায় আরো বক্তব্য দেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক মং নু চিং এবং জুমচাষী মেনু ম্রো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর বাহাদুর এমপি বলেন, জুমচাষ পরিবেশের জন্য কিছুটা ক্ষতিকর হলেও প্রত্যন্ত এলাকায় খাদ্য সংকট মোকাবেলায় এটি গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখে আসছে। তিনি বলেন, প্রতি বছর জুম ফসল ঘরে তোলার পর নবান্নের আয়োজন করা হয়। এতে সকল মানুষের উপস্থিতিতে মিলন মেলায় পরিণত হয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়। এই সময় বিভিন্ন গ্রামের জাতি-গোষ্ঠি একটি পাড়ায় মিলিত হয়ে উৎসব আয়োজন করে থাকে। এতে সরকারের যে কোন উদ্বুদ্ধকরণ বার্তা সহজে জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া যায়। তিনি বলেন, জুমে উৎপাদিত মারফা, তিল, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া খুবই সুস্বাদু। সমতল এলাকার চাষাবাদের তুলনায় পাহাড়ের চাষ পদ্ধতি অন্য রকম হওয়ায় সকলের কাছে জুম ফসলের বাড়তি চাহিদা রয়েছে। বীর বাহাদুর বলেন, বান্দরবানের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিষ ও ফরমালিনমুক্ত বলেই দেশবাসীর কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। এটি বান্দরবানের জন্য গৌরব এবং সম্মানের বিষয়।

প্রতিমন্ত্রী পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠির শিশুদের লেখাপড়ায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, খেলাপড়া জানা ব্যক্তি সমাজের প্রতিটি স্থানে আলো ছড়ায়। এলাকায় নেতৃত্ব দেয় এবং সবকিছুতেই এগিয়ে থাকে। তিনি কৃষি কাজের পাশাপাশি নিজ সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে মনোযোগী হতে ম্রো জনগোষ্ঠির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, চাকুরীর সুবাদে বান্দরবানে না এলে ম্রো-দের এমন ঐতিহ্যবাহী নবান্ন উৎসব সম্পর্কে তাঁর অনেক কিছুই অজানা থাকতো। তিনি বলেন, সমতল জেলার নবান্ন আর পাহাড়ি জনগোষ্ঠির নবান্ন উৎসবের মধ্যে পার্থক্য দেখে তিনি নতুন কিছু শিখতে পেরেছেন। তিনি ম্রো জনগোষ্ঠির উন্নয়নে তাঁর সার্বিক সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন।

এনজিও ম্রো সেট এর সহযোগিতায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট এ নবান্ন উৎসবের আয়োজন করেছে। এতে বিভিন্ন পাড়া থেকে দলে দলে মানুষ ও শিল্পীরা অনুষ্ঠান স্থলে যোগদান করেন। পরে নতুন বছরের উৎপাদিত ফসল উৎসর্গ করা হয়। এ উপলক্ষ্য ম্রো জনগোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, পাহাড়ের সংস্কৃতিক এতো বৈচিত্র্যময় এখানে না এলে তিনি জানাতে পারতেন না। তিনি বলেন, বান্দরবান একটি শান্তির নীড়। এখানে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ঐক্য মিল রয়েছে তা দেশের সকল অঞ্চলের মানুষের কাছে শিক্ষনীয়। তিনি ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনে এ ধরণের বৈচিত্র্যপূর্ণ অনুষ্ঠান সবসময় আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment