পর্যটকের পদভারে মুখরিত দার্জিলিং খ্যাত বান্দরবান

সিএইচটি-অবজারভার.কম: সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ :

Bandabanঈদের ছূটিতে পর্যটকদের পদভারে বাংলাদেশের দার্জিলিং খ্যাত পার্বত্য বান্দরবানে পর্যটন স্পটগুলো মুখর হয়ে উঠেছে। পর্যটকদের পদচারনায় পর্যটন শহর বান্দরবানে এখন অন্যরকম এক আমেজ বিরাজ করছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যটকদের জন্য নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা।

প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে পাহাড়, ঝিরি-ঝর্ণা আর সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের ভ্রমন পিসাসু পর্যটকরা ছুটে আসেন পাহাড় কন্যা বান্দরবানে। এবার ঈদের ছুটিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বান্দরবানে প্রতিটি পর্যটন স্পটে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে, বান্দরবানে কোন হোটেল-মোটেল ও গেষ্ট হাউসে রুম খালি নেই। সব রুম বুকড। ঈদের আগেই রুম বুকড হয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবানে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্পট। এগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বিজয়, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কেউক্রাডংসহ অসংখ্য সু-উচ্চ পাহাড়। রয়েছে বাংলার দার্জিলিং খ্যাত চিম্বুক, নীলগিরি। যেখানে অনায়াসে মেঘের ছোঁয়া পাওয়া যায়। এছাড়াও রিঝুক ঝর্ণা নিজস্ব গতিতে সব মৌসুমেই থাকে সচল। জেলা সদরেই রয়েছে মেঘলা, নীলাচল, প্রান্তিক লেক, স্বর্ণ জাদি (যা লোকমুখে স্বর্ণ মন্দির হিসেবে অধিক পরিচিত) যা না দেখলে সৌন্দর্য্য দেখা অপূর্ণ থেকে যাবে। নীলাচলে দাঁড়ালে পাহাড় আর আকাশের মিতালী, দূরে সবুজ বন কিংবা চটগ্রামের সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য্যের ছোঁয়া উপভোগ করা যায়। পাহাড় থেকে দূর শহরের সৌন্দর্য্য বিমোহিত করে পর্যটকদের। বৌদ্ধ ধাতু জাদি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ স্থান হলেও পাহাড়ের উপর সুন্দর কারুকার্য ও স্বর্ণাভরণে তৈরী হওয়ায় এটিও পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে। বান্দরবান চিম্বুক সড়কের ৫ কি.মি. এলাকায় রয়েছে শৈল প্রভাত ঝর্ণা।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

বান্দরবান-থানচি সড়কের ২৫ কি.মি. দূরে রয়েছে পর্বত চূড়া চিম্বুক পাহাড়। একই সড়কে ৫০ কি.মি. দূরে গড়ে উঠেছে বাংলার দার্জিলিং খ্যাত নীলগিরি। সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত নীলগিরিতে দাড়াঁলে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদীর অপরূপ সৌন্দর্য্য উপভোগ করা যায়। বান্দরবানের রুমা উপজেলায় রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বিজয়, এটি তাজিংডং নামেই পরিচিত। রুমা উপজেলা থেকে ৩০ কি.মি. পাহাড়ি রাস্তা অতিক্রম করে যেতে হয় তাজিংডং পাহাড়ে, পাশেই রয়েছে দেশের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত চূড়া কেউক্রাডং পাহাড়। এছাড়া একই সড়কে ১৭ কি.মি. গেলে দেখা যায় কিংবদন্তী বগালেক। এটি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্পট। এছাড়াও এ জেলায় মারমা, ত্রিপুরা, মুরুং, বম, তঞ্চঙ্গ্যা, খুমি, খেয়াং, পাংখোয়া, চাকমা, চাক, লুসাই, বাঙ্গালিসহ ১২টি আদিবাসী সম্প্রদায় বসবাস করে। আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় জীবনচিত্র মানুষের মনেও বিচিত্র অভিজ্ঞতার স্বাদ দেয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment