কালের আয়নায়

এই হত্যা ও হত্যার হুমকি প্রচারের পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী

সিএইচটি-অবজারভার.কম: শনিবার ০৩ অক্টোবর ২০১৫ :
সূত্র : সমকাল ;
আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –
ঢাকায় এবার একজন ইতালিয়ান নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করেছে তথাকথিত আইএস বা ইসলামিক স্টেট। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য বোঝা ভার। অনেকে মনে করেন, একটি বিদেশি ক্রিকেট টিম সন্ত্রাসের ভয়ে বাংলাদেশে খেলতে আসবে কিনা এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব প্রকাশের পরই এই বিদেশিকে হত্যা করা হয়েছে এই টিমের বাংলাদেশে আসা বন্ধ করার জন্যই। বাংলাদেশ সম্পর্কে বিদেশেও তারা আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চায়। তাতে তারা সফল হবে কিনা জানি না। কিন্তু দেশে ব্লগার হত্যা করে তারা যেমন আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি এখন বিদেশি হত্যা করেও বিদেশে বাংলাদেশ সম্পর্কে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে চাইছে। ঢাকার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এই অনুমান একেবারে অমূলক মনে হয় না।
সর্বোচ্চ আদালতে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ও আলী আহসান মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল থাকার ঘোষণা প্রচারিত হওয়ার আগেই ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। তাতে মনে হয় না, ফাঁসির রায় বহাল থাকায় জামায়াত বা যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকরা প্রতিবাদ হিসেবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু সরকারের ধারণা, এটা বিএনপি-জামায়াতের সমর্থকরা ঘটিয়েছে। সরকারের দাবি, বাংলাদেশে আইএসের অস্তিত্ব নেই। এই দাবি প্রমাণ করতে হলে সরকারকে অবিলম্বে এই বিদেশি নাগরিকের হত্যাকারীদের ধরে ফেলতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে, তারা বিএনপি বা জামায়াতের সন্ত্রাসী।
এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে কিছুটা রহস্যের কুয়াশাও রয়েছে। নিহত ব্যক্তি ইতালিয়ান। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঢাকার অধিকাংশ মিডিয়ায় বলা হয়েছিল, তিনি আমেরিকান। আবার আইএস যে এই হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব স্বীকার করেছে তাও প্রথম প্রচারিত হয়েছে একটি আমেরিকান ওয়েবসাইটে। তাতে যারা কনস্পিরেসি থিয়োরিতে বিশ্বাসী তাদের একটা অংশের সন্দেহ, আমেরিকার ওবামা প্রশাসন ও জাতিসংঘ যখন শেখ হাসিনাকে বিপুলভাবে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করছে, তখন আমেরিকারই আরেকটি মহল বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার তৎপরতায় লিপ্ত। ঢাকায় একজন ইতালিয়ান নাগরিককে হত্যা এবং তাকে প্রথমে আমেরিকান বলে চালানোর প্রচার করাটা এক ধরনের সাধারণ ভ্রান্তি, না উদ্দেশ্যমূলক ভ্রান্তি, তা এই মুহূর্তে বলা মুশকিল।
কোনো ধরনের তদন্ত এবং অপরাধী শনাক্ত হওয়ার আগেই ঢাকার সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডকে বিএনপি-জামায়াতের কাজ বলে সরকারের দাবি করা উচিত নয়। বাংলাদেশে ইসলামিক স্টেটের সন্ত্রাসীরা নেই- এ কথা বলার মতো অবস্থাও এখন পর্যন্ত সৃষ্টি হয়নি। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলেই এসব দায়িত্বহীন কথাবার্তা বলা হতো। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তা অনুসরণ করতে পারে না। বিএনপি-র শাসনামলে বড় বড় হত্যাকাণ্ডকে, এমনকি শেখ হাসিনার ওপর বর্বর গ্রেনেড হামলাকেও আওয়ামী লীগেরই সন্ত্রাস বলে স্বয়ং খালেদা জিয়াও প্রকাশ্যে বলেছেন। এটা কোনো সরকারের ক্রেডিবিলিটি বাড়ায় না।
‘বাংলাদেশে আইএস নেই’- এই আত্মসন্তোষে ভোগা সরকারের উচিত নয়। বিএনপি সরকারের মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে বাংলাভাই বলে কোনো সন্ত্রাসী নেই। ওটা মিডিয়ার প্রচার।’ তারপর বাংলাভাইয়ের অস্তিত্ব ধরা পড়েছিল এবং তার ফাঁসিও হয়েছিল। বাংলাদেশে আইএস নেই- এ কথা বলার আগে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারেরও উচিত ইতালিয়ান নাগরিকের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডটিও আইএসের কিনা (তাদের নামে সে দাবি করা হয়েছে) অথবা জামায়াত কিংবা অন্য কোনো সন্ত্রাসী দল বাংলাদেশে বিদেশি ক্রিকেট টিমের খেলতে আসা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এই বিদেশিকে হত্যা করেছে কিনা তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা। কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা বা উদ্দেশ্য এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কাজ করে থাকতে পারে। গোয়েন্দা পুলিশকে অবশ্যই তা অবিলম্বে খুঁজে বের করতে হবে। ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া বা খুন হওয়া বা সাগর-রুনি হত্যা তদন্তের মতো তা যেন অনন্তকাল ঝুলতে না থাকে।
সিরিয়া ও ইরাকে বিরাট এলাকা দখল করার পর তথাকথিত ইসলামিক স্টেট এখন এতই শক্তিশালী যে, তারা জিহাদিস্ট হিসেবে বিভিন্ন দেশ থেকে তরুণ-তরুণীদের রিক্রুট করছে। ব্রিটেনেও চলছে এই রিক্রুটের কাজ এবং যাদের রিক্রুট করে সিরিয়ায় পাঠানো হচ্ছে, তাদের মধ্যে ব্রিটেনে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীও রয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশেও এই রিক্রুটের কাজ চলছে না এবং দেশটিতে আইএসের কোনো ঘাঁটি নেই, এটা নিঃসংশয়ে বলা যায় কি? বাংলাদেশে সম্প্রতি ব্লগারদের যে নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তাদের অন্তত দু’জনের হত্যার পেছনে ব্রিটেনে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি সন্ত্রাসী পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছে এবং বাংলাদেশেই ধৃত হয়েছে। তার এবং তার সহকর্মীদের সঙ্গে আইএসের যোগাযোগ আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা উচিত।
বাংলাদেশে কয়েকজন ব্লগারকে উপর্যুপরি হত্যা করে তথাকথিত জিহাদিস্টরা দেশময় যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, সেই আতঙ্ক তারা অন্য কোনো দেশেও ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ব্রিটেনে, বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে এখন এই আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। ওয়েবসাইটে, ফেসবুকে ব্রিটেনে বসবাসরত সেক্যুলার বাংলাদেশি নাগরিকদের নামের তালিকা প্রকাশ করে তাদের হত্যা করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি লন্ডনের গার্ডিয়ান পত্রিকায় এই হুমকির খবর প্রকাশ হওয়ার পর ব্রিটেনের গোয়েন্দা পুলিশ এ ধরনের কয়েকজন বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক কর্মীকে তাদের নিরাপত্তা সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছে।
এই হত্যার হুমকি ক্রমাগত ছড়ানোর উদ্দেশ্যটা কী? কয়েকজন ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, যুদ্ধে শক্তিশালী শত্রুপক্ষকে কাবু করার একটা বড় অস্ত্র হলো তাদের মধ্যে আগে আতঙ্ক ছড়ানো। আতঙ্কিত শত্রু যত শক্তিশালী হোক তাকে পরাস্ত করা সহজ। বর্তমান জিহাদিস্টদেরও রণকৌশল এটাই। তারা জানে, সিরিয়া ও ইরাকের অধিকৃত এলাকায় তারা যতই বর্বরতার অনুষ্ঠান করুক, পৃথিবীর সব দেশে অবাধে মুক্তবুদ্ধির লোকজনকে পাইকারি হত্যা তাদের পক্ষে আর সম্ভব নয়। কারণ অধিকাংশ দেশই (এমনকি বাংলাদেশও) তাদের তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক হয়ে গেছে। সুতরাং হত্যা করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে ক্রমাগত হত্যার হুমকি ছড়িয়ে সেক্যুলার ও গণতান্ত্রিক বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের এমনভাবে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলতে হবে যে, তারা যেন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও এমনভাবে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে যে, তাদের মধ্যে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধের ইচ্ছা ও ক্ষমতা লুপ্ত হয়। সন্ত্রাসীদের পক্ষে তখনই সহজ জয়লাভ সম্ভব।
এই সন্ত্রাসী বা জিহাদিস্টদের বাংলাদেশে ব্লগার হত্যা ও হত্যার হুমকি প্রচার অনেকটাই সফল হয়েছে বলা চলে। বহু মুক্তবুদ্ধির চর্চারত তরুণ ব্লগার এখন প্রাণভয়ে প্রকাশ্যে অথবা গোপনে দেশত্যাগ করছেন। দেশে মুক্তবুদ্ধির চর্চার তরুণ বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা কমছে। ধর্ম সম্পর্কে আলোচনার ব্যাপারে সরকার যে নতুন আইন করেছে, তাতে মুক্তবুদ্ধির চর্চা নিরুৎসাহিত ও ব্যাহত হবে। আমাদের আর্থসামাজিক ব্যবস্থায় ও রাজনীতিতেও জামায়াত এবং উগ্র মৌলবাদীদের দাপট এখন প্রকট। তার ওপর স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপরও যদি বাধানিষেধ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে ‘অবরুদ্ধ মানসিকতার’ দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ও সমাজ-প্রগতি কী করে সম্ভব হবে, তা আমি জানি না। যে কোনো দেশে এই সমাজ-প্রগতি বন্ধ হলে মধ্যযুগীয় চিন্তার বাহক জিহাদিস্টদের বিনা প্রতিরোধেই যুদ্ধজয় সম্ভব এবং তাদের হত্যার হুমকি প্রদানের অভিযান চালানোর উদ্দেশ্যও এটাই। জনমানসকে ভীতিগ্রস্ত ও অবশ করে ফেলা।
ব্রিটেনেও বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নামের তালিকা তৈরি করে বারবার হত্যার হুমকি প্রদান যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি তা নয়। এ দেশে বাংলাদেশের যেসব যুদ্ধাপরাধী দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে আছে, বিশেষ করে ‘৭১-এর ঘাতক এবং বিচারে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দণ্ডপ্রাপ্ত মঈনুদ্দীন চৌধুরীকে ব্রিটিশ সরকার যাতে আশ্রয় না দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে, তার দাবিতে লন্ডনে যে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল তা এই হুমকির মুখে কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এই আন্দোলনের কয়েকজন অ্যাকটিভিস্টের নাম জিহাদিস্টদের হত্যা করার হুমকির তালিকায় থাকায় জীবন রক্ষার স্বাভাবিক তাগিদে তাদের অনেকে প্রকাশ্যে চলাফেরা ও রাজনৈতিক তৎপরতা অনেকটা কমিয়েছেন। ফলে হুমকিদাতাদের উদ্দেশ্য অনেকটা সফল হয়েছে।
ব্রিটেনে এই হুমকি প্রচারের পেছনে আইএসের চেয়েও জামায়াতিদের হাতই বেশি কাজ করছে বলে অনেকে মনে করেন। পূর্ব লন্ডনে এখন বাংলাদেশের জামায়াতিদের বড় ঘাঁটি এবং ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তিদানের দাবিতে ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে গড়ে ওঠা আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য জামায়াতিরা এখানে অত্যন্ত বেশি সক্রিয়। তাদের অর্থবল আছে এবং হুমকি ও মিথ্যা প্রচারণার কাজে ইন্টারনেট ও মিডিয়া ব্যবহারের কৌশল ও ক্ষমতাও প্রচুর।
আইন করে বা কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করে এই জিহাদিস্টদের দমন করা যাবে না। এই সন্ত্রাস দমনের প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো, জনগণের মধ্যে সচেতন প্রতিরোধ গড়ে তোলা। এই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে জনমন থেকে সন্ত্রাসীদের সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করতে হবে। বাংলাদেশে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত, এই আতঙ্ক দূর করার জন্য সম্মিলিত অভিযান পরিচালনা করা। হত্যার হুমকির মুখে মুক্তবুদ্ধির তরুণদের দেশ থেকে পালিয়ে যেতে উৎসাহিত না করে প্রতিরোধ চেতনায় তাদের উদ্বুদ্ধ করা। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মতো লেখাজোখা অবশ্যই চলবে না। কিন্তু ধর্ম নিয়ে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে মুক্ত আলোচনা চলবে না_ এমন আইন যাতে দেশে না থাকে। এক কথায় জনমনে, বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে বর্তমানের ভীতি থেকে উদ্ভূত অসার ও অবশ ভাবটা দূর করে প্রতিরোধ চেতনায় তাদের উদ্বুদ্ধ ও সাহসী করে তোলা।
কোনো হুমকির মুখেই আধুনিক মানুষের স্বাধীন সত্তা নত হবে না- এটাই হোক সন্ত্রাস প্রতিরোধের বড় স্লোগান। বাংলাদেশের সরকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো এই আতঙ্ক দূর করা ও জনমনকে সাহসী করে তোলার ব্যাপারে সম্মিলিত কর্মসূচি নিক। ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো, বিশেষভাবে বুদ্ধিজীবীরা এ ব্যাপারে সক্রিয় হোন। আর এই হত্যার হুমকি যারা প্রচার করছে, তাদের ধরা এবং তাদের ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগকে সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে হবে। জিহাদিস্টদের পরাজিত করার লক্ষ্যে প্রথম এবং প্রধান পদক্ষেপই হওয়া উচিত, তাদের যে প্রধান অস্ত্র আতঙ্ক ও ভীতি সৃষ্টি করা সেই অস্ত্রটি ভোঁতা করে ফেলা।
সন্ত্রাস এখন পৃথিবীর সব দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। বুশ আর ব্লেয়ার মিলে সন্ত্রাসের যে প্যান্ডোরার বাক্সের ডালা খুলে দিয়েছেন, তা এখন আর কেউ বন্ধ করতে পারছে না। ঢাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন ইতালিয়ান নাগরিক। প্রায় একই সময়ে আমেরিকার অরেগনে এক কমিউনিটি কলেজে ঢুকে ২৬ বছরের এক যুবক গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে ১০ জনকে। আহত হয়েছে ২০ জন। বিশ্বের একক সুপার পাওয়ার দেশটি নিজের দেশে সন্ত্রাস দমনে ব্যর্থ। আমেরিকার তুলনায় সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের রেকর্ড অনেক ভালো। সে কথা প্রমাণিত হয়েছে আমেরিকারই একটি গ্যালোপ জরিপে। তাতে বলা হয়েছে, ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যাপারে আমেরিকা, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল প্রভৃতি দেশের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো।
অনেকেই স্বীকার করবেন, শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যাপারে নয়, সমষ্টিগত নিরাপত্তা অর্থাৎ জঙ্গিদের উৎপাত দমনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে। বাংলাদেশের হাসিনা সরকার জিহাদিস্টদের দমনের ব্যাপারেও সাফল্য দেখাবে, যদি তাদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর আরও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে জনমন থেকে জিহাদিস্টদের সৃষ্ট আতঙ্ক দূর করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। মানুষ মারার ক্রমাগত হুমকি প্রচার করে জনমনে, বুদ্ধিজীবীদের মনে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে, তাকে দূর করাই হবে এই বর্বর জিহাদিস্টদের পরাস্ত করার অর্ধেক পথে এগিয়ে যাওয়া।
লন্ডন, ২ অক্টোবর শুক্রবার, ২০১৫

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment