জনসংখ্যা বাড়াতে মধুচন্দ্রিমায় ছাড় দিল ডেনমার্ক

সিএইচটি-অবজারভার.কম : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর ২০১৫ :

বাড়ছে না জনসংখ্যা। নাতি-নাতনির সঙ্গসুখ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন ডেনমার্কের প্রবীণরা। ঘিরে ধরছে একাকিত্ব। এই পরিস্থিতি বদলাতে এবার আসরে নেমেছে ডেনমার্কের পর্যটন সংস্থা ‘স্পাইস ট্রাভেল’। এই উদ্যোগের নাম ‘ডু ইট ফর মম’। যুব প্রজন্মকে মধুচন্দ্রিমার সুযোগ করে দিয়ে জনসংখ্যার বৃদ্ধি চাইছে তারা।
জনপ্রিয় ‘থমাস কুক’ এর একটি শাখা ড্যানিশ সংস্থা ‘স্পাইস ট্রাভেল’। উদ্দেশ্য এক, স্পেনের মালোর্কা বা গ্রিসের ক্যানারি দ্বীপের মতো রোম্যাণ্টিক লোকেশনে ‘হনিমুন’ করতে পাঠিয়ে ‘ক্লায়েণ্ট’দের যৌনতাড়না বাড়ানো। আর দুই, এরই সুযোগে দেশের ক্রমহ্রাসমান জন্মহারকে ফের ঊর্ধ্বে তোলা।
‘অফার’ শুধুমাত্র বিয়ের বয়সি ছেলে-মেয়েদের জন্য। কেবল তাঁরাই সুযোগ পাবেন, যাঁরা নিজেদের ‘মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে’ এই দীর্ঘ ‘হানিমুন’-এ যেতে রাজি হবেন। পছন্দমতো সঙ্গী খুঁজে তাঁর সঙ্গে মিলনে রাজি হবেন। নতুন প্রাণের জন্ম দেবেন। এতে বংশবৃ‌দ্ধিও হবে। আবার দেশের জনসংখ্যাও বাড়বে। পুরোটাই ‘মায়ের জন্য’। শুধু জন্মদাত্রী মা-ই নন। এতে খুশি হবেন দেশজননীও।
একটু বুঝিয়ে বলা যাক? ইউরোপের অন্তর্গত অন্যান্য দেশের তুলনায় ডেনমার্কের জন্মবৃদ্ধির হার খুবই কম। বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য বলছে, এই দেশে মহিলাপিছু সন্তানের হার ১.৭ শতাংশ। অধিকাংশ দম্পতি বৃদ্ধ নাতি-নাতনির সঙ্গলাভ করতে পারেন না। এই অবস্থাকে বদলাতে উদ্যোগী ড্যানিশ পর্যটন সংস্থাটি। প্রতি হলিডে-প্যাকেজ পিছু ‘অনুদান’ বাবদ মাত্র ২৫ ড্যানিশ ক্রোন (ডেনমার্কের মুদ্রা) ব্যয় করতে হবে। এতেই ১০০০ ড্যানিশ ক্রোন ডিসকাউণ্ট দেবে সংস্থাটি। সেই সঙ্গে নানা পুরস্কারও মিলবে। যেমন বাচ্চাদের জন্য সারা বছরের ডায়াপার, খেলনা ইত্যাদি। অফার পেতে হলে ১ ডিসেম্বরের আগে নাম লেখাতে হবে। ব্যস! আর কি!
ইতিমধ্যেই একটি বিজ্ঞাপনী ভিডিও প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সেখানে এক বৃদ্ধাকে বাড়িতে একাকী বসে অ্যালবামের ফটো দেখতে দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থা যাতে আর কারও না হয়, তার জন্যই ভিডিওর পরবর্তী দৃশ্যে রীতিমতো পরামর্শের ঢংয়ে বলা হচ্ছে, “নিজের বিয়ের বয়সি সন্তানদের আমাদের সংস্থার সঙ্গে ছুটি কাটাতে বাইরে পাঠান। আর ন’মাস পর নাতি-নাতনির মুখ দেখুন।”  সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment