৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি পাহাড়ে অপহৃত ৩ জনের

সিএইচটি-অবজারভার.কম : রোববার ১১ অক্টোবর ২০১৫ :

Kidnapবান্দরবানের রুমা উপজেলা ও রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী সেপ্রু পাড়ার নতুন পুকুর এলাকা থেকে দুই পর্যটকসহ অপহৃত তিন জনকে অপহরণের ৯ দিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর  ঢাকার মিরপুর  থেকে আব্দুল্লাহ জুবায়ের (২৬) ও জাকির হোসেন মুন্না (৩৪)  নামের দুই পর্যটক বান্দরবানে রুমা উপজেলায় যান। পরের দিন রুমার উপজেলার স্থানীয় গাইড মাংছাই  ম্রো (৩২)-কে সাথে দুই পর্যটক বান্দরবানের রুমা উপজেলা ও রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার সীমান্তবর্তী  বড়থলী ইউনিয়নের নতুন পুকুর দেখার উদ্দেশ্য রওনা হন। ওই দিন বাংলাদেশ-ভারত-মিয়ানমারের ত্রি-দেশীয় সীমান্তবর্তী এলাকা বড়থলী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সেপ্রু পাড়ার নতুন পুকুর এলাকায় পৌঁছলে ৪ থেকে ৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।

এদিকে গাইডসহ দুই পর্যটককে অপহরণ ও তাদের মুক্তিপণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা দাবি করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র ও অপহৃত পরিবারের লোকজন। তবে অপহরণকারী দল থেকে অপহৃতদের মুক্তিপণ বাবদ ৫০ লাখ টাকা দাবি করার ঘটনার কোন সত্যতা পায়নি প্রশাসন। এমনকি কোন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাদের অপহরণ করেছে কেউ এখনো পর্যন্ত দায়-দায়িত্ব স্বীকার করেনি।

জানা গেছে অপহৃত মো. আব্দুল্লাহ আল জোবায়ির ও মো. জাকির হোসেন মুন্না ঢাকা মিরপুরের বাসিন্দা। ২০১২ সাল থেকে তারা প্রায় সময় বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাছিং পাড়ায় আসা-যাওয়া করতেন। এই দু’জনের সাথে পাছিং পাড়ার লোকজন এবং পাড়ার কার্বারী (পাড়া প্রধান) এর সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তারা একবার ঐ পাড়ায় গেলে ১৫/২০দিন পর্যন্ত অবস্থান করত। অপহৃত পর্যটক মো. আব্দুল্লাহ আল জোবায়ির ও মো. জাকির হোসেন মুন্না প্রায় সময় পাছিং পাড়ার লোকজনকে অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা করতেন।

বান্দরবান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সংঘটিত অপহরণের স্থানটি বান্দরবান জেলায় পড়েনি, স্থানটি রাঙ্গামাটি জেলার আওতায় পড়ায় বান্দরবান পুলিশের করার কিছুই নেই।

তিনি আরো জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সব জায়গায় নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব না। কিন্তু কিছু পর্যটক অতি উৎসাহী হয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমতি না নিয়ে এবং তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে বিপজ্জনক ও অনিরাপদ এলাকায় চলে যায়।  ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment