রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন অফিসে বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্ট –

DCপ্রশাসনের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে রাঙ্গামাটি শহরে সকল প্রকার মিছিল-মিটিং, সভা, সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় কোন দেশি-বিদেশি সংস্থা কিংবা রাজনৈতিক দল রাঙ্গামাটি শহর এলাকায় কোন কর্মসূচি পালন করার আগে জেলা প্রশাসনের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। যারা এ আইন অমান্য করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া পার্বত্য অঞ্চলের নানামুুখী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। সেজন্য এ অঞ্চলে রাজনৈতিকভাবে সহিংস ঘটনার সম্ভাবনা বেশি। তাই কলেজ ক্যাম্পাসে বা শহরে, সড়কে ও বিদ্যালয়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোন দল কোন কর্মসূচি পালন করতে পারবে না বলে তিনি ঘোষণা দেন।

আজ রোববার বেলা ১২টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার সংর্ঘষের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ আইন- শৃঙ্খলা সভায় জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন এসব কথা বলেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি ডিজিএফআই কর্নেল মো. ইমদাদুল হক ভূইঁয়া ইমরান, জেলা পুলিশ সুপার তারেকুল হাসান, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বাঞ্চিতা চাকমা, মেজর মোহাম্মদ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ শরিফুল্লা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অরুন কান্তি চাকমা, জন সংহতি সমিতির সভাপতি সুবর্ণ চাকমা, রাঙ্গামাটি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি নিয়ন্ত্রণ চাকমা, আদিবাসী ফোরামের নেতা প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা, রাঙ্গামাটি ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি সুলতান মোহাম্মদ বাপ্পা প্রমুখ।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন বলেন, সহিংসতাকারী কোন জাতিগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের হতে পারে না। তাদেরকে সন্ত্রাসী বলে চিহ্নিত করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বিনষ্ট করার জন্য কিছু মুষ্টিমেয় গোষ্ঠী গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে আতংক সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাতে করার চেষ্টা করছে। এদের প্রতিরোধ করতে হলে জন সচেতনতা সৃষ্টি করে এদের প্রতিরোধ করতে হবে। যে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসন সব সময় সজাগ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, রাঙ্গামাটি কলেজে সহিংস ঘটনা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার প্রেক্ষিতে কলেজে সিসি ক্যামরা স্থাপন, শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্ম পরিধানের ব্যবস্থা, সীমানা প্রচীর নির্মাণসহ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া শনিবারের সংর্ঘষের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের যাচাই-বাছাই করে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ সুপার তারেকুল হাসান বলেন, রাস্তায় নেমে ভাংচুর করা রাজনৈতিক ভাষা হতে পারে না। যে কোন ব্যক্তির মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। যারা এই অধিকার খর্ব করে অনৈতিক আচরণ করে সহিংসতা সৃষ্টি করে তাদের প্রশাসন কঠোর হস্তে দমন করবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment