শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু : আজ ষষ্ঠী

ডেস্ক রিপোর্ট –

Pujaশারদীয় দুর্গাপূজার আজ ষষ্ঠী। গতকাল রোববার দেবী দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ছয় দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। ধর্মীয় আচার অনুযায়ী আজ সকালে বেল গাছের নিচে বিল্লে ষষ্ঠী পালন করা হবে। এছাড়া সন্ধ্যায় মায়ের আমন্ত্রণ এবং অধিবাস পালন করবে দেশের হিন্দু সম্প্রদায়। এছাড়া মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তিমূলক গানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জান মিয়া।

মঙ্গলবার মহাসপ্তমী। এদিন পূবাহ্নে দেবীর নবপত্রিকা প্রবেশ স্থাপন ও সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও মহাসপ্তমী বিহিত পূজা, দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ, সন্ধ্যায় আরতি প্রতিযোগিতা। বুধবার মহাষ্টমী। সেদিন পূর্বাহ্নে মহাষ্টমী বিহিত পূজা, সন্ধিপূজা ও মধ্যাহ্নে মহাপ্রসাদ বিতরণ। বৃহস্পতিবার মহানবমী এবং শুক্রবার ২৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূতে জানা যায়, এবার বিজয়া দশমীর দিনে সন্ধ্যার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু একদিন বাড়িয়ে নেয়া হয়েছে তাই প্রতিমা বিসর্জনে দীর্ঘ রাত করা যাবে না। এবার সারা দেশে ২৯ হাজার ৭৪টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২৭ হাজার ৮৫৮। এছাড়া ঢাকায় এ বছর ২২৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, গত বছর এ সংখ্যা ছিল ২১৬টি।

হিন্দু শাস্ত্রীয় পণ্ডিতদের মতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোড়ায় চড়ে কৈলাশ থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। এতে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রোগ-শোক, হানাহানি ও মারামারি বাড়বে। অন্যদিকে কৈলাশে (স্বর্গে) বিদায় নেবেন দোলায় চড়ে। যার ফলে জগতে মড়ক ব্যাধি এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা বাড়বে।

এদিকে পূজাকে আনন্দমুখর করে তুলতে দেশজুড়ে বর্ণাঢ্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সারা দেশে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল, কাঁসা এবং শঙ্খের আওয়াজে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিভিন্ন মণ্ডপ।

পূজায় নিরাপত্তা : দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও যে কোনো নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা মোকাবেলায় রাজধানীতে ৬ হাজার ৮৬৩ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা করা হয়েছ। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া রোববার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। পাশাপাশি আশুরার দিন দায়িত্ব পালনে আরও আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত করা হবে বলেও জানান তিনি। এদিকে দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন ও আশুরার তাজিয়া মিছিল একইদিন হওয়ায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভিন্ন ভিন্ন সময় বেঁধে দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে তাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষায়িত টিম, সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল টিম, ভিডিও স্টল ক্যামেরা টিম, সুইপিং, ডগ স্কোয়াড ও গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

চট্টগ্রামে টহল শুরু করেছে বিজিবি : শারদীয় দুর্গাপূজায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় টহলে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি)। শনিবার রাতে ৩ প্লাটুন ও রোববার সকাল থেকে আরও ৭ প্লাটুনসহ ১০ প্লাটুন বিজিবি টহল শুরু করেছে নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বিজিবি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সদর দফতর সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ও বিজিবি সদরদফতরের নির্দেশে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় বিজিবি নামানো হয়েছে। নগরীতে চার প্লাটুন এবং জেলার তিন উপজেলা পটিয়া, সীতাকুণ্ড ও হাটহাজারীতে দুই প্লাটুন করে ৬ প্লাটুনসহ মোট ১০ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিজিবি মোতায়ন করায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শংকা কেটে গেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা।

এ বছর রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০টি পূজা মন্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে।এ উপলক্ষে রাঙ্গামাটি জেলার দশ উপজেলায় ৪০টি মন্ডপে পূজা আয়োজনের জন্য সরকারি সহায়তা হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ৭০ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকেও বিভিন্ন পূজা মন্ডপে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

শারদীয় দূর্গোৎসবের সময় রাঙ্গামাটির প্রতিটি পূজা মন্ডপে পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পূজা চলাকালীন সময় রাঙ্গামাটি জেলা শহর এবং উপজেলাসমূহে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সার্বক্ষণিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি মনিটরিং করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিক মনিটরিং সেল বসানো হয়েছে।

এবার খাগড়াছড়ি সদরে মোট পুজা হচ্ছে ১৫টি, মহালছড়িতে ২টি, পানছড়িতে ৮টি, দীঘিনালায় ৭টি, মাটিরাঙ্গায় ৮টি, রামগড়ে ২টি, মানিকছড়িতে ২টি, লক্ষীছড়িতে ১টি সর্বমোট ৪৭টি। এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে ৪৪টি প্রতিমা পূজা ও ঘট পূজা ৩টি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment