ইতিহাসের উষ্ণতম বছর হতে যাচ্ছে ২০১৫

Climate
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বুধবার জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বর ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। শুধু তাই গত বছর থেকে এক লাফে যতোটা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে সেটা ১৮৮০ সাল থেকে নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী  এর আগে আর ঘটেনি। এর আগে তারা জানিয়ে ছিল জুলাই মাসও ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মাস। সবগুলো মাসের উষ্ণতার রেকর্ড রাখলেও, বৈশ্বিক তাপমাত্রা পরিস্থিতি সম্পর্কে সার্বিক ধারণা পাওয়ার জন্য ১৮৮০ সাল থেকে প্রতি বছরের জুলাই মাসের তাপমাত্রা রেকর্ড করে আসছে সংস্থাটি। জুলাইয়ে রেকর্ডকৃত তাপমাত্রার উপর ভিত্তি করে পুরো বছরের তাপমাত্রা হিসেব করা হয়। এ বছরের জুলাইয়ের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৬১.৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট)। নতুন এই রেকর্ড এর আগে ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ে রেকর্ড করা তাপমাত্রাকে ০.০৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে। যা বিশ্ব আবহাওয়ার জন্য খুবই গুরুতর একটি ব্যাপার। এই হিসেব থেকেই পরিবেশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন ২০১৫ সাল হবে ১৮৮০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে উষ্ণ বছর।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায় যে, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়টি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম নয় মাস! এই উষ্ণতার প্রাথমিক প্রভাব হবে সমুদ্র থেকে একটা বড় ধরণের তাপপ্রবাহ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়বে যার ফলে বিশ্বজুড়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ বৃদ্ধি পাবে।
বিশ শতকের গড় তাপমাত্রার চেয়ে দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল ২০১৪ সালের গড় তাপমাত্রা। ফলে বছরটি সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে বিবেচিত হয়। সর্বশেষ জুলাইয়ে পৃথিবীতে গড় তাপমাত্রার যে রেকর্ড হয়েছে, তাতে চলতি বছর আগের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
জলবায়ু সংস্থাটির বিশেষজ্ঞ জেসিকা ব্লানডেন বলেছেন, যে যাই বলুক শেষ কথা হচ্ছে পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি দেখান, ২০ শতকের তুলনায় সমুদ্র অববাহিকার দেশগুলোতে গড় তাপমাত্রা তিন ডিগ্রি ফারেনহাইট বৃদ্ধি পাচ্ছে।  প্রচণ্ড উষ্ণতা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলোর কারণে এটা বলা যায় প্যারিসে আসন্ন ডিসেম্বরে জলবায়ু সম্মেলনে এটা নিয়ে অনেক বিতর্ক হবে। কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন প্রতিরোধে কার্বন নিঃসরণ কমাতে উচ্চাভিলাষী প্রস্তাব আসতে পারে। নিউইয়র্ক টাইমস।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment