কালের আয়নায়

ঢাকা ও আঙ্কারার ঘটনা এবং সন্ত্রাসের সমস্যা

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী –
AGC
বাংলাদেশে দু’জন বিদেশি হত্যা নিয়ে যখন আমেরিকা ও পশ্চিমা কোনো কোনো দেশ হা-মাতম শুরু করেছে এবং বলছে, বাংলাদেশ সন্ত্রাসে ভরে গেছে, তখন রাশিয়ার পক্ষ থেকেই তুলে ধরা হয়েছে প্রকৃত সত্যটি। রাশিয়া বলেছে, “দু’ফোঁটা পানি পড়লেই তাকে বৃষ্টি বলা যায় না।” অর্থাৎ দু’জন বিদেশি নিহত হয়েছে বলেই বাংলাদেশ সন্ত্রাসে ভরে গেছে কিংবা বাংলাদেশে বিদেশিদের নিরাপত্তা নেই_ এ কথা বলা ঠিক নয়। আমেরিকা ও ইউরোপীয় অসত্য ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার ঠিক জায়গাতেই আঘাত দিয়েছে রাশিয়া।
সম্প্রতি তুরস্কের আঙ্কারায় বিরাট গণ সমাবেশের ওপর যে ভয়াবহ বোমা হামলা ঘটানো হলো, যাতে শতাধিক নর-নারী নিহত এবং আরও অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে, সে সম্পর্কে কী বলা যাবে? এই হামলার পর তুরস্ক কি সন্ত্রাসের দেশ এবং দেশি-বিদেশি সকলের জন্যই নিরাপত্তাহীন দেশ হয়ে গেল? হয়তো হয়েছে। যদি হয়ে থাকে, তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশের মতো উদ্বিগ্ন হয়। যদিও আঙ্কারার এ সন্ত্রাসী ঘটনাটি বাংলাদেশের চেয়ে অনেক বড়।
শুধু তুরস্কে নয়, সন্ত্রাসী ঘটনার ব্যাপকতা ছড়াচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ায়ও। এমনকি চীনেও। বিশ্ব সন্ত্রাসের এই যুগে কোনো একটি দেশে দুটি হত্যাকাণ্ডকে ভিত্তি করে তাকে নিরাপত্তাহীন দেশ বলে প্রচার চালানো যে উদ্দেশ্যমূলক, তা এখন যতই দিন যাচ্ছে, ততই ধরা পড়ছে। এ কথা সত্য, উপমহাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ দমনে সাফল্য দেখিয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের মানুষ পুড়িয়ে মারার সন্ত্রাস ব্যর্থ করা হয়েছে। মুক্তমনা ব্লগারদের হত্যার যে পৈশাচিক সন্ত্রাস শুরু করা হয়েছিল, তা-ও অনেকটাই বন্ধ করা গেছে।
অবশ্যই এ কথা বলা যাবে না যে, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ সন্ত্রাসমুক্ত যে করা যায়নি তার কারণ, বিশ্ব-সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গেও এ সন্ত্রাস যুক্ত। এটা জিহাদিস্ট সন্ত্রাস। তার ওপর আছে রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে বিএনপি ও জামায়াতের বোমা হামলার সন্ত্রাস। দেশে ‘৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দণ্ড হচ্ছে। তার ফলে বাংলাদেশে রয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থকদের সন্ত্রাস। আমেরিকার মতো সুপার পাওয়ার যেখানে গোটা পশ্চিম ইউরোপকে পেছনে জড়ো করে ড্রোন-বোমাসহ ভয়াবহ মারণাস্ত্র নিয়ে ন্যাটোসহ সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানে ঝাঁপিয়ে পড়ে আল কায়দা, তালেবান, আইএস জঙ্গিদের দমন করতে পারছে না, সেখানে বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশের হাসিনার সরকার ত্রিমুখী সন্ত্রাসী হামলা থেকে দেশকে অনেকটাই রক্ষা করে চলেছে, এটা কি একটা বড় সাফল্য নয়?
তবু বাংলাদেশের জন্য পশ্চিমা দেশগুলোর কুম্ভীরাশ্রুর অন্ত নেই। আমেরিকার নেতৃত্বে এই দেশগুলো সন্ত্রাস দমনে সাহায্যের নামে যে দেশেই গেছে, সে দেশেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়েছে এবং দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আমেরিকা রেজিম চেঞ্জের থিওরি ভিত্তিক আগ্রাসন দ্বারা যেসব দেশে রেজিম চেঞ্জ করেছে, সেসব দেশই এখন রক্তাক্ত যুদ্ধে জড়িত। লাখ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানের ভয়াবহ উদ্বাস্তু সমস্যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন হস্তক্ষেপ থেকেই সৃষ্ট।
পশ্চিম এশিয়াকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পশ্চিমা শিবির এখন দক্ষিণ এশিয়ার দিকে নজর দিয়েছে বলে অনেকে আশঙ্কা করেন। বাংলাদেশের মতো যে দেশে সরকার একাই জঙ্গি সমস্যাটি অনেকটা সফলভাবে মোকাবেলা করে চলেছে, সেখানে পশ্চিমাদের এই জঙ্গি জঙ্গি বলে চিৎকার অনেকটা উপকথার মিথ্যাবাদী রাখাল বালকের বাঘ বাঘ চিৎকারের মতো মনে হয়। রাখাল বালকের উদ্দেশ্য ছিল, গ্রামবাসীর মনে মিথ্যা সন্ত্রাস সৃষ্টি করা। আর আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্দেশ্য হয়তো বাংলাদেশকে সন্ত্রাসকবলিত দেশ_ এই প্রচার চালিয়ে দেশের মানুষ এবং বিদেশিদের মনেও ভীতি সৃষ্টি করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করা। এর পেছনে কৌশলে রেজিম চেঞ্জের মতলবও লুকিয়ে আছে কি-না কে বলবে?
বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ সরকার যে আমেরিকার পছন্দসই নয়, এটার প্রমাণ বহুবার পাওয়া গেছে। অতীতের ইতিহাস না ঘাঁটাই ভালো। গত সাধারণ নির্বাচনের পরও হাসিনা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার বহু চেষ্টা হয়েছে। বিএনপি-জামায়াতের দাবিতে কণ্ঠ মিলিয়ে চাপ দেওয়া হয়েছে_ অবিলম্বে আরেকটি নির্বাচন করা হোক। হাসিনা সরকারের দৃঢ়তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্বারা দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পশ্চিমা দেশগুলো সুর ঘোরায় এবং হাসিনা সরকারকে সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়। কিন্তু তাদের মনের আসল ইচ্ছাটি মাঝে মধ্যেই প্রকাশ হয়ে পড়ে এবং এবার এ দুই বিদেশি হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
সেক্যুলার বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর থেকেই দেশটিতে উগ্র মৌলবাদীদের অভ্যুত্থান শুরু হয়। শুধু সামরিক অভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশে মৌলবাদী অভ্যুত্থানেও সমর্থন জুগিয়েছে আমেরিকা। ‘৭১ সালের বর্বর গণহত্যায় জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা জানার পরও আমেরিকা এই দলকে মডারেট ইসলামী দল বলে সার্টিফিকেট দেয় এবং বাংলাদেশে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে সাহায্য জোগায়। এই বিএনপি-জামায়াত জোটের শাসনামলেই বাংলাদেশে উগ্র মৌলবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। স্লোগান ওঠে, ‘আমরা সবাই তালেবান, বাংলা হবে আফগান।’
সত্য সত্যই তখন বাংলাদেশকে ‘তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে’ পরিণত করতে চেষ্টা শুরু হয়েছিল। জেএমবি, হিযবুত তাহ্রীর প্রভৃতি জঙ্গি সংগঠন তখন গড়ে ওঠে। বাংলাভাইদের আবির্ভাব ঘটে। তাদের নৃশংস সন্ত্রাস শুরু হয়। আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তান হয়ে অসংখ্য তালেবানপন্থি বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে। ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় বসতে না পারলে এবং এখন পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকে থাকতে না পারলে বাংলাদেশও এত দিনে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পরিণতি বরণ করত কি-না এবং ন্যাটো ও আমেরিকার প্রাত্যহিক ড্রোন হামলায় দেশটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতো কি-না, তা এখন বলা মুশকিল নয়।
ব্রিটেনের লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা জেরেমি করবিন বলেছেন, ‘আইএসের স্রষ্টা আমেরিকা। এখন এই আইএসকে দমন করার নামে সেক্যুলার সিরিয়া রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। তুরস্কের মতো একটি শক্তিশালী দেশও এখন সন্ত্রাসকবলিত। তার মূলেও রয়েছে সেখানে ইসলামিস্টদের শক্তি সঞ্চয়ে আমেরিকার উৎসাহদান। ১৯২৩ সালে অটোমান সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের ওপর নব্য তুর্কির জন্ম। কামাল আতাতুর্ক একটি ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিশালী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং সব ধর্ম-গোত্রের তুরস্কবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করেন। গোটা দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় কামালপন্থি প্রেসিডেন্ট ইসমত ইন নুর সরকার যুদ্ধে নিরপেক্ষতা বজায় রাখে। দেশটি যুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে অব্যাহতি পায়।
যুদ্ধের শেষে তুরস্কের দিকে আমেরিকা মৈত্রীর হাত বাড়ায় এবং দেশটিকে তার সামরিক জোট মেডো বা মিডলইস্ট ডিফেন্স অর্গানাইজেশনে (প্রথম নাম ছিল বাগদাদ চুক্তি) টেনে নেয়। তুরস্কের গণতান্ত্রিক রাজনীতি স্থিতিশীলতা হারাতে শুরু করে। সামরিক বাহিনীর রাজনীতিতে নাক গলানো শুরু হয়। আমেরিকার কৌশল ছিল এখানে দু’মুখী, একদিকে রাষ্ট্রপিতা কামাল আতাতুর্কের সেক্যুলার রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষার ভ্যানগার্ড হিসেবে সামরিক বাহিনীকে সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণে উৎসাহ দান এবং অন্যদিকে সেক্যুলার কামালবাদের বিরুদ্ধে ইসলামপন্থি রাজনীতিতে পরোক্ষ মদদ প্রদান।
আমেরিকার মৈত্রীর নাগপাশ থেকে তুরস্ককে রক্ষার শেষ চেষ্টা করেছিল মেন্দারেস সরকার। প্রধানমন্ত্রী মেন্দারেস সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা হয়। সিআইএর পরিকল্পনা ও মদদে তুর্কি সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল গারসেল ক্ষমতা দখল করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপ্রধান পদে বসান। প্রধানমন্ত্রী আদনান মেন্দারেসকে বিচার প্রহসনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।
এখানে উল্লেখযোগ্য, মার্কিন সামরিক চুক্তি সংস্থা মেডোয় অপর তিন সদস্যরাষ্ট্র ছিল ইরাক, ইরান ও পাকিস্তান। কমিউনিস্ট আগ্রাসন থেকে এই দেশগুলোকে মুক্ত রাখার নামে আমেরিকা তাদের সামরিক জোটে টেনেছিল। কমিউনিস্ট হামলায় এই দেশগুলো ধ্বংস হয়নি। ধ্বংস হয়েছে আমেরিকার প্রতারণামূলক নীতিতে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলীও সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। তাকেও বিচার প্রহসনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। ইরাকেও প্রধানমন্ত্রী নুরি আস সাইদ মার্কিন তাঁবেদারি সত্ত্বেও রক্ষা পাননি। তাকেও হত্যা করা হয়। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনেই নুরি আস সাইদ নিহত হন। দূতাবাস তাকে আশ্রয় দেয়নি।
বাগদাদ চুক্তি বা মেডোর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরাক বেঁচে যায় মার্কিন তাঁবেদার শাহকে সিংহাসনচ্যুত করে এবং সামরিক জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে। এই জোটেরই সদস্য ছিল তুরস্ক। তার ভাগ্যও আজ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সন্ত্রাসকবলিত দেশের সঙ্গে যুক্ত হতে চলেছে। আঙ্কারায় ভয়াবহ বোমা হামলা তার প্রমাণ। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের মতে, তুরস্কের বর্তমান ইসলামপন্থি সরকারের নীতির দরুন দেশটির দীর্ঘকালের নিরাপদ ও নিরপেক্ষ অবস্থানটি আর নেই। দেশটি গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি।
বিখ্যাত ঐতিহাসিক নরম্যান স্টোনের মতে, ‘তুরস্কের ইসলামপন্থি শাসক দলের অদূরদর্শিতার দরুনই দেশটিতে উগ্রপন্থিরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এবং আঙ্কারায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ বোমা হামলাটি ঘটতে পেরেছে।’ এই পশ্চিমা ইতিহাসবিদ তার লেখায় একটি সত্য লুকিয়েছেন। তা হলো, তুরস্কের শাসন ক্ষমতায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ইসলামিক এ কে পার্টি বসতে পেরেছে এবং কামাল আতাতুর্কের সেক্যুলার রাষ্ট্রনীতিকে হটিয়ে পশ্চাৎমুখী মৌলবাদী নীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা দ্বারা সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টির পথে আনতে পেরেছেন আমেরিকার অনুসৃত নীতির ফলেই।
সিআইএর মদদে সেক্যুলারিস্ট মেন্দারেস সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং সেনাপ্রধান জেনারেল গারসেল ক্ষমতায় বসেন। ক্ষমতায় নিজেদের অধিষ্ঠিত রাখার জন্য সেনাবাহিনী প্রথমে আতাতুর্কের সেক্যুলার রাষ্ট্রনীতি রক্ষার পাহারাদার সাজে; তার পর ধীরে ধীরে ইসলামপন্থিদের ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্ত করে দেয়। এ ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি ছিল তাদের অনুকূল।
মার্কিন প্ররোচনায় সিরিয়া সংকটে হস্তক্ষেপ, অর্থাৎ আসাদের সেক্যুলার সরকারের পতন ঘটানোর চেষ্টায় যুক্ত হওয়া তুরস্কের এরদোগান সরকারের একটি মারাত্মক ভুল। প্যান্ডোরার ঝাঁপির ঢাকনা এখন খুলে গেছে। তুরস্কে কুর্দিরা দাবি তুলেছে স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠার। চরমপন্থি ইসলামিস্টরা রাজনৈতিক শক্তি বাড়াচ্ছে। সিরীয় শরণার্থীতে তুরস্ক ভরে গেছে। তারা সামাজিক বিভেদ আরও বাড়াচ্ছে। আঙ্কারার বোমা হামলাটি ঘটেছে মিলিট্যান্ট কুর্দি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ অবসানের দাবিতে অনুষ্ঠিত এক গণজমায়েতের ওপর।
এই সর্বনাশা পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এরদোগান সরকার এখন আবার আতাতুর্কের নাম ও আদর্শের আশ্রয় নিতে চায়। আগামী ২৯ অক্টোবর তুরস্কের রিপাবলিক ডে উপলক্ষে দেশের রাজনৈতিক নেতা, সামরিক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকরা আতাতুর্কের সমাধিতে উপস্থিত হবেন এবং রাষ্ট্রপিতার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তুরস্কের কোনো কোনো রাজনৈতিক নেতা এখনই বলতে শুরু করেছেন, দেশটির বাঁচার একমাত্র পথ কামাল আতাতুর্কের রাষ্ট্রাদর্শে ফিরে যাওয়া।
এই কথাটি বাংলাদেশ সম্পর্কেও সত্য। জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের সেক্যুলার রাষ্ট্রীয় আদর্শ থেকে সরে আসাই বাংলাদেশের সব সমস্যার মূল। এই সেক্যুলার রাষ্ট্রীয় আদর্শে ফিরে যাওয়ার মধ্যেই বাংলাদেশেরও সব সন্ত্রাস, সংঘর্ষ ও সমস্যার প্রকৃত সমাধান নিহিত। – সমকাল
লন্ডন, ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার, ২০১৫

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment