বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু হলে লাগাতার অবরোধ

তারিখ: ২৭ অক্টোবর ২০১৫

PCP 3

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

জনমতকে উপেক্ষা করে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করা হলে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হবে।

“পার্বত্য চুক্তি যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ স্থাপনের সকল কার্যক্রম স্থগিত করুন” দাবিকে সামনে রেখে অদ্য ২৭ অক্টোবর ২০১৫ পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশন-এর যৌথ উদ্যোগে রাঙ্গামাটি শহরে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সমাবেশে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল চাকমার সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ছাত্রনেতা অনিল মারমা।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা বলেন, সরকার বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে। চুক্তি অনুসারে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি না করে নানাভাবে জুম্মদেরকে তাদের জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। চুক্তি বাস্তবায়নে আপামর জনগণের দাবি সত্ত্বেও চুক্তি বাস্তবায়ন না করে সরকার জোর করে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের ষড়যন্ত্র করে চলেছে। চুক্তির যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ মেনে নেবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম জুম্ম জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে পেশীশক্তির জোরে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আগুন জ্বলবে এবং তার জন্য সরকারই দায়ী থাকবে বলে তিনি জানান। বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের কাজ অচিরেই স্থগিত করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি যথাযথ, দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য জোরালো উদ্যোগ গ্রহণ করতে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

জনসংহতি সমিতির কেন্দ্রীয় সদস্য উদয়ন ত্রিপুরা বলেন, বিতর্কিত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হতে না হতেই উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত ছাত্রদের দিয়ে ইতিমধ্যে রাঙ্গামাটিতে সাম্প্রদায়িক তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে ১৭ অক্টোবর বিতর্কিত রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত ছাত্র শামসুজ্জামান বাপ্পির নেতৃত্বে কতিপয় বহিরাগত ও ছাত্রলীগের কর্মীরা যৌথভাবে রাঙ্গামাটি সরকারী কলেজে জুম্ম ছাত্রদের উপর এবং কলেজের বাইরে জুম্ম পথচারীদের উপর হামলা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হলে ভবিষ্যতে পার্বত্যাঞ্চলে কি ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে উক্ত ঘটনার মধ্য দিয়েই তার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে তিনি বলেন। বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে পিসিপির চলমান জোরালো আন্দোলনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার হীন উদ্দেশ্যে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি অভিমত তুলে ধরেন। পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের জোরালো আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত করার হীন উদ্দেশ্যে রাঙ্গামাটি কলেজের উক্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনসংহতি সমিতি ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের কর্মীদের বিরুদ্ধে গণহারে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা দেয়া হয়েছে। হামলা-মামলা করে জুম্ম জনগণের আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না, বরং আরো জোরদার হবে বলে তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম মহিলা সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি জড়িতা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির রাঙ্গামাটি জেলা কমিটির সভাপতি টোয়েন চাকমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি চঞ্চনা চাকমা প্রমুখ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, জনমতের বিপরীতে গত ১০ জানুয়ারী ২০১৫ রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধন করতে গিয়ে রাঙ্গামাটিতে মারাত্মক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। জনমতকে উপেক্ষা করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর প্রহরায় জোর করে কথিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু করা হলে তার ফল কখনোই শুভ হবে না বলে নেতৃবৃন্দ জানান। এমনিতর অবস্থায় সরকার যদি রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণী কার্যক্রম শুরু করে তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতৃত্বে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতি এবং হিল উইমেন্স ফেডারেশনের পক্ষ থেকে লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন কার্যক্রম প্রতিরোধ করা হবে।

বার্তা প্রেরক
জুয়েল চাকমা
সাধারণ সম্পাদক
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment