প্রবারণা উপলক্ষে বান্দরবানে ফানুস ওড়ানো ও রথযাত্রার শুভ উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট –

BB

বান্দরবানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ২৮ অক্টোবর রাতে ফানুস উড়িয়ে রথযাত্রা অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মিজানুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং, আদিবাসী গবেষক সিংইয়ং ম্রো, উপজাতীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির পরিচালক মংহ্নৈচিং প্রমুখ।

প্রধান অতিথির ভাষণে বীর বাহাদুর বলেন, বৌদ্ধ ধর্ম জ্ঞানীর ধর্ম, বৌদ্ধ ধর্ম অহিংসার বাণী প্রচার করে, বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির কথা বলে, অহিংসার বাণী প্রচার করে বলেই বৌদ্ধ ধর্ম শান্তির ধর্ম হিসাবে বিশ্বে স্বীকৃতি লাভ করেছে। আসলে সকল ধর্মেই শান্তির বাণী নিহিত রয়েছে। আমরা না মানার কারণে বিশ্বে অশান্তি বিরাজ করছে।

পরে বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের আয়েজনে শহরের পুরাতন রাজবাড়ি মাঠ হতে “ছংরাসিহ্ ওয়াগ্যোয়াই লাহ্ রাথা পোয়েঃ লাগাইমে”… (সবাই মিলে মিশে রথ যাত্রায় যাই) এ বিশেষ মারমা গান পরিবেশনের মাধ্যমে রথযাত্রা শুরু হয়ে রাজগুরু কিয়ং এর সামনে গিয়ে শেষ হয়।

পাংখো নৃত্যের তালে তালে রথে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন এবং নগদ অর্থ দানে অংশ নেয় শতশত মারমা ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীরা। এতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ গ্রহণ করে উৎসবে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়।

এদিকে এ উৎসব উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন কিয়ং-এ দিনব্যাপী সিয়ং দান ( বৌদ্ধ ভিক্ষুদের খাবার প্রদান), সন্ধ্যায় সহস্র প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, রাতে মারমা পল্লীগুলোতে ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি উৎসবে মেতে উঠেছিল বান্দরবানের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। মারমা তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোরসহ পূর্ণ্যার্থীরা গান-বাজনা আর বাহারী পোশাকে সজ্জিত হয়ে রাস্তায় নেমে এসে এ উৎসবকে বরণ করে নেয়।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা তিন মাস বর্ষাবাস শেষে ও শীল পালনকারীরা প্রবারণা পূর্ণিমার দিনে বিহার থেকে নিজ নিজ সংসারে ফিরে যান। এ কারণেই এ বিশেষ দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ।

উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি মংচিংনু মার্মা জানান, এবারের প্রবারণা উৎসব অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সফল ভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানে আনন্দের জোয়ার বইছে। সব সম্প্রদায়ের লোকজন এ উৎসবে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় করেছে। আশা করছি এ বন্ধন অক্ষুন্ন থাকবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment