দাপুটে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের

স্পোর্টস ডেস্ক –

Cricket

জিম্বাবুয়েকে প্রথম ওয়ানডেতে ১৪৬ রানে হারালো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৭৩ রানের জবাবে ৩৬ ওভার দুই বলে ১২৮ রানেই নয় উইকেট হারিয়ে ফেলে জিম্বাবুয়ে।
উইকেটরক্ষক মুতুম্বামি ইনজুরিতে থাকার কারণে এতেই জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের।
মুশফিকুর রহিম শতক ও সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৯ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ ২৭৩ রান করে।  জবাবে ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ৪০ রান তুললেও  নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। দশম ওভার করতে এসে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরত যান ক্রেইগ আরভিন। জিম্বাবুয়ের দলীয় রান তখন ৪৮। আল আমিন হোসেনের বলে এরপর ফিরে যান স্বচ্ছন্দে খেলতে থাকা লুক জংউই। ৫১ বলে ৩৯ রান করেছিলেন তিনি। এরপরে আবারো আক্রমণে ফিরে এসে আঘাত হানেন সাকিব। শন উইলিয়ামসকে সরাসরি বোল্ড করেন তিনি। এলটন চিগুম্বুরা ও সিকান্দার রাজাকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু মাশরাফি আক্রমণে এসে পর পর দুই ওভারে তুলে নেন দুই উইকেট। ২৮ তম ওভারে ম্যালকম ওয়ালারের উইকেটটি ছিল মাশরাফির ২০০ তম উইকেট। প্রথম বাংলাদেশি পেসার হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
নিজের নবম ওভারে আবার আঘাত হানেন সাকিব। গ্রায়েম ক্রেমারকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তিনি।  শেষ ওভারে এসে টিনাশে পানিয়াঙ্গারাকে বোল্ড করে এক অতৃপ্তি ঘোচান সাকিব। এই প্রথম ওয়ানডেতে পাঁচ উইকেট পেলেন তিনি। পরের ওভারে চিগুম্বুরাকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে বড় জয় এনে দেন নাসির।
এর আগে মিরপুরের ধীর উইকেটে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে শূন্য রানে আউট হয়ে যান সৌম্য সরকারের জায়গায় ওপেনিংয়ে সুযোগ পাওয়া লিটন দাস। নবম ওভারে মাহমুদুল্লাহও ফিরে যান দলীয় ৩০ রানে। ২০ বল খেলে ৯ রান করেছিলেন তিনি। সেখান থেকেই তামিমকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন মুশফিকুর রহিম। মিরপুরের ধীর উইকেটে তামিম স্বভাববিরুদ্ধ খেললেও মুশফিকের ব্যাটে রান আসছিল। সিকান্দার রাজার বলে লং অনে মারতে গিয়ে ৪০ রান করে আউট হয়ে ফিরে যান তামিম।
আউট হওয়ার আগে ৭০ রানের জুটি গড়েছিলেন মুশফিকের সঙ্গে। একই বোলারের বলে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন সাকিব আল হাসান। দলীয় ১২৩ রানে চতুর্থ উইকেট হিসেবে সাকিব আউট হওয়ার পরে উইকেটে আসেন সাব্বির রহমান। ছন্দে থাকা মুশফিক সাব্বিরকে নিয়ে পরিস্থিতি সামলে নিতে থাকেন। প্রায় ১৯ ওভার এই দুই জন ব্যাটিং করে ১১৯ রানের জুটি গড়ে তুলেন। মুশফিক তুলে নেন ওয়ানডেতে তার চতুর্থ সেঞ্চুরি।
তরুণ সঙ্গীর রানের গতি বাড়ানোর ফাঁকেই ৪৬তম ওভারে নিজের রান তিন অঙ্কে নিয়ে যান মুশফিক। ওয়ানডেতে এটি মুশফিকের চতুর্থ আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। চলতি বছর এটি মুশফিকের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
৪৭ থেকে ৪৮ তম ওভারে ছয় বলের মধ্যে সাব্বির-নাসির-মুশফিকের বিদায়ের শেষের দিকে হঠাৎ করেই চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। মুশফিক ১০৭ ও সাব্বির ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৫৭ রান করে ক্রেমারের থ্রোতে রান আউটের শিকার হন। নাসির হোসেন  সীমানা ছাড়া করতে গিয়ে টাউরাই মুজারাবানির বলে চামু চিবাবার হাতে ধরা পড়েন তিনি।ত বে মাশরাফি ও আরাফাত সানি দলের সংগ্রহ ২৭০ ছাড়িয়ে নিয়ে যান। শেষ ওভারে ফিরে যাওয়ার আগে ৯ বলে ১৪ রান করেন অধিনায়ক। শেষ বলে রান আউট হওয়া আরাফাত করেন ১৫ রান। জিম্বাবুয়ের রাজা ও মুজারাবানি দুটি করে উইকেট নেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment