বঙ্গবন্ধু স্যাটলাইট উৎক্ষেপণের ঐতিহাসিক চুক্তি সই

ডেস্ক রিপোর্ট –
 

 

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পূর্তিতে অর্থাৎ ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ মহাকাশে যাবে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট ক্লাবের ৫৭তম সদস্য দেশে পরিগণিত হবে। এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস এলেনিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও থ্যালেস এলেনিয়া স্পেসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী জ্যঁ লইক গ্যাল।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলাদেশকে দাবায়ে রাখা যাবে না। আজ এই চুক্তির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ৫৭টি স্যাটেলাইট মালিক দেশের ক্লাবে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে স্যাটেলাইটের ভাড়া বাবদ প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়, ভবিষ্যতে এ অর্থ সাশ্রয় হবে।

জ্যঁ লইক গ্যাল বলেন, ৫৭টি স্যাটেলাইট ক্লাবের দেশে বাংলাদেশ প্রবেশ করতে যাচ্ছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এ স্যাটেলাইট যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ প্রকল্পে সহায়তা দেবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ এমপি ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত সোফিয়া ওবার্ট। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ফয়জুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির কর্মকর্তাবৃন্দ।

দেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য গত ২০ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থ্যালাস এলেনিয়া স্পেসকে কাজ দেওয়ার অনুমোদন দেয়। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ প্রকল্পে খরচ হবে দুই হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে এক হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বাকি এক হাজার ৬৫২ কোটি টাকা বিডার্স ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে আসবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্পের জন্য গত ১৫ জানুয়ারি রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী ১১৯.১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট লিজ পেয়েছে বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের দুটি গ্রাউন্ড স্টেশন হবে গাজীপুরের জয়দেবপুর ও রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়ায়। স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার ক্যাপাসিটি থাকবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য ২০টি ট্রান্সপন্ডার রাখবে এবং বাকিগুলো বিক্রি করে দেওয়া হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment