রাজ বন বিহারে অনুষ্ঠিতব্য কঠিন চীবর দান আয়োজনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Bono Bihar

চলতি মাসের ১৯ তারিখ থেকে রাঙ্গামাটিতে শুরু হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ ধর্মীয় অনুষ্ঠান দানোত্তম কঠিন চীবর দান। দেশ বিদেশ থেকে কয়েক লাখ পূণ্যাথী ও পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রামে ঐতিহ্যবাহী অন্যতম প্রধান এই ধর্মীয় উৎসবটি পালন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানিয়েছে অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটি।

রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের উপাসক-উপসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার বিকেলে বিহার প্রাঙ্গনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে এক চা চক্র অনুষ্ঠানে ৪২তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান – ২০১৫ পালনার্থে নিজেদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পাশাপাশি রাঙ্গামাটির গণমাধ্যম কর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান। এ সময় উক্ত কমিটির সহ-সভাপতি দীপক খীসা, সাধারণ সম্পাদক প্রতুল বিকাশ চাকমা, তথ্য ও প্রচার সম্পাদক এডভোকেট সুস্মিতা চাকমাসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মত বিনিময়কালে উপাসক-উপাসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্যাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত প্রায় সাড়ে তিনশো বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুকে এবারকার অনুষ্ঠানে কঠিন চীবর দান করবেন পাহাড়ের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীগণ। আর ১৯ নভেম্বর দুপুরে এই বিশাল অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায় ও নতুন রাণী ইয়ান ইয়ান। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিতা কেটে বেইন ঘরের উদ্বোধন করবেন রাজা এবং এরপরপরই এবারে প্রথমবারের মতো চড়কায় সুতা কেটে চীবর বানানোর প্রাথমিক সূচনা করবেন নতুন রাণী ইয়ান ইয়ান। এরপর মাত্র চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই চড়কায় সুতা কেটে, সেই সুতা দিয়ে কাপড় বুনে রং করে চীবর (গেরুয়া বসন) তৈরি করে ২০ নভেম্বর দুপুরে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুদের মাঝে এই চীবর দান করবেন পূণ্যার্থীগণ। এবারেও প্রায় হাজারের মতো স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত থাকবে অনুষ্ঠানে আগত দর্শনার্থী ও অংশ নেয়া পূণ্যার্থীদের সহযোগিতা করার জন্য।

সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়কালে প্রচারের দায়িত্বে থাকা এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা জানান, এবারের অনুষ্ঠানে অন্যান্য বছরের ন্যায় সাংবাদিকদের জন্য নির্দিষ্ট পাশ কার্ডের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, অনেকেই পাশকার্ড নিয়ে সাংবাদিক নয় এমন ব্যক্তিকেও অনুষ্ঠানে প্রবেশ করিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। তাই সিনিয়র সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ আলোচনা করেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, যারা গণমাধ্যম কর্মী তারা নিজ নিজ মিডিয়া প্রদত্ত আইডি কার্ড নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য আসবেন। এ জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতায় আলাদাভাবে একদল স্বেচ্ছাসেবকও নিয়োজিত করা হবে বলে জানিয়েছেন এডভোকেট সুস্মিতা চাকমা।

এদিকে মত বিনিময়কালে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাইলে উপাসক-উপাসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গৌতম দেওয়ান জানান, এবারের দানাত্তোম কঠিন চীবর দান উপলক্ষে রাঙ্গামাটি স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আগত পূণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হবে। নয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এই মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করবেন। এছাড়াও এবারের দানোত্তম কঠিন চীবর তৈরিতে ১৬৫ টি কোমরতাঁত স্থাপন করা হবে।

এদিকে রাজমাতা আরতি রায় – এর বয়স হয়ে যাওয়ায় ও শারিরীকভাবে দুর্বল হওয়ায় এবার সূতা বুননের চড়কায় প্রথমবারের মতো সূতা কেটে চীবর তৈরি উদ্বোধন করবেন নতুন রাণী ইয়ান ইয়ান।

এছাড়াও চীবরদান উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো আগত দর্শনার্থী ও পূণ্যার্থীদের জন্য থাকছে বুদ্ধের জীবনী সম্বলিত এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় দেবতাগণের জীবনী নিয়ে তৈরি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী।

অনুষ্ঠানটি সফলভাবে এবং সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন ৪২তম দানোত্তম কঠিন চীবর দান – ২০১৫ উদযাপন উপলক্ষে গঠিত উপাসক-উপাসিকা কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

পরিষদের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, ঐতিহ্যবাহী কঠিন চীবর দানানুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক প্রস্তুতি ইতিমধ্যে প্রায় শেষ পর্যায়ে। এবারের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, পার্বত্য সচিবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সিনিয়র ব্যক্তিবর্গের কাছে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র ইতিমধ্যে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment