মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক –

Sheikh Hasina

মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা পাঁচ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করে ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ শনিবার সকালে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতার পরিমাণ ৯০০ টাকা থেকে চার দফা বাড়িয়ে বর্তমান ৫,০০০ টাকা করা হয়। ভাতা ভোক্তার সংখ্যা এক লাখ থেকে বাড়িয়ে দুই লাখ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ২০১৩ এর জুলাই থেকে বীরশ্রেষ্ঠদের জন্য ১২,০০০ টাকা, বীর উত্তমদের জন্য ১০,০০০ টাকা, বীর বিক্রমদের জন্য ৮,০০০ টাকা এবং বীর প্রতীকদের জন্য ৬,০০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ভাতা, চিকিৎসা এবং রেশন সামগ্রী বাবদ প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং উত্তরাধিকারীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার জন্য  ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
তিনি আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাষ্টের মাধ্যমে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারবর্গের মাসিক রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা বাড়িয়ে সর্বনিম্ন ৯,৭০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩০,০০০ টাকা করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা প্রাপ্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গকে স্বল্পমূল্যে রেশন সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে।
AH
এর আগে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন।
আজ শনিবার সকালে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এবং সরকার প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা সেনানিবাসে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান তিন বাহিনীর প্রধান।
আবদুল হামিদ শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল এসময় অভিবাদন জানায়।
পরে রাষ্ট্রপতি শিখা অনির্বান চত্বরে রাখা পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
রাষ্ট্রপতির পর সরকার প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী শেখ হাসিনা শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment