ফুরোমোন সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ধ্যান কেন্দ্রে কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্ট –

Furo-mone

রাঙ্গামাটির সর্বোচ্চ পর্বত ফুরোমানে স্থাপিত সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ধ্যান কেন্দ্রে দুইদিন ব্যাপী ৯ম দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব উৎসর্গের মধ্যে দিয়ে আজ সোমবার সমাপ্ত হয়েছে।

নানা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে শ্রদ্ধেয় বনভন্তের উদ্দেশ্যে চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় শ্রীমৎ জ্যোতিষা মহাস্থবিরের হাতে চীবর উৎসর্গ করেন।

পবিত্র ধর্ম দেশনা দেন রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির। এছাড়া ফুরোমান সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ধ্যান কেন্দ্রে শ্রীমৎ ভৃগু মহাস্থবির সহ অন্যান্য ভিক্ষুও বক্তব্য রাখেন।

দুই দিন ব্যাপী কঠিন চীবর দানানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফুরোমান সাধনাতীর্থ আন্তর্জাতিক বন ধ্যান কেন্দ্রের কঠিন চীবর দান উৎসবের সভাপতি ও রাঙ্গামাটি চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার দেবাশীষ রায়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা পরিষদ সদস্য অমিত চাকমা রাজু, সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তারা। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যোগ দিয়েছেন অগণিত পুণ্যার্থী।

অনুষ্ঠানে পঞ্চশীল প্রার্থনা করেন চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়। মহা পরিনির্বাণগত বনভান্তের উদ্দেশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তৈরি চীবরটি ভিক্ষুসংঘের হাতে তুলে দেন চাকমা রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়।
দুপুর আড়াই টার দিকে বিহার মঠে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে দেশনা দেন রাজবন বিহারের আবাসিক ভিক্ষু প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবিরসহ শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুগন।

সদ্ধর্ম দেশনাকালে ভিক্ষু প্রধান শ্রীমৎ প্রজ্ঞালংকার মহাস্থবির বলেন, বৌদ্ধ আর্যপুরুষ মহাসাধক পরমপূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তের হিতোপদেশ উদ্ধৃতি দিয়ে তার অনুগত শিষ্যমন্ডলী হিংসা-বিদ্বেষ, স্বার্থপরতা, লোভ-লালসা, ক্ষমতার গর্ব, বর্বরতা ও পাশবিকতার বিপরীতে বুদ্ধের প্রেম, সাম্য, মৈত্রী, ক্ষমা, ত্যাগ, অহিংসা, আত্মসংযম ও করুণার বশবর্তী হয়ে বিশ্বমানবের সুখ-শান্তিও কল্যাণে ব্রত থাকার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা বের করে বেইনে (কোমর তাঁত) চীবর তৈরি করে দানকার্য সম্পাদন করেন।

এছাড়া সকাল থেকে ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, বুদ্ধপূজা, কল্পতরু শোভাযাত্রা, পঞ্চশীল প্রার্থনা, চীবর উৎসর্গ, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, ধর্মসভা, ধর্মীয় দেশনাসহ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানসূচি পালিত হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দু’দিনের ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment