কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে দানোত্তম কঠিন চীবর দান সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্ট –

Chingmrong

সাবেক এমপি ও প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, সমাজ থেকে লোভ, হিংসা, হানাহানি দূর করতে ধর্মের কোন বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শিশুকাল থেকে একাডেমিক শিক্ষা গ্রহণের পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। কারণ ধর্ম মানুষকে সৎ পথে অগ্রসর হওয়ার শিক্ষা দেয়।

আজ ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহাসিক চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারে কঠিন চীবর দানোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত ধর্মসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পামোক্ষা মহাথের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ধর্মসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা, সদস্য অংসুই প্রু চৌধুরী, সাধন মনি চাকমা, সবির কুমার চাকমা, জ্ঞানেন্দু বিকাশ চাকমা, রেমলিয়ানা পাংখোয়া, কাউখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম চৌধুরী-সহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতা এবং সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে যোগ দিয়েছেন অগণিত পুণ্যার্থী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কঠিন চীবর দানোৎসবের আহ্বায়ক ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য থোয়াইচিং মারমা।

DTঅনুষ্ঠানে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে অনেক রাজনৈতিক দল আছে যারা ধর্মকে পুঁজি করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে থাকে। এদের থেকে দূরে থাকারও পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ধর্ম আর রাজনীতি আলাদা বিষয়। আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্মাণে সহায়তা দেয় কোন রাজনৈতিক কারণে নয়। এই সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী বলেই সকল ধর্মের কল্যাণে কাজ করে। তিনি বলেন, প্রত্যেক ধর্মকে শ্রদ্ধা করি বলে আমি সব ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে থাকি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, বৌদ্ধ ধর্মে অহিংসা ও দানশীল মনোভাব নিয়ে সমাজের সকল মানুষের কল্যাণ করার কথা বলা আছে।  তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের পঞ্চশীলকে সঠিকভাবে মেনে চললে নির্বাণ লাভ করা যায়। বুদ্ধের প্রেম, সাম্য, মৈত্রী, ক্ষমা, ত্যাগ, অহিংসা ও আত্মসংযম ধারণ করে বিশ্বমানবের সুখ-শান্তি ও কল্যাণে ব্রত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিক্ষুদের উদ্দ্যেশ্যে মূল চীবর দান করেন চিংম্রং আগা পাড়ার দায়ক থেথোয়াই মার্মা, উপদেশ মূলক বক্তব্যের মাধ্যমে আশীর্বাদ প্রদান করেন চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পামোক্ষা মহাথের।

দুপুরে বিহার প্রঙ্গনে আয়োজিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পুণ্যার্থীদের উদ্দেশ্যে ধর্ম দেশনা দেন সুমেন্দা নন্দ মহাস্থবির, রমতিয়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ঊঃ তিসা মহাথের-সহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ।

এ ছাড়াও চিংম্রং বৌদ্ধবিহারে সকাল থেকে ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান, বুদ্ধপূজা, কল্পতরু শোভাযাত্রা, পঞ্চশীল প্রার্থনা ও গ্রহণ, বৃদ্ধমূর্তি দান, চীবর উৎসর্গ ও দান, সংঘদান, অষ্ট পরিস্কার দান, ধর্মসভা, ভিক্ষুসংঘ কর্তৃক ধর্মীয় দেশনা প্রদান-সহ নানান অনুষ্ঠানসূচি পালিত হয়। সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে এ মহান ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষ হয়।

উল্লেখ্য যে, মহামতি গৌতম বুদ্ধের জীবদ্দশায় তার প্রধান সেবিকা মহাপুণ্যবতী বিশাখা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তূলা থেকে সূতা বের করে বেইনে (কোমর তাঁত) চীবর তৈরি করে এই মহান দানকার্য সম্পাদন করেছিলেন। সেটা স্মরণ করেই প্রতি বছর বৌদ্ধরা এই দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করে আসছেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment