প্রেস বিজ্ঞপ্তি

আট গণসংগঠনের সমাবেশে সেনা-পুলিশের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ

২৯ নভেম্বর ২০১৫
প্রেস বিজ্ঞপ্তি –

press

ইউনাইটেড পিপল্স ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সমন্বয়ক প্রদীপন খীসা এক বিবৃতিতে আজ রবিবার (২৯ নভেম্বর) খাগড়াছড়ি শহরে পার্বত্য চট্টগ্রামের আন্দোলনরত আট গণসংগঠনের পূর্ব নির্ধারিত জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি দিবসের’ শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সেনা-পুলিশ হামলা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা, একই সংগঠনের কর্মী দ্বিতীয়া চাকমা ও ২জন ছাত্রকে আটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সেনা-পুলিশের হামলাকে গণতান্ত্রিক অধিকারের উপর চরম আঘাত উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং করার অধিকার একটি সংবিধান স্বীকৃত অধিকার। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনী এই অধিকারের প্রতি নগ্ন হস্তক্ষেপ করে চরম স্বৈরাচারী কায়দায় মিছিল-মিটিঙে বাধা প্রদান ও হামলা চালিয়ে সমাবেশ ভণ্ডুল করে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘২৯ নভেম্বর হচ্ছে জাতিসংঘ ঘোষিত ফিলিস্তিনি সংহতি দিবস। সারা বিশ্বে ন্যায় বাংলাদেশের জনগণও এ দিবসের সাথে একাত্মতাবোধ করে। খোদ বাংলাদেশ সরকারও ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানায়। এ অবস্থায় খাগড়াছড়িতে জাতিসংঘ ঘোষিত দিবসে সংহতি জানাতে গিয়ে ৮গণসংগঠনের নেতা-কর্মীদের ওপর যেভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে নির্বিচারে বেয়নেট চার্জ, লাঠিপেটা করে নারী-পুরুষ স্কুল-কলেজ ছাত্র-ছাত্রীকে জখম করেছে, তাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহ আরও বেশী ঘণীভূত হবে। সেনাবাহিনী কি ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সরকারের ঘোষিত সমর্থন পরোয়া করে না এ প্রশ্ন রেখে তিনি আরও বলেন, কতিপয় সেনা কর্মকর্তা জাতিসংঘের নীতিমালা পদদলিত করার ধৃষ্টতা কিভাবে দেখাতে পারে, এর পেছনে অন্য কোন আলামত আছে কিনা সে নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘের পরিচালিত বিভিন্ন শান্তি মিশনে অংশ নিলেও আদতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা কতখানি শান্তিরক্ষার সহায়ক, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময় তাদের বিতর্কিত ভূমিকা জনমনে এ ব্যাপারে সংশয় আরও বদ্ধমূল হচ্ছে বলে ইউপিডিএফ নেতা মন্তব্য করেছেন।

ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন কোন শক্তি দমন করতে পারবে না মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বহুদূর এগিয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের প্রতি নৈতিকভাবে সব সময় পাশে থাকবে এবং সমর্থন দিয়ে যাবে।’

বিবৃতিতে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগণতান্ত্রিক ও দমনমূলক ১১ নির্দেশনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে কার্যতঃ সেনাশাসন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি কাল সোমবারের মধ্যে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতিসহ নিরূপা চাকমাসহ আটককৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১ নির্দেশনা বাতিলপূর্বক দমন-পীড়ন বন্ধ করা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘৮ গণসংগঠনের কনভেনিং কমিটি’ (গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন(এইচডব্লিউএফ), পা. চ. নারী সংঘ, সাজেক নারী সমাজ, সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড)

আজ রবিবার সকালে খাগড়াছড়ি সদরের তিনটি স্থানে জাতিসংঘ ঘোষিত ‘ফিলিস্তিন সংহতি দিবসে’ সমাবেশ করতে গেলে মধুপুর ও খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা কার্যালয়ের সামনে সেনা-পুলশ হামলা চালায় ও বেধড়ক লাঠিপেটা ও বেয়নেট চার্জ করে নারীসহ ১৪ জনকে জখম ও আহত করে। এসময় সেনা-পুলিশ সদস্যরা হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা, একই সংগঠনের কর্মী দ্বিতীয়া চাকমা ও ২জন ছাত্রকে আটক করে সমাবেশ ভণ্ডুল করে দেয়।

বার্তা প্রেরক –

(নিরন চাকমা)

UPDF
প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগ
ইউপিডিএফ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment