প্যারিসে আজ বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ; কার্যকর চুক্তির অপেক্ষায় বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক –

cop

ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপত্তা শংকার মধ্যেই আজ থেকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। ১২ দিনের এ সম্মেলন উপলক্ষে রোববার থেকেই প্যারিসে জড়ো হতে শুরু করেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ।

গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ঠেকাতে ১৪৭টিরও বেশি দেশ কার্যকর একটি চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করবে এ সম্মেলনে। আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলনকে ‘কপ-২১’ বলা হয়ে থাকে। সম্মেলনকে ঘিরে পুরো প্যারিস মুড়ে দেয়া হয়েছে নিরাপত্তা বলয়ে। আগ্নেয়াস্ত্র হাতে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন নিরাপত্তা কর্মীরা। জাতিসংঘ চেষ্টা করছে এ সম্মেলনের মাধ্যমে সব দেশকে নিয়ে একটা কার্যকর চুক্তি করতে। যাতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা শিল্প বিপ্লব-পূর্ব মাত্রা থেকে দুই ডিগ্রির মধ্যে থাকে। বিজ্ঞানীদের সতর্কতা অনুযায়ী, বৈশ্বিক তাপমাত্রা এর চেয়ে বেশি হলে পৃথিবীতে বিপর্যয় নেমে আসবে। অতি তাপদাহ, খরা ও বন্যায় বাসের অযোগ্য হবে ধরিত্রী।

প্যারিসের লি বার্গেটে অনুষ্ঠিতব্য এ সম্মেলন ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় দেশ এ চুক্তির বিরোধিতা করলেও জাতিসংঘ চায়, পূর্ণ না হলেও আংশিক আইনগত বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনসহ আরও অনেক রাস্ট্রপ্রধান এতে যোগ দেবেন। প্রায় প্রত্যেক দেশের সরকারি প্রতিনিধি, বেসরকারি সংস্থা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার-পরিবেশ কর্মীসহ ৪০ হাজার ব্যক্তি এখানে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলনে তিন হাজার সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে প্যারিস শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফলাফলের দাবিতে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ এ পদযাত্রায় শামিল হয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, জাপান, নিউজিল্যান্ড ও ফিলিপাইনে অনুষ্ঠিত এসব পদযাত্রা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এবার ফ্রান্সে সন্ত্রাসী হামলার জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থার কারণে রাস্তায় নামতে পারছেন না পরিবেশবাদীরা। বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করা দেশটির বেশ কয়েকজন কর্মীকেই গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থার মধ্যে যে কোনো সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণে অন্যরাও সম্মেলন স্থলের আশপাশে জড়ো হতে পারছেন না। এ অবস্থার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, পরিবেশ নিয়ে কাজ করা ফ্রান্সের গ্রিন গ্রুপ নামে সংগঠন। তারা একে সরকারের ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করেছে। তবে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নাড ক্যাজিনিউভ বলেছেন, ‘পরিবেশবাদীরা সহিংস বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে। তাই তাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হচ্ছে না। আমরা ২৪ জন পরিবেশবাদী কর্মীকে গৃহবন্দী করে রেখেছি। কারণ তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও সহিংস বিক্ষোভের অভিযোগ আছে। তাদের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থার প্রতি তাদের কোনো সম্মান নেই।’

উল্লেখ্য, বর্তমান বিশ্বের জলবায়ু সমস্যার মূলে রয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মতো ক্ষতিকর গ্রিন হাউস গ্যাস যা আবহাওয়া মণ্ডলের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা, বাড়ছে খরা-ঝড়-বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment