পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন -এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

 

CHTCসংগৃহীত ফাইল ছবি

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি


পার্বত্য চুক্তি  স্বাক্ষরের ১৮ বছর পরেও এর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গভীরভাবে উদ্বিগ্নঅবিলম্বে পার্বত্য  চট্টগ্রাম চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান


ঢাকা: ডিসেম্বর, ২০১৫ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের আঠারো বছর অতিবাহিত হলেও চুক্তিটি এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। চুক্তির উল্লেখযোগ্য অবাস্তবায়িত মৌলিক বিষয়, যেমন – পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইনে সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করা ও কমিশনকে অকার্যকর করে রাখা, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন ও তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন কার্যকর না করা, আইন শৃঙ্খলা, ভূমি ও ভূমি ব্যবস্থাপনা, বন, পরিবেশ, স্থানীয় পুলিশ নিয়োগ ইত্যাদি বিষয় পার্বত্য জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর না করা, ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী ও আভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের স্ব-স্ব জায়গা জমিতে পুনর্বাসনে ব্যর্থতা, পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে সকল অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার না করা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকার কর্তৃক রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার জন্য জনবসতি পূর্ণ এলাকা অধিগ্রহণ করা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা পাহাড়ে বেপরোয়া ভূমি দখল করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তিতে ব্যর্থতা:

পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন, ২০০১ এর বিরোধাত্মক ধারাগুলো সংশোধন করে এ আইনকে কার্যকর করে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৩ সালে এ আইনের ১৩টি বিরোধাত্মক ধারা সংশোধনের বিষয়ে সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জন সংহতি সমিতি একমত হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হল, এ আইনটি সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদে এখনো উত্থাপন করা হয়নি। তাই পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন জাতীয় সংসদের আসন্ন অধিবেশনে এ আইনটি উত্থাপন করে পাস করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছে।

 

স্বরাষ্ট্র গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের জারিকৃঅগণতান্ত্রিক অসাংবিধানিক পরিপত্র বাতিলের দাবি:

১৬  আগস্ট  ২০১৫  তারিখে  গৃহায়ন  ও  গণপূর্ত  মন্ত্রণালয়ের  প্রশাসন-৩  অধিশাখা হতে  এক স্মারকের (স্মারক – ২৫.০১৫.০০১.০২.০০.০১৩.২০০৫ – ১৩১৩,  তারিখ:  ১৬  আগস্ট  ২০১৫  খ্রিঃ) মাধ্যমে  যেসব  অনুষ্ঠানে  ‘আদিবাসী’  শব্দ ব্যবহার করা হয়ে থাকে সেসব অনুষ্ঠানে জাতীয় অবকাঠামো [জাতীয় শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয়  জাদুঘর,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  টিএসসি  চত্বর,  ইঞ্জিনিয়ারর্স  ইনস্টিটিউটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা] ব্যবহার  বা  ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ২২ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে (স্মারক -৪৪.০০.০০০০.০৯.১১.০০১…১৩ – ১৫, তারিখঃ ২২/০১/২০১৫ খ্রিঃ) পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের প্রতি অনুরূপ বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক সরকারি নির্দেশনা জারী করা হয়েছিল। উক্ত নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশী নাগরিকদের ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি, সকল দেশী-বিদেশী ব্যক্তি ও সংস্থাসমূহ সেখানকার পাহাড়িদের সাথে কথা বলা বা সভা করতে গেলে স্থানীয় প্রশাসন বা নিরাপত্তাবাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করে কথা বলাসহ বিভিন্ন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছিল। এসব অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক সরকারি নিদের্শনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সেইসাথে এসব নির্দেশনাকে অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে এসব পরিপত্র বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।

 

সাম্প্রদায়িক হামলাসহ অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে, অতীতে পাহাড়িদের ওপর যেসব সাম্প্রদায়িক হামলা সংঘটিত হয়েছে সেগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার না হওয়ায় বারবার পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা সংঘটিত হয়ে থাকে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে রাঙ্গামাটিতে নতুন মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশের ওপর হামলায় কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়। ৪ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে পাহাড়িদের গ্রামে সেটেলার বাঙালিরা হামলা চালালে কমপক্ষে ৪ জন আহত হয়। এছাড়া গত ১৪ নভেম্বর বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নের ছোট মাল্যার দিগোর মুখ নামক স্থানে রাঙ্গামাটিগামী লঞ্চে সেটেলার বাঙালিরা বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়ে নারীসহ কমপক্ষে ৫ জনকে আহত করেছে। গত ২৯ নভেম্বর খাগড়াছড়িতে জাতিসংঘ ঘোষিত “ফিলিস্তিন সংহতি দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ থেকে হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিরূপা চাকমা ও সদস্য দ্বিতীয়া চাকমাকে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক অপারেশন পরিচালনা ও ধরপাকড়ের ফলে অনেক সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন এসব ঢালাও ধরপাকড় ও গ্রেপ্তার বন্ধ এবং সাম্প্রতিককালে সংঘটিত হামলার ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছে। পার্বত্য চুক্তি ̄স্বাক্ষরের আঠার বছরপূর্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন পার্বত্য চুক্তি পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে, বিশেষ করে পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সমস্যা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করে সেখানে স্থিতিশীল পরিবেশ ও স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছে।

ধন্যবাদসহ,

(স্বাক্ষরিত)            (স্বাক্ষরিত)                (স্বাক্ষরিত)

এরিক এভিব্যুরি   সুলতানা কামাল এলসা     স্টামাতৌপৌলো

কো চেয়ার             কো চেয়ার                কো চেয়ার

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment