সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ অঙ্গীকার

ডেস্ক রিপোর্ট –

Tiger

সুন্দরবনের সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশ এবং ভারত একসাথে কাজ করবে। প্যারিসে গতকাল বুধবার বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং ভারতের পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকারের বৈঠকে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনের পাশাপাশি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কপ-২১ সম্মেলন কেন্দ্রে ভারতীয় প্যাভিলিয়নে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন এবং ভারতের কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী প্রকাশ জাবেদকার এক সুরে বাঘ রক্ষার যৌথ ঘোষণা দেন।

দুই মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে বাংলাদেশ এবং ভারতের সমস্যাগুলো অভিন্ন। এটি মোকাবিলায় দু’দেশকে একসাথে কাজ করতে হবে। নানা কারণে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সুন্দরবনের পরিবেশ বিপন্ন হবার পথে। এটিকে রক্ষা করতে হলে দু’দেশের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। ভারতের পরিবেশ মন্ত্রী জানান, সুন্দরবন রক্ষার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর সাথে আলোচনা করবেন।
সভায় ভারতের পরিবেশমন্ত্রী জাবেদকার বলেন, ‘সুন্দরবন ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশেই রয়েছে। মানুষের মতো বনেও সীমানা রয়েছে, কিন্তু বাঘের জন্য কোনো সীমানা বেঁধে দেওয়া নেই। এই বাঘ যাতে দুই দেশেই ভালোমতো বিচরণ করতে পারে, সে জন্য আমরা দুই দেশ একত্রে কাজ করব।’
বৈঠকের পর এক যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সুন্দরবন পৃথিবীর অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল। ঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ বনের আশ-পাশের ৭৫ লাখ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে। পৃথিবীর অন্য যে কোনো অঞ্চল থেকে সুন্দরবনের উপকূলে প্রায় দ্বিগুণ হারে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বসবাসকারীদের দৈনিক গড় আয় আধা মার্কিন ডলার বা ৪০ টাকারও নিচে। আর ভারতীয় অংশে যারা বাস করেন তাদের আয় ৯০ সেন্ট বা ৭২ টাকার মতো। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আয় কমে যাওয়ায় এ অঞ্চলের জনগণ চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাস্তবতার নিরিখে বাংলাদেশ ও ভারত সুন্দরবন রক্ষায় যৌথভাবে কাজ করা শুরু করেছে। বিশেষ করে সুন্দরবনের প্রতিবেশ, বাঘ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দু’দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা কাজ করছে।
সুনামি এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে দু’দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন উল্লেখ করে বৈঠকে বলা হয়, সুন্দরবনের উপকূলে বাস করা তিন কোটি মানুষকে বাঁচাতে তাদের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
বৈঠকে আরো বলা হয়, সুন্দরবন রক্ষায় বাংলাদেশ এবং ভারত যৌথভাবে কাজ করার জন্য কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এগুলো হচ্ছে সুন্দরবন সুরক্ষা, বাঘের সুরক্ষা, মত্স্য সম্পদের সুরক্ষা এবং সুন্দরবন নিয়ে তথ্য আদান-প্রদান। সুন্দরবন রক্ষায় ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া সুন্দরবন রিজিওন কো-অপারেশন ইনিশিয়েটিভ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

সভায় বাংলাদেশের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমরা দুই দেশ সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় যে উদ্যোগ শুরু করেছি, তা অব্যাহত থাকবে। সামনের দিনগুলোতে বাঘ রক্ষায় দুই দেশ আরও নতুন নতুন উদ্যোগ নেবে।’

সভায় দেওয়া বক্তৃতায় বিশ্ব বন্য প্রাণি তহবিলের (ডব্লিউডব্লিউএফ) ভারতীয় প্রতিনিধি অনুরাগ ডানডা বলেন, সুন্দরবন-সংলগ্ন এলাকার ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে, যা দুই দেশেরই দারিদ্র্য সীমার নিচে থাকা জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাপ সুন্দরবনের ওপরে পড়ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হয়েছে। তাই সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় আমাদের বাড়তি মনোযোগ ও উদ্যোগ নিতে হবে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment