বিশ্বে প্রথম ডেঙ্গুর টিকার অনুমোদন দিলো মেক্সিকো

ডেস্ক রিপোর্ট –

Dengue

প্রায় প্রতিবছরই মৌসুম এলে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভুগতে হয় মানুষকে। এ চিত্র যে শুধু আমাদের দেশের তা নয়, পুরো বিশ্বেরই। এমনই এক প্রেক্ষাপটে গত বুধবার বিশ্বের প্রথম ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা অনুমোদন করেছে মেক্সিকো। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবছর পুরো বিশ্বের হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচাবে এই টিকা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লিউএইচও) দেওয়া তথ্য মতে, প্রতি বছর মশাবাহিত এ রোগে প্রায় ৪০ কোটি লোক আক্রান্ত হয়। মারা যায় ২২ হাজার মানুষ। ফরাসি ওষুধ প্রস্তুতকারী কম্পানি সানোফির তৈরি এই টিকার নাম ‘ডেংভ্যাকসিয়া’। এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অন্তত ২০টি দেশকে এই ওষুধের নমুনা পাঠায় তারা। এই দেশগুলোর মধ্যে মেক্সিকোই প্রথম তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ওষুধটি অনুমোদন করল। তবে এর দামের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সানোফির টিকা বিভাগের প্রধান ওলিভিয়ের চারমেইল বলেন, এই টিকা থেকে তাঁদের বছরে শত কোটি ডলারেরও বেশি আয় হবে। তিনি বলেন, ‘জনস্বাস্থ্যের ইতিহাসে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়।’ ডেংভ্যাকসিয়াকে তিনি দশকের সেরা আবিষ্কার হিসেবে অভিহিত করেন।

ডেংভ্যাকসিয়াকে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনা করছে মেক্সিকোর জাতীয় টিকাদান পরিষদ। শুধু মেক্সিকোতেই প্রতি বছর অন্তত আট হাজার মানুষ ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় অন্তত ১০৪ জন। মেক্সিকোর স্বাস্থ্য বিষয়ক নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান মাইকেল আরিয়োলা বলেন, ‘সামনের দিকে এগোনোর প্রথম পদক্ষেপ এটা।’ টিকা আবিষ্কারের গবেষণায় মেক্সিকো জড়িত ছিল বলে তারাই একে প্রথম অনুমোদন দিয়েছে বলে জানান তিনি। ২০০৬ সাল থেকেই এই গবেষণা চলছিল।

১৫টি দেশের ৪০ হাজার লোকের ওপর এই টিকা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯ বছরের ওপরে দুই-তৃতীয়াংশ লোককে ডেংভ্যাকসিয়া সুরক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছে। অসুখটির সবচেয়ে ভয়াবহ দশা ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর থেকেও ৯৩ শতাংশ মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারে এটি। দেখা গেছে, এই টিকা নেওয়ার পর ৮০ শতাংশ মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি।

ডেঙ্গুর কারণে জ্বরসহ পেশী ও গিঁটে গিঁটে ব্যথা হয়। এ রোগের কোনো চিকিৎসা নেই। এ ক্ষেত্রে শিশুদের ঝুঁকি সর্বাধিক। এত দিন পর্যন্ত মনে করা হতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার রোগ এটি। এ পর্যন্ত ৯টি দেশে ডেঙ্গু মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। বিশ্বায়ন, নগরায়ণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বিমানে ভ্রমণ ইত্যাদি কারণে অন্য এলাকাতেও এটি ছড়িয়ে পড়ছে। শতাধিক দেশে ডেঙ্গু জ্বরের দেখা পাওয়া গেছে।

ডাব্লিউএইচও জানিয়েছে, গত ৫০ বছরে ৩০ গুণ বেড়েছে এই জ্বর। বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি জনগোষ্ঠী এ রোগের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। – এএফপি

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment