বুদ্ধিজীবী হত্যা পাকিস্তানিদের অধঃপতিত ঔপনিবেশিকতার ফল

14 12

একেএম শাহনাওয়াজ –

ঔপনিবেশিক শাসন চরিত্রের প্রথম লক্ষণ হল বিদেশী শক্তির অন্য দেশে আধিপত্য বিস্তার। আর এদের অন্যতম লক্ষ্য সে দেশের সম্পদ শোষণ করে নিজ দেশে নিয়ে যাওয়া। এরা জানে একদিন শোষিত মানুষ জেগে উঠবে। প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তখন পাততাড়ি গুটিয়ে পালাতে হবে। সুতরাং ঔপনিবেশিক শাসকরা জেনেবুঝেই ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি রেখে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে। এর সব লক্ষণ ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসকদের মধ্যে ছিল। আবার কখনও সরাসরি উপনিবেশ স্থাপন না করলেও আচরণ ছিল ঔপনিবেশিক চরিত্রের। যেমন এগারো শতকে বাংলায় আসা দক্ষিণ ভারতের সেন ব্রাহ্মণ রাজাদের আধিপত্য বিস্তার। এদেশে স্থায়ী শাসন প্রতিষ্ঠার মানসিকতা ছিল তাদের। তবে দেশবাসীর সঙ্গে আচরণ ছিল বৈরী। অন্যদিকে পাকিস্তানি শাসকদের মধ্যে ছিল আধা ইংরেজ আর আধা সেন মানসিকতা। ইংরেজদের মতো সূক্ষ্ম বুদ্ধি দিয়ে চলতে পারলে হয়তো আরও কিছুদিন পূর্ব পাকিস্তান টিকতে পারত। কিন্তু মোটা বুদ্ধি ও বর্বর মানসিকতার কারণে সে পথে হাঁটতে পারেনি তারা।

ইংরেজরা বুঝেছিল, দীর্ঘ সংগ্রামী ঐতিহ্য রয়েছে ভারতবাসীর। উজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এদেশ। সুতরাং ভারতীয়দের তাঁবেদার বানাতে হলে এদের নিজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ভোলাতে হবে। ভাষা ভোলাতে না পারলে তো তা সম্ভব নয়। কিন্তু তা করতে হবে সূক্ষ্ম বিবেচনায়। সারা পৃথিবীতে উপনিবেশ স্থাপন করার যোগ্যতা রাখতে পেরেছিল ইংরেজ শাসকরা। সূক্ষ্মদর্শী ছিল বলেই তারা তাদের উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রে সফল করতে পেরেছিল। তাই পলাশীর যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারতের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও তারা এ বাস্তবতা ঠিকই অনুভব করেছিল যে, বহু ভাষা ও সংস্কৃতির ভারতবর্ষ এবং দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করা এবং সাহিত্যের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা স্থানীয় ভাষার সঙ্গে নাড়ির সম্পর্ক আছে ভারতবাসীর। তাই শুরুতে নাড়ি ধরে টানলে এর ফল শুভ হবে না। ফলে অপেক্ষা করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এ কারণে চার শতাধিক বছর ধরে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রভাষা ফার্সিতে তারা হাত দিল না। শাসকরা ইংরেজ প্রশাসকদের অনেককে ফার্সি শেখাল, অনেক ফার্সি জানা ভারতীয়কে মুন্সি হিসেবে প্রশাসনে চাকরি দিল এবং অপেক্ষা করল সেদিনের জন্য, যেদিন আধুনিকতা ও প্রগতির স্বার্থে নিজেদের যুক্ত করার জন্য রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ইংরেজিকে স্বাগত জানাবে ভারতীয়রাই। তাই ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতায় এলেও ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় নিয়ে এলো ১৮৩৫ সালে।

একই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানি শাসকদের দিকে দৃষ্টি দিতে পারি। পাকবাহিনীর গণহত্যা ও বাঙালির প্রতি অমানবিক নির্যাতনের একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দৃশ্যমান ছিল। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষকে প্রতারিত করেছে পরিকল্পনামাফিক। ধর্মের দোহাই দিয়ে আবেগে মুহ্যমান করে রাখতে চেয়েছিল মুসলমান বাঙালিকে। মানতে হবে, ক্ষমতাসীন কূটকুশলী পাকিস্তানি নেতৃত্ব এটুকু বুঝেছিল, দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালন করা বাংলার মানুষ অধিকার সচেতন। তাই পরবর্তী বাঙালি প্রজন্ম যাতে আত্মপরিচয়, সাংস্কৃতিক শক্তি এবং ইতিহাস বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, সেই ব্যবস্থাটি নিতে হবে শুরুতেই। এ উদ্দেশ্যে ১৯৪৭-এ পাকিস্তানের জন্মলগ্নেই সবকিছু বাদ দিয়ে ভাষা প্রশ্নে জড়িয়ে পড়েছিল শাসকগোষ্ঠী। তারা বিবেচনা করেছিল, ভাষা যেহেতু সাহিত্য আর সংস্কৃতির বাহন, তাই উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে বাংলা শুধু মুখের ভাষায় আটকে থাকবে। উর্দুচর্চা করে পরবর্তী বাঙালি প্রজন্ম বাংলার ধ্রুপদী সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ইতিহাস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এভাবে তারা নতজানু হয়ে পড়বে পশ্চিম পাকিস্তানি উর্দুভাষী নেতাদের সামনে এবং বাঙালি আজ্ঞাবহ দাসে পরিণত হবে; কিন্তু স্থূল বুদ্ধিতে সূক্ষ্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

স্থূল বুদ্ধির পাকিস্তানি শাসকদের তর সইছিল না। নিজেদের অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বাঙালির দীর্ঘদিনের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সংগ্রামী ঐতিহ্য আমলে না নিয়ে নতুন দেশের জন্মলগ্নেই ভাষা প্রশ্নে জটিল বিতর্ক তৈরি করে ফেলল। বায়ান্নর প্রবল ঝাঁকুনির পরও তাদের বোধোদয় হল না। বাঙালিকে পদদলিত করার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করল। কেড়ে নিতে থাকল তার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার। তাই যে বাঙালি ১৯৪০-এ লাহোর প্রস্তাবের পর অন্তরের আকুতি থেকেই পাকিস্তান আন্দোলনে নেমেছিল, আর তা দেখে বাঙালিদের উদ্দেশে ব্যঙ্গ করে হিন্দু পত্রিকাগুলো লিখেছিল, ‘হাত মে বিড়ি মু মে পান/লড়কে লেঙ্গে পাকিস্তান’, সেই বাঙালিই সময়ের বাস্তবতায় আইয়ুব শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হল। মুসলমান ভাই বলে শাসন করতে আসা পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের ভেতরকার প্রতারকের চেহারাটি ততক্ষণে স্পষ্ট বাঙালির কাছে। অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার বদলে শাসকরা নির্যাতকের কুৎসিত হাত প্রসারিত করল। যে বাঙালি সাধের পাকিস্তান গড়তে অগ্রণী ছিল, মোহভঙ্গের পর তারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তুলল। ১৯৫৪-এর নির্বাচনের পর থেকেই শাসকগোষ্ঠী বুঝেছিল, মুসলিম লীগ দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিরক্ষা ব্যূহ রচনা সম্ভব নয়। পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগ তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। তাই এখন শেষ রক্ষা পেতে হলে অন্ধকার পথে হাঁটতে হবে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা শিক্ষা হয়তো ইংরেজ প্রভুদের কাছ থেকে নিয়েছিল। কারণ ১৯০৫-এ বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার পর থেকেই বাঙালির ব্রিটিশ শাসনবিরোধী মনোভাব শাসক ইংরেজরা স্পষ্ট অনুভব করে। তখন থেকেই তারা ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ অর্থাৎ ‘ভাগ করো শাসন করো’ নীতি প্রয়োগ করতে থাকে। মুসলিম শাসনের দীর্ঘ কালপর্বে হিন্দু-মুসলমান উভয় গোষ্ঠীর সামাজিক সংস্পর্শ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। এদের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে খণ্ডিত করার জন্য এখানেই খড়্গ চালাতে চাইল শাসকগোষ্ঠী। এ কাজে দরকার অন্ধকারের জীব। অর্থ ও ক্ষমতালোভী মোল্লা আর পুরোহিত খুঁজে পেতে দেরি হল না। তাদের কানে কুমন্ত্রণা দেয়া হল মুসলমান কীভাবে হিন্দুর ধর্ম অপমানিত করছে আর হিন্দু কীভাবে কলুষিত করছে মুসলমানের ধর্ম। ভুল ব্যাখ্যায় দুই সম্প্রদায়ের সরল ধার্মিকদের উত্তেজিত করল। লাঠি আর তলোয়ার নিয়ে তারা একে অন্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন ভুলিয়ে এভাবে বাঙালিকে সাম্প্রদায়িক সংঘাতে ব্যস্ত করে তুলতে লাগল। যখন দাঙ্গার আগুন ছড়িয়ে পড়ছিল, তখন ইংরেজ শাসকদের তাঁবেদার স্বার্থলোভী মোল্লা আর পুরোহিতরা ইংরেজ শিবিরে বসে গলাগলি হয়ে চর্ব চোষ্য লেহ্য উদরস্থ করছে- হয়তো এ শ্রেণীচরিত্রটি পছন্দ হয়েছিল পাকিস্তানি শাসকদেরও। তাই মুসলিম লীগ স্বার্থ পূরণের যথেষ্ট যোগ্য নয় বুঝতে পেরে অন্ধকারের জীব খুঁজতে মনোযোগ দিল তারা।

শাসকদের এ বিষয়টি বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, এ দেশের স্বল্প শিক্ষিত আর অশিক্ষিত মুসলমান যথেষ্ট ধর্মপ্রবণ। ধর্মের নামে এ কোমল জায়গাটিকে প্রতারণা করে তাদের বিভ্রান্ত করে ফেলতে হবে। আর এ কাজে মওদুদীবাদের তালিম নেয়া জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে আর যোগ্য কে! ফলে পাকিস্তানি শাসকরা জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামী নামধারী গোষ্ঠীকে কানপড়া দিয়ে মাঠে নামিয়ে দেয়। এ ধারাবাহিকতাতেই জামায়াত আর ইসলামী নামধারী তার সহযোগীরা বাঙালি নিধন, নারী ধর্ষণ ও সম্পদ ধ্বংসে পাকবাহিনীর একান্ত দোসর হয়ে গেল। সবচেয়ে বড় ইসলামবিরোধী কাজগুলো করতে লাগল প্রতারকের মতো ইসলামের দোহাই দিয়ে।

ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে জেনেশুনে মিথ্যাচারের মাধ্যমে এ প্রতারণার ফাঁদ এখনও পেতে চলছে তারা। পাঠক, অনেকেই নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন ২০০৮-এর ডিসেম্বরে পিরোজপুরে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে সমাবেশে বয়ান রেখেছিলেন একাত্তরের রাজাকার বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেই সাত পুরনো সুরেই তিনি বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে টুপি, দাড়ি নিয়ে চলা যাবে না, মাদ্রাসা বন্ধ হবে।’ ধর্মীয় লেবাসে সাঈদী সব জেনেই সাধারণ মুসলমানকে বোকা বানাতে ডাহা মিথ্যা বললেন। তার জোট নেত্রী একই ভাষায় এক সময় বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে মসজিদে উলুধ্বনি হবে।’ কিন্তু বাস্তবে এর কোনো আলামত কেউ দেখেনি। বরং সাঈদী ভালো করেই জানতেন, আওয়ামী সরকারের আমলেই ইসলামী একাডেমিকে ইসলামী ফাউন্ডেশন করা হয়েছিল। সাঈদীদের নিশ্চয়ই না জানার কথা নয়, পাকিস্তান আমলে তাদের গুরু পশ্চিমা সরকার সতর্ক ছিল যাতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ প্রকৃত ইসলাম জানতে না পারে। তাই ইসলামী একাডেমির উদ্যোগে কোরআনের তাফসির প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। যা সম্ভব করেছিলেন বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর ইসলামী ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে। আমি বুঝে পাই না, অগ্রগতির এ যুগেও সাঈদী পিরোজপুরের মানুষদের প্রাগৈতিহাসিক যুগের অজ্ঞ মানুষ ভেবেছিলেন কি-না। তিনি মিথ্যাচার করবেন আর মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো বিশ্বাস করবে এবং তাকে ভোট দেবে- এমন ধারণা তার কী করে হয়েছিল!

মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। একাত্তরে পাকিস্তানি শাসকরা না হয় পূর্ব পাকিস্তানের মাটিটুকু যাতে হাতছাড়া না হয় তাই গণহত্যা, নারী নির্যাতন আর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন, আর তাদের অপকর্মে সহযোগিতা করেছিল জামায়াত ও সমমনা ইসলামী দল পরিচালিত রাজাকার, আলবদর, আলশামসের তরুণ তুর্কিরা। কিন্তু ১৪ ডিসেম্বর আলবদরের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা নয়, শত্র“ ‘হিন্দু’ নয়-শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং এ ধারার নিরীহ বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষগুলোকে বাসা থেকে ধরে এনে হত্যা করা হল কেন? আর হত্যা করা হল এমন এক সময়, যখন পাকিস্তানি জান্তার পরাজয় মেনে নেয়া ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। যেহেতু বুদ্ধিজীবী হত্যা পাকিস্তানি শাসকদের যুদ্ধ জয়ে প্রভাব ফেলবে না, তাই এখানে ‘গাজী’ বা ‘শহীদ’ হওয়ার কোনো গৌরব নেই। যুদ্ধাবস্থায় প্রতিপক্ষকে হত্যা করায় পাপ নেই বলারও সুযোগ নেই। পরাজয় মেনে আÍসমর্পণের পূর্বক্ষণে ঠাণ্ডা মাথায় পরিকল্পনামাফিক সহস্রাধিক বাঙালি বুদ্ধিজীবীকে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত আলবদর বাহিনীর সদস্যরা খুন করল। যে খুনে-বাহিনীর নেতারা দুর্বৃত্ত রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় আবার এ দেশের মাটিতে রাজনীতি করছেন, মন্ত্রীও হয়েছিলেন। বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী আলবদর বাহিনী তথা জামায়াত যে এ দেশকে কখনও ভালোবাসেনি, বুদ্ধিজীবী হত্যার মধ্য দিয়ে তারা এর প্রমাণ রেখেছে। কারণ তারা বুঝতে পেরেছিল, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই নতুন দেশটি গড়ে তুলতে, এর সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে প্রধান চালিকাশক্তি হবে বুদ্ধিজীবী সমাজ। কাজেই স্বাধীনতা পেলেও বাঙালি যাতে পঙ্গু হয়ে যায়, এ কারণে বেছে বেছে বুদ্ধিজীবীদের মেরে ফেলতে হবে। আর ওই ভয়ংকর হত্যাকারীরা এমন পৈশাচিক উদ্দেশ্যই বাস্তবায়ন করল ১৪ ডিসেম্বর।

বিএনপিকে কলংকিত করে তাদের ঘাড়ে বসে জামায়াত আর তাদের আলবদর কমান্ডাররা পেশিশক্তি বাড়িয়েছে অনেক। কর্মদোষে এদের আশ্রয়দাতাসহ মানবতাবিরোধী জামায়াত নেতা ও তাদের দল এখন অনেকটা কোণঠাসা। এদের জানা উচিত ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবছরই ফিরে আসবে। যতই বিকৃত করা হোক, ইতিহাস তার স্বয়ংক্রিয় পথে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত তথ্য বর্তমান ও অনাগত প্রজন্মের সামনে উপস্থাপন করবেই। গণহত্যার দোসর আর বুদ্ধিজীবী হত্যার নায়করা কারও আশ্রয়েই শেষ পর্যন্ত নিজেদের রক্ষা করতে পারবে না। জঙ্গিবাদ উসকে দিয়ে নয়- শুধু অপরাধ স্বীকার করে জাতির কাছে করজোরে ক্ষমা ভিক্ষার মধ্য দিয়ে যদি কিছুটা পাপ স্খলন করা যায়, এটুকুকেই প্রাপ্তি মানতে হবে। এ বাস্তব বোধোদয় কি এদের হবে? – যুগান্তর

ড. একেএম শাহনাওয়াজ : অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment