ঐতিহ্যের পথ ধরে ৬৩ বছরে ‘দৈনিক ইত্তেফাক’

Ittefaq

দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসায় ৬৩ বছরে পা দিলো ‘দৈনিক ইত্তেফাক’। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন।
এ উপলক্ষে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান কার্যালয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় সমুজ্জ্বল ইত্তেফাক। আজও মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয় পত্রিকাটি।’ তিনি বলেন, ‘নারীর ক্ষমতায়নের যুগে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকও একজন নারী। এটা সত্যিই গৌরবের।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ইত্তেফাক দেশের প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ বির্নিমানে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দীর্ঘসময় পরেও পত্রিকাটি তাদের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এটা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে পত্রিকাটি। ঐতিহ্যবাহী এ সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভলগ্নে বাংলাদেশের জনগনের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা, প্রীতি ও শুভেচ্ছা।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দৈনিক ইত্তেফাক গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে কাজ করছে। দেশবাসীর অকুণ্ঠ সমর্থন, সীমাহীন ভালোবাসাই ছিল দৈনিক ইত্তেফাকের সুদীর্ঘ পথচলার একমাত্র শক্তি ও সাহস।
সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সময়ের দাবি মেটানো। সেই দিক থেকে দৈনিক ইত্তেফাক তার প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই সময়ের দাবি মিটিয়ে এসেছে। সহজ করে বললে, মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে এসেছে। বিজয়ের ৪৫ বছর পর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার স্বপ্ন-লালিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নিজেকে উত্সর্গ করেছিল দৈনিক ইত্তেফাক। সেই পথ ছিল অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু সত্ সাংবাদিকতা ছিল সেই কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার মন্ত্র। সৎ সাংবাদিকতার সেই মন্ত্র ইত্তেফাক আজো হৃদয়ে ধারণ করে চলেছে।
দৈনিক ইত্তেফাক গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নির্ভীক সাংবাদিক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকে। তাঁদের সীমাহীন প্রেরণা, ভালোবাসা ও ত্যাগের বিনিময়ে দৈনিক ইত্তেফাক এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসার শক্তি পেয়েছে।
মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মানিক মিয়া ও দৈনিক ইত্তেফাক এই ত্রয়ী এক হয়ে বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য এক উচ্চতায়। তারই পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যূদয়।

মুক্তিযুদ্ধের পরে নতুন বাস্তবতায় দৈনিক ইত্তেফাক নতুন আঙ্গিকে প্রকাশিত হচ্ছে। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ইত্তেফাক জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হয়েছে। দেশ গড়ার নতুন সংগ্রামে নেমেছে। রাজনৈতিক মুখপত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে  তাদের সাংবাদিকতা অগ্রসর হচ্ছে এখন। সময়ের দাবি মেটাতে কাজ করে চলেছে ইত্তেফাক।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment