দলীয় প্রার্থী পরাজয়ের জের – খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগে বিভাজন

খাগড়াছড়ি রিপোর্ট –

Khagra

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে বিভাজন তৈরী হয়েছে। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় গতকাল শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার আদেশে দলীয় কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনকারীরা।

এর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবন্দ। তারা অগণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে অবস্থান ধর্মঘটের পাশাপাশি কালো ব্যাজ ধারণ, প্রতিবাদ সভা ও অবস্থান ধর্মঘট করে।

অবস্থান ধর্মঘট চলাকালে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম শফির সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ৬ নং ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর মো: আনোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জহির উদ্দিন ফিরোজ।

এসময় বক্তারা বলেন, দলীয় কার্যালয় কারো ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান নয় যে ইচ্ছে হলে যখন তখন তালা লাগিয়ে দিবে। সংসদ সদস্য নির্বাচন করেছি আমরা। পৌর নির্বাচনে অযোগ্য প্রার্থীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়ায় আমরা কাজ করিনি। সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছে অনুসারে মেয়র প্রার্থী দিয়েছিলেন। আর এখন হেরে গিয়ে দলীয় কার্যালয়ে এসে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। যা রাজনৈতিক পরিপন্থী ও অগণতান্ত্রিক। আগামীকাল রোববার ৩ জানুয়ারি যদি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দেয়া না হয়, তাহলে অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন জেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করলে তিনি তালা লাগানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রার্থীর বিপক্ষে যারা কাজ করবে কেন্দ্রীয় নির্দেশে তারা বহিস্কার বলে বিবেচিত হবে, এখানে আমার ও জেলা কমিটির কোন হাত নেই। গত এক মাসে নির্বাচন নিয়ে দলের নেতাকর্মীরা ক্লান্ত। তাই অফিস বন্ধ।

প্রসঙ্গত, খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হয় মো: শানে আলমকে, যার কোন রাজনৈতিক পদপদবী নেই। নির্বাচনে এমন প্রার্থী দেয়ায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো: জাহেদুল আলমের ছোট ভাই ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো: রফিকুল আলমের পক্ষে কাজ করে। নির্বাচনে বিপুল ভোটে এই স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীই জয়ী হন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment