রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি সীমান্তে সড়ক তৈরিতে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন

॥ সিএইচটি-অবজারভার ডেক্স ॥

Boarder

রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি-সিলেট পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমান্ত জুড়ে ১৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা তৈরি হবে। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর এই রাস্তা তৈরির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা এই রাস্তা তৈরি করবেন। ১৯ ইসিবির সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল হিসাবে ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি জেলার সাজেকের কংলাক পাহাড়ের আগে পর্যন্ত পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। এখন ওই রাস্তা ধরেই সীমান্তে পাহাড়ের উপর দিয়েই ১৪০ কিলোমিটার রাস্তা তৈরি হলে সিলেট সীমান্তে গিয়ে এই রাস্তা সংযোগ সড়কের সঙ্গে মিলিত হবে। এটি হয়ে গেলে বর্তমানে ওই ১৪০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে একদিকে যেমন জনসাধারণের চলাচল শুরু হবে, তেমনি সেখানে কিছু বসতিও গড়ে উঠবে।

ওই এলাকায় রাস্তা তৈরি করা হলে ওই এলাকার মানুষের অর্থনৈতিক জীবনেও কিছুটা পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে সাজেকেই বিজিবির বিওপি রয়েছে। ১৪০ কিলোমিটারের মধ্যে বর্তমানে আর কোন বিওপি নেই। এই কারণে সীমান্ত এলাকাটি অনেকটাই অরক্ষিত। কোন ঘটনা ঘটলে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি থেকে বিজিবির সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই রাস্তাটি তৈরি হলে এর পাশে সেখানে একাধিক বিওপি তৈরি করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সাজেক-সহ এর আশে পাশে যারা বসবাস করছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী তাদের অনেকেই ভারতের ওই পাড়ে যাওয়া আসা করছেন। তারা মিজোরামের ওই দিকে চলে যান। লুসাই পাহাড়ের ভারতীয় অংশকেও নিজের দেশ বলেই মনে করেন। সাজেকে পাহাড়ের উপরে ৩৫টি নৃ-গোষ্ঠী পরিবার বসবাস করে। সেখানে সরকার তাদের জন্য প্রাথমিক স্কুল ও মাধ্যমিক স্কুল করা হয়েছে, যদিও সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। তারপরও সেখানে কিছু ছাত্রছাত্রী পড়ছে। সাজেকে বসবাস করা বেশ কয়েকটি পরিবারের ছেলে, মেয়েরা ভারতের মিজোরামে তাদের ছেলে মেয়েদের রেখে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাদের একজন বলেন, আমার বাবা মা থাকে ভারতের ওই পাড়ে। আমরা এই পাড়ে। এই কারণে আমাদের সন্তানরা ওই দেশে লেখাপড়া করে। এখান থেকে যে টাকা আয় হয় তার পুরোটাই ভারতে পাঠিয়ে দেই। তারা কিভাবে সীমান্ত পার হন জানতে চাইলে বলেন, হেঁটে হেঁটে পার হই। সকালে রওয়ানা দেই, সারাদিন লাগে। এরপর সন্ধ্যায় সীমান্ত পার হই। এই জন্য আমাদের কোন ভিসা লাগে না। লাগে না কোন পাসও। ওই ব্যক্তি আরো বলেন, এই দেশ ওই দেশ দুইটাই আমার। এখানে কোন ভাগ নাই। সব লুসাই পাহাড় আমাদের।

সূত্র জানায়, সাজেকে বসাবসরত ওই ১৪০ কিলোমিটার সীমান্তে যেসব আদিবাসী আছে তারা অনেকেই এমনটাই মনে করেন। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই সীমান্তের সকল এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিজিবি বিওপি স্থাপন করতে পারেনি। দুর্গম এলাকা, সেখানে যাওয়া কঠিন। শুধু সাজেকে বিজিবির বিওপি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, সীমান্ত এলাকা বলে সেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা যেতে পারে না। বিজিবি কাজ করে। আর রয়েছে আনসারের কয়েকজন সদস্য।  খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি জেলার ভেতরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছে। সেখানে দিনের বেলায়ও বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ও এলাকাগুলোতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেয়। দিনের বেলাতে বিভিন্ন সময় ধরে তারা অস্ত্র হাতে পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছে। এছাড়াও গাড়ির টহলও রয়েছে। তবে সীমান্তে বিজিবি রয়েছে। রাতের টহলও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ১৪০ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা নির্মাণ করা হবে। পাহাড়ের উপর দিয়ে এই রাস্তা তৈরি করা কিছুটা কস্টসাধ্য। ইট, বালি, সিমেন্ট এগুলো পাহাড়ের উপড়ে ওঠানো ব্যয় সাধ্য। পরিবহন ব্যয় বেশি পড়ে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি থেকে সরাসরি সাজেক পর্যন্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। বাকিটাও কাজও শিগগরিই শুরু করা হবে। পরিকল্পনা ছিল যাতে সীমান্ত এলাকা ধরে রাস্তা তৈরি করা যায়। এখন সেটাই করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেওয়াতে সুবিধা হয়েছে। এখানে রাস্তা ঘাট হলে এখন ওই এলাকার মানুষের মধ্যে যে মনোভাব রয়েছে সেটাতে পরিবর্তন হবে। যারা এখনও ভারতকে নিজের দেশ মনে করে তারা এই দেশকে নিজের দেশ মনে করবে। এখন ছেলে মেয়েদের ভারতে পড়ায় তখন আর সেটা পড়াবে না। সেখানকার বাচ্চাদের জন্য দীঘিনালাতে একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল তৈরি করা হয়েছে। আস্তে আস্তে সেখানে স্টুডেন্ট বাড়বে। এছাড়াও ওই এলাকার মানুষের উন্নয়ন ও তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনার জন্য সরকার সব উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার উপর সরকার বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment