রাঙ্গামাটির কাউখালীতে অজ্ঞাত যুবতীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার

কাউখালী রিপোর্ট –

Dead

রাঙ্গামাটির কাউখালীতে হতভাগা এক অজ্ঞাত যুবতীর ক্ষত বিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সন্ধ্যায় কাউখালী-সুগারমিল সড়কের কলমপতি ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকা থেকে এ লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবতীর গায়ে সেলোয়ার কামিজ ও বোরকা পড়া ছিল। হতভাগা যুবতীর বয়স আনুমানিক ২৫/২৬ বছর হবে বলে ধারণা করছে পুলিশ। কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন এ ব্যাপারে কাউখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। রাত সাড়ে আটটায় লাশ উদ্ধার করে কাউখালী থানায় নিয়ে আসা হয়। আগামীকাল সকালে পোর্ষ্টমর্টেমের জন্য রাঙ্গামাটির মর্গে প্রেরণ করা হবে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কলমপতি ইউপির ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাচিং মারমার বরাত দিয়ে সোমবার বিকেলে তারাবুনিয়া এলাকার জনৈক কৃষক কাউখালী-সুগারমিল সড়কের তারাবুনিয়ার শেষ সীমানার রাস্তার পাশের জঙ্গলে গরু খুজতে যায়। এসময় প্রধান সড়ক থেকে থেকে অন্তত বিশ ফুট দূরে ছড়ার মধ্যে বোরকা পড়া নারীর লাশ দেখতে পায়। এসময় ঐ কৃষক এলাকাবাসীকে খবর দেয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানালে খবর পেয়ে কাউখালী থানার এস.আই যোযৎসু যজ চাকমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল গিয়ে নিহত যুবতীর লাশ উদ্ধার করে রাতে কাউখালী থানায় নিয়ে আসে।

কাউখালী থানার এস,আই যোযৎসু যজ চাকমা জানান, অজ্ঞাত ঐ যুবতীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য মহিলার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়েছে। কেটে ফেলা হয়েছে স্তন ও মুখের মাংসপিণ্ড। লাশ ফুলে ও পঁচন ধরায় সনাক্ত করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এছাড়া লাশ যাতে সনাক্ত করা না যায় তার জন্য মুখমণ্ডলের মাংস কেটে নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো জানান, হতভাগা মহিলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং এ হত্যাকাণ্ড দু’থেকে তিনদিন পূর্বে হয়ে থাকতে পারে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, নিহত তরুনী স্থানীয় কেউ নয়। পুলিশের ধারণা ঐ যুবতীকে কাউখালীর বাইরে থেকে প্রতিহিংসা বশতঃ বেড়ানোর কথা বলে নির্জন স্থানে এনে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ২০০৮ সালের ১৮ মে একই স্থানে সুনিল কান্তি দে নামের ৬০ বছরের এক সিএনজি চালককে ছিনতাই করে জবাই করা হয়েছিল। জনশ্রুতি আছে সুগারমিল, নাইল্যাছড়ি ও পার্শ্ববর্তী রাঙ্গুনীয়ার পশ্চিম বগাবিল এলাকায় সন্দীপ, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার জনসাধারণের বসবাস থাকায় উক্ত এলাকার দাগী অপরাধীরা বিভিন্ন সময় এসব এলাকায় আত্মীয়তার পরিচয়ে এসে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত করে চলে যায়।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment