৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার

ডেস্ক রিপোর্ট –

WTC

ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নগরীতে যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম। বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদে এটি নির্মাণ করেছে চট্টগ্রাম চেম্বার। চট্টগ্রাম চেম্বারের অর্থায়নে ২৪ তলাবিশিষ্ট এই ভবন নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩০ জানুয়ারি দেশের প্রথম ও একমাত্র এই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার উদ্বোধন করবেন। এর মাধ্যমে বিশ্বের ৩২৭টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হচ্ছে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম। একই ছাদের নিচে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পাদনের জন্য ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের জুড়ি নেই। পাশের দেশ ভারতে ১৪টি ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার রয়েছে, পাকিস্তানে রয়েছে তিনটি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ওইদিন চট্টগ্রাম চেম্বারের শত বর্ষপূর্তি উত্সবেরও উদ্বোধন করবেন। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন শত বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। তাই শুধু চট্টগ্রাম নয়, বিশ্ববাসীর কাছে এই দুই অর্জন স্মরণীয় করে রাখতে পাঁচদিনের জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য এম এ লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চেম্বারের শতবর্ষ উদযাপন এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের শুভযাত্রা স্মরণীয় করে রাখতে পাঁচ দিনব্যাপী জমকালো ও ব্যতিক্রমী কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশ্বের স্বনামধন্য চেম্বার ও শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করে অনুষ্ঠানসূচি সাজানো হচ্ছে।’

তিনি জানান, কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের পর্যটন খাতের অমিত সম্ভাবনা সরেজমিনে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে বিদেশি ব্যবসায়ীদের সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে রাঙ্গামাটির মনোরম হ্রদে। ভ্রমণের পাশাপাশি সেখানে দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম কনভেনশনে চট্টগ্রামের সৌন্দর্য তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে হেলিকপ্টারে বিদেশিদের বান্দরবান, কক্সবাজার ও সুন্দরবনের অপরূপ দৃশ্য দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এম এ লতিফ আরো বলেন ‘এছাড়া দেশি-বিদেশি অতিথিদের নিয়ে একটি বিজনেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে চট্টগ্রামসহ পুরো বাংলাদেশের নানা সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে একটি ইয়ুথ কনফারেন্স। এতে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। আরো থাকছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও রোডশো। যেখানে চট্টগ্রামের শত বছরের ইতিহাস, বর্তমান চিত্র এবং ভবিষ্যত সম্ভাবনা স্থান পাবে। থাকবে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে বিদেশি নাবিক ও ব্যবসায়ীদের চট্টগ্রাম আগমনের চিত্র। প্রকাশিত হবে একটি স্মারকগ্রন্থও।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, দু’বছর আগেই দেশের প্রথম ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ স্থিতিশীল না থাকায় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি পাওয়ার পর গত ২ জানুয়ারি চট্টগ্রাম চেম্বার নেতৃত্ব জরুরি বৈঠকে বসে ৩০ জানুয়ারি উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘কোনো ধরনের ব্যাংক ঋণ ছাড়াই প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার নির্মাণ করে আমরা প্রমাণ করেছি আন্তরিকতা থাকলে ভালো কিছু করা সম্ভব। এটি হবে দেশের গর্ব, যা বেসরকারি উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।’

জানা যায়, এই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উচ্চতা প্রায় ৯১ মিটার বা ২৯৮ ফুট। যেটি দেশের একমাত্র বাণিজ্যিক কেন্দ্র। বর্তমানে এটি চট্টগ্রাম নগরীর সর্বোচ্চ ভবনও। তিনটি বেসমেন্ট ও ২১ তলা বিশিষ্ট ভবন। নীচতলায় ব্যাংক ও অস্থায়ী এক্সিবিশন হল। দ্বিতীয় তলায় ব্যাংক, শপিংমল ও ফুডকোর্ট এবং তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় অফিসপাড়া, চতুর্থ তলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী এক্সিবিশন হল, পঞ্চম তলায় আইটি জোন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইনস্টিটিউট, সভাকক্ষ ও মিডিয়া সেন্টার, অষ্টম তলায় হেলথক্লাব, ব্যাংকুইট হল ও স্নুকার রুম, নবম তলায় টেনিস কোর্ট, সুইমিংপুল ও কনফারেন্স রুম এবং ১০ থেকে ২০ তলা পর্যন্ত থাকছে পাঁচ তারকা হোটেল আর ২১ তলায় হেলিপ্যাড সুবিধা। পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত চেইন হোটেল গ্রান্ড হায়াতের সঙ্গে চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার কর্তৃপক্ষ।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment