বনরূপাস্থ ফারুক মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করছেন মালিক কর্তৃপক্ষ

স্টাফ রিপোর্ট –

Banarupa

রাঙ্গামাটির বনরূপা এলাকার ফারুক মার্কেটের মালিক কর্তৃপক্ষ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের পাঁয়তারা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। ৩ জানুয়ারি দোকানঘর সংস্কারের নামে ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদের ঘটনা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। মার্কেটের মালিক দীর্ঘ সময় ধরে কোন ধরনের সংস্কার ও চুক্তিপত্র ছাড়াই ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিশাল অংকের সেলামী ও ভাড়া নিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তারা। ব্যবসায়ীরা জানান, মালিক পক্ষ অন্য কারো ইন্ধনে হঠাৎ করে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে দিয়ে ব্যবসায়ীদের লক্ষ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন করেছেন।

এরই মাঝে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আরো বেশী ভাড়া আদায়ের লক্ষ্যে এবং বর্তমান ব্যবসায়ীদেরকে অন্যায়ভাবে তাড়িয়ে দিয়ে অন্য ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেয়ার পায়তারা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলনে নামে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: আবু সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ রনজিত ধর সেখানে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আন্দোলন বন্ধ করে দেন।

খবরটি জানাজানি হলে বৃহত্তর বনরূপা ব্যবসায়ী সমিতি এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: আবু সাঈদ, কোষাধ্যক্ষ রনজিত ধর বিষয়টি কোতয়ালী থানাকে অবহিত করলে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আব্দুর রশিদ বিষয়টি সমাধানের জন্য ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ফারুক মার্কেটের মালিক শাহনেওয়াজ চৌধুরী ফারুক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে, মালিক পক্ষ প্রত্যেক ব্যবসায়ীকে তাদের প্রয়োজনীয় চুক্তি পত্র দেয়ার পর দোকান ঘরের সংস্কার করতে পারবেন।

এই বিষয়ে ফারুক মার্কেটের মালিক শাহনেওয়াজ চৌধুরী ফারুকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এই মার্কেটে অনেক বছর ধরে ভাসমান ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে আসছে। আমাকে নাম মাত্র ভাড়া দিয়ে তারা দীর্ঘদিন তাদের রুটি রোজগার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থাতে ব্যবসায়িক কথা চিন্তা করে আমি এই মার্কেটটি সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়েছি। এছাড়া যারা ভাসমান ব্যবসায়ী আছে তারা অনেকেই আমাকে নাম মাত্র অগ্রিম টাকা দিয়ে এবং মাসিক নাম মাত্র ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। তাই আমি দীর্ঘদিনের পুরানো এই মার্কেটটিকে সংস্কার করে বর্তমান বাজার মূল্যে ভাড়া ধার্য করার সিদ্ধান্ত নিলে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী আমার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। তিনি বলেন গত ৩ তারিখ আমি কোন বিদ্যুৎ লাইন অফ করে দেয়নি। সামনের একটি দোকান আমি ৫ লক্ষ টাকা অগ্রিম ও মাসিক ১৫ হাজার টাকা ভাড়া ধার্য করে দোকানের সংস্কার করতে কিছুক্ষণের জন্য বিদ্যুতের লাইন অফ ছিলো, তাই গুটি কয়েক ব্যবসায়ী ক্ষুব্ধ হয়ে এই সমস্যাকে বড় করে তুলে। পরে কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করলে কোতয়ালী থানার মাধ্যমে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে পূর্বের ভাড়া এবং বর্তমানে কত দিতে পারবে সেই বিষয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ ২০ বৎসর যাবত কোন ব্যবসায়ীকে কোন প্রকার চুক্তিপত্র ছাড়াই বিশাল অংকের সেলামী গ্রহণ করে দৈনিক ও মাসিক ভাড়া নিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে কাগজপত্রের কথা উল্লেখ করলেও মালিক পক্ষ কোন প্রকার কাগজ-পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কোন প্রকার কাগজপত্র লাগবে না বলে ব্যবসায়ীদরেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment