শীঘ্রই ঘোষিত হতে যাচ্ছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি : বদলে যাচ্ছে বান্দরবান ছাত্রলীগ

বান্দরবান রিপোর্ট –

BB

সুষ্ঠু ও প্রগতিশীল ধারার ছাত্র রাজনীতি চর্চার মধ্য দিয়ে বদলে যাচ্ছে বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগ। এর অংশ হিসেবে শীঘ্রই ঘোষিত হতে যাচ্ছে জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি। ঘোষিত হতে যাওয়া কমিটিতে স্থান পাচ্ছে না অছাত্র, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমি জবর-দখলকারী, সন্ত্রাসী, সাম্প্রদায়িক, সংগঠনের সুনাম নষ্টকারী ও বহিষ্কৃতরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ছাত্র সংগঠনটির নীতি নির্ধারক নেতৃবৃন্দ।

সংগঠনটির সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন পেলেই বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি চলতি মাসেই ঘোষিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাউছার সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জনি সুশীল জানান, পূর্ণাঙ্গ কমিটি কখন ঘোষণা করা হবে সে তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। তবে খুব শীঘ্রই জেলা ছাত্রলীগের ১২১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে।

তারা জানান, এবারের কমিটিতে অছাত্র, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু, সাম্প্রদায়িক, সংগঠনের সুনাম নষ্টকারী ও বহিস্কৃতদের স্থান দেয়া হবে না। জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাউছার সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জনি সুশীল আরো জানান, রোয়াংছড়ি ছাড়া সব উপজেলা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় শীঘ্রই কমিটি গঠন করা হবে। জেলা সদর ও লামায় কলেজ, শহরসহ যেসব জায়গায় আহবায়ক কমিটি রয়েছে, এসব কমিটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে কাজ চলছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, বান্দরবান সিনিয়র মাদ্রাসা এবং সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়ন, থানছি উপজেলা রেমাক্রী ইউনিয়ন, বলীবাজার ইউনিয়ন, রোয়াংছড়ি উপজেলার বাঘমারাসহ ১৩টি ইউনিয়নে ছাত্রলীগের কোন কমিটিই ছিল না। এবার এসব জায়গায়ও কমিটি গঠন করা হয়েছে। বান্দরবান জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র নেতারা জানান, বর্তমান জেলা ছাত্রলীগ অতীতের চেয়ে অনেক বেশি সু-শৃঙ্খল, সু-সংগঠিত ও শক্তিশালী। এটি সম্ভব হয়েছে, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি মহোদয়ের দিক নির্দেশনার কারণে।

ছাত্র নেতারা আরো জানান, ২০১৫ সালের ৬ জুন রাজার মাঠে আয়োজিত সম্মেলনে কিছু অছাত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে যে ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্ট করেছিল, ইতিমধ্যে বর্তমান জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক তাদের সুদক্ষ ও সু-শৃঙ্খল কাজের মাধ্যমে অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে। ছাত্র নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জেলা আওয়ামী লীগের এক হাইব্রিড স্বার্থবাদী নেতা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতৃস্থানীয়রা যাতে তার আশীর্বাদপুষ্ট ও তার অনুগত হয়, সে লক্ষ্যে সকল সংগঠনের নেতৃত্বে হাইব্রিড, অদক্ষ, চাঁদাবাজদের বসাতে কুট-কৌশল চালিয়ে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। তিনি জেলা আওয়ামী লীগসহ পৌর, উপজেলার সকল মূল ও সহযোগী সংগঠন গুলোতে তার আশীর্বাদপুষ্ট ও অনুগতদের বসিয়ে দিয়েছিলেন। বাকি ছিল জেলা ছাত্রলীগ। পূর্বের ছাত্রলীগ কমিটিতেও সে চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু কমিটিটি সদস্যদের সরাসরি ভোটে গঠিত হওয়ায়, সে সুযোগটি হাত ছাড়া হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও সেই হাইব্রিড নেতা কূট-কৌশল অব্যাহত রাখে। তিনি সংগঠনটিতে বিভক্তি করতে ও নিজের আয়ত্বে আনতে কিছু অশিক্ষিত ও উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রকে বখাটেদের সাথে একত্রিত করে তাদের মাধ্যমে চাঁদাবাজি, ভূমি জবর-দখলসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত করে স্থানীয় সাংসদ পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগসহ ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট করে। ছাত্রলীগের পুরো কমিটি তার আয়ত্বে নিতে সে তার অনুগত, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন পদবীতে বসাতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে।

ছাত্রলীগ নেতারা জানান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও আওয়ামী লীগ কখনোই দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলাকারী, উচ্ছৃঙ্খল ও সুনাম নষ্টকারীদের কখনো প্রশ্রয় দেননি। এতে সেই হাইব্রিড নেতার সর্বশেষ চেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যায়। তার অনুসারী ও চাঁদা আদায়কারীদের ছাত্রলীগের মূল পদগুলোতে বসাতে না পেরে বাদ পড়া উচ্ছৃঙ্খল, বখাটেদের দিয়ে ২০১৫ সালের ৬ জুন রাজার মাঠে আয়োজিত সম্মেলনে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা ঘটায়। এঘটনায় হামলার নির্দেশ দাতা ও হামলাকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর মধ্যদিয়ে সেই নেতার কূট-কৌশল ও স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগ নেতারা জানান, পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা ছাত্রলীগের নষ্ট হওয়া সুনাম ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ যাচাই-বাচাইয়ের পর শিক্ষিত, দক্ষ দুই ছাত্র নেতাকে ২০১৫ সালের ১৯ জুলাই ছাত্রলীগের কমিটির দায়িত্ব দেন। ইতিমধ্যে দুই নেতা ছাত্রলীগকে সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত করে তুলেছেন এবং চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা দায়িত্ব নিয়েছে ৭ মাস অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। এসময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে এবং ছাত্রলীগের একজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ কোন প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি বাসু দাশ জানান, বর্তমান ছাত্রলীগের কমিটি একটি ভাল কমিটি। যা অতীতের যে কোন কমিটির চেয়ে ভাল বলা যায়। এ ধরনের নেতৃত্ব সারাদেশে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। তিনি আরো বলেন, এদের দিয়ে কেউ চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সংগঠন বিরোধী ও জনবিরোধী কোন কর্মকাণ্ড করাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি এবং সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত কোন নেতাকর্মীকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান দেবে না বলে আশা করি।

বিগত জেলা ছাত্রলীগ কমিটি সভাপতি তৌহিদুর রহমান রাশেদ জানান, একটি ভাল কমিটি ছাত্রলীগকে উপহার দিয়ে যেতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছি, এই কমিটি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি। তিনি আরো বলেন, বান্দরবানে অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলোর চেয়ে বর্তমান ছাত্রলীগ কমিটি অত্যান্ত সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। আমরা যে নেতৃত্বের হাতে ছাত্রলীগের দায়িত্ব দিয়ে গেছি, তারা তৃণমূল থেকে উঠে এসেছে। তারা সংগঠনের জন্য অত্যন্ত দক্ষ। ইতিমধ্যে তারা পৌর নির্বাচনে অগ্রণী ভূমিকা রেখে তাদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি কাউছার সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জনি সুশীল জানান, বর্তমান ছাত্রলীগ ছাত্রদের স্বার্থে কাজ করবে। গরীব, অসহায় ও সাধারণ জনগণের জন্য কাজ করবে। ছাত্রলীগকে আরো সুসংগঠিত করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুরের হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাবে। শিক্ষা বান্ধব কর্মসূচীগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ০৬ জুন রাজার মাঠে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ নেতাদের উপস্থিতিতে হামলা চালিয়ে জেলা সম্মেলন পণ্ড করার মূল হোতা আহসানুল আলম রুমু, যুবলীগ কর্মী বাপ্পী মল্লিক, ছাত্রলীগ কর্মী এনএ জাকির, সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো: ইব্রাহিম, মো: ইমরান উদ্দিন, মো: সাইফুল ইসলাম, মো: আরিফ, ফরহাদ হোসেন, রুবেল, মো: রোকন, মো: তারেক, শিমুল দাশ, পলাশ তঞ্চঙ্গ্যা, মাস্টার বাবু, তাপস দাশ, মো: জলিল, মেহেদি হাসান মানিক, ময়না রাজু, মো: মোমেন, সোহরাব হোসেন কুট্টি, পঙ্কজ নাথ, রনি মল্লিকসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগ সেচ্ছাসেবক লীগের ২১ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment