রাঙ্গামাটির যাত্রীদের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা

বিশেষ প্রতিবেদন –

Bus

রাঙ্গামাটির যাত্রীদের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে ফিটনেস বিহীন গাড়ীর কারণে প্রতিনিয়ত ঝুকির মুখে পড়ে আছে যাত্রীদের প্রাণ। এই নিয়ে রাঙ্গামাটি বিআরটিএ অফিসের কোন ধরনের মাথা ব্যাথা নেই বললে চলে। মাসে মাসে মাসোহারার মাধ্যমে চলাচলের অযোগ্য এই সব গাড়ী রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চলাচল করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রী সাধারণ।

রাঙ্গামাটি চট্টগ্রাম সড়কে দু’টি যাত্রী পরিবহন সংস্থা সেবা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে পাহাড়ীকা হচ্ছে সরাসরি এবং অপরটি হচ্ছে দ্রুতযান সার্ভিস। এই দুটি সংস্থার নাম দিয়ে রাঙ্গামাটির যাত্রীদের সেবা দিয়ে আসছে রাঙ্গামাটির পরিবহণ ব্যবসায়ীরা। রাঙ্গামাটির যাত্রীদের দিয়ে মালিক পক্ষ কোটি কোটি আয় করলেও বাসগুলোর করুণ অবস্থা দেখলে যে কোন মানুষের নাভিশ্বাস উঠবে।

রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে যে দু’টি যাত্রী পরিবহণ সংস্থা রয়েছে এর মধ্যে পাহাড়ীকার সার্ভিস একটু ভালো হলেও বাসগুলো হচ্ছে রিকন্ডিশনড এবং এখন অনেক পুরানো। যে কোন সময় যে কোন জায়গায় বিকল হয়ে পড়ে। এই নিয়ে যাত্রীরা অভিযোগ করলেও তাদের অভিযোগ মালিক পক্ষের কোন কর্ণপাত হয়নি। এছাড়া দ্রুতযান সার্ভিসের নামে যে পরিবহন সার্ভিস রয়েছে তা মানুষের যান দ্রুত বের করার সার্ভিস। দ্রুতযান নামে যেসব গাড়ী রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কে চলাচল করছে সেসব অধিকাংশ গাড়ীর ফিটসেন নেই। ফিটনেসবিহীন গাড়ী নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের যান দ্রুত বের করে ফেলার মতো ব্যবস্থা করে রেখেছে মালিক পক্ষ।

এছাড়া রাঙ্গামাটির অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে আরো বেহাল অবস্থা। এই অবস্থায় রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি-মারিশ্যা, রাঙ্গামাটি-রাজস্থলী, রাঙ্গামাটি-বড়ইছড়ি, রাঙ্গামাটি-নানিয়ারচর রুটের বাসগুলো যেন একেকটি মৃত্যুফাঁদ। এই সার্ভিস গুলোতে চড়ে নিরাপদে যে গন্তব্যে পৌছাতে পারবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই।

তেমনি আজ সকালে রাঙ্গামাটি শহরের মধ্যে রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়িগামী যাত্রীবাহী শান্তি পরিবহন বাসটির ফিটনেস নিয়ে খোদ প্রশ্ন তুলেছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, যতটুকু মনে হয় এই গাড়ী ফিটনেস অনেক আগেই চলে গেছে। কীভাবে যে এই গাড়ীগুলো মালিক পক্ষ এখনো রাস্তায় সচল রেখেছে আমাদের বোধগম্য নয়।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, যাত্রীদের সাথে সাথে আমাদের প্রাণ নিয়েও আমরা খুবই চিন্তিত আছি। কী করবো, পেটের তাগিদে আমাদের গাড়ী চালাতে হচ্ছে। কেন যে গাড়ী চালানো শিখলাম, গাড়ী নিয়ে রাস্তায় বের হলে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত কথা শুনতে হয়। মালিকদেরকে জানালে তারাও বড় বড় কথা বলেন। ধমক দিয়ে বলেন, না পারলে চাকরি ছেড়ে দাও – গাড়ী চালানোর জন্য কতো ড্রাইভার অপেক্ষা করে আছে।

এসব ফিটনেসবিহীন গাড়ী প্রতি মাসে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে, এতে শতশত যাত্রী হতাহত হচ্ছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একেবারে নির্বিকার। এসব দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য। গাড়ীর মালিকপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর দায় এড়াতে পারে না।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment