প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত রাঙ্গামাটির তিনটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে

বিশেষ প্রতিবেদন –

Bridge

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে রাঙ্গামাটি জেলায় প্রায় ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি ব্রিজের নির্মাণ কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০১৩ সালে রাঙ্গামাটি সফর কালে রাঙ্গামাটিবাসীর জন্য রাঙ্গামাটি মেডিকেল কলেজ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ রাঙ্গামাটি শহরের আসামবস্তী ও ব্রাহ্মনটিলা সংযোগ ব্রীজ, রাঙ্গামাটির রিজার্ভ বাজার পুরানপাড়া সংযোগ ব্রীজ ও মাইনীর গাঁথাছড়া সংযোগ ব্রিজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

আগামী ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে ব্রিজগুলো জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এই ব্রিজ তিনটি নির্মিত হলে রাঙ্গামাটি সদর ও মাইনীমুখের হাজার হাজার মানুষ সুফল ভোগ করবে। এই তিনটি ব্রিজের মধ্যে আসামবস্তী-ব্রাহ্মণটিলা সংযোগ ব্রিজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। বর্তমানে এই ব্রিজের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। রিজার্ভ বাজার এলাকায় রিজার্ভ বাজার ও পুরানপাড়া সংযোগ ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার কিছু বেশী। এই ব্রিজের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া মাইনীমুখ বাজার ও গাঁথাছড়া সংযোগ ব্রিজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। এই ব্রিজেরও প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

ব্রিজের বিষয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেজবা এসোসিয়েট-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই তিনটি ব্রিজ পার্বত্য অঞ্চলে জনগণের জন্য খুবই উপকার হবে। তাই প্রতিনিয়ত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশল বিভাগ কাজের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে। অফিসের সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা ব্রিজ তিনটির কাজ দ্রুত করতে পারছি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে তিনটি ব্রিজের মধ্যে আসামবস্তী ব্রাহ্মণটিলা ব্রিজটি ২০১৬ সালের মধ্যে অফিসের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। তারা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের পানির সাথে সংযোগ হওয়ায় রিজার্ভ বাজার পুরানপাড়া ও মাইনীর গাঁথাছড়া ব্রিজ একটু সময় লাগছে। তারা বলেন, সরকার আমাদেরকে যে বরাদ্দ দিয়েছে তার চাইতেও প্রায় ২০ শতাংশ কাজ আমরা বেশী করে রেখেছি। আগামী অর্থ বছরে যদি সরকার আমাদেরকে ব্রিজ নির্মাণ ব্যয়ের সমস্ত টাকা বরাদ্দ দেয় তাহলে আমরা আগামী ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ব্রিজ দুটি সরকারকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হবো। যদি বরাদ্দ পাওয়া না যায় তাহলে ব্রিজগুলো শেষ করতে আরো কিছুদিন সময় লাগতে পারে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী পল্লব চাকমা জানান, আমরা খুবই আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে এই ব্রিজ তিনটির নির্মাণ কাজ তদারকি করছি। এই তিনটি ব্রিজের মধ্যে আসামবস্তী ব্রিজটি প্রায় শেষ প্রর্যায়ে চলে এসেছে, শুধুমাত্র এপ্রোচ নির্মাণ করলেই ব্রিজটি দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারবে। রিজার্ভ বাজার পুরানপাড়া সংযোগ ব্রিজ এবং মাইনীমুখ গাঁথাছড়া সংযোগ ব্রিজ রাঙ্গামাটি হ্রদের পানির উপর নির্ভর করে আমাদেরকে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যেতে হবে। তাছাড়া সরকারি অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা এই তিনটি ব্রিজ দ্রুত শেষ করে দিতে পারবো বলে আশা করছি।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মুজিবুল আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি শহর হ্রদ বেষ্টিত, এই শহরে ল্যান্ডের পরিমান কম, তাই রাঙ্গামাটি শহরের অদূরের এলাকাগুলোকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শহরের দুটি ব্রিজ নির্মিত হলে রাঙ্গামাটি শহরের আয়তন বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া ঐ এলাকার প্রায় কয়েক হাজার জনগণের যাতায়াতসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। তিনি জানান, আমরা আন্তরিক ভাবে কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পার্বত্য অঞ্চলের জনগণকে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে আমাদের কাজের কোন গাফিলতি নেই। তিনি জানান, তিনটি ব্রিজ নির্মাণ কাজে আমাদের সার্বক্ষণিক তদারকি রয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি সাপেক্ষে জনগণকে দ্রুত এই ব্রিজের সুফল দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment