সুসংহত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক –

CITI

রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং অর্থনৈতিক সবগুলো নির্দেশককে ইতিবাচক সম্ভাবনায় এগিয়ে নেওয়ায় আকর্ষণীয় প্রবৃদ্ধির পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ। বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মূল্যায়নে এমনটি জানিয়েছে ব্যাংকিং জায়ান্ট সিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬.৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাত অবদান রেখেছে ৩ শতাংশ, শিল্প খাত অবদান রেখেছে ২.৭ শতাংশ এবং কৃষি খাত অবদান রেখেছে ০.৫ শতাংশ। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ উল্লেখ করে সিটি জানায়, অর্থবছরের শুরু থেকেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটি শক্ত ভিত গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০১৫ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য বছর। কারণ এ বছর বাংলাদেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কৃতিত্ব দেখিয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশের গৌরব অর্জন করেছে। গত পাঁচ বছর বাংলাদেশ গড়ে ৬ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে উন্নীত হওয়ার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২০ সাল নাগাদ প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ করার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে দেশটির সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়।

২০১৫-১৬ অর্থবছরের শুরুতে রপ্তানিতে শুভ সূচনা না হলেও জুলাই থেকে ডিসেম্বরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এ সময়ে রপ্তানি হয় ১৬.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা ১৫.৮৬ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে পোশাক শিল্প। সিটির মতে, রপ্তানির খাতের এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে ২০১৬ অর্থবছরের জন্য ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলারের যে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা অর্জন করা সম্ভব হবে। সরকার ২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে সিটি জানায়, দেশের রপ্তানি খাতে একটি টেকসই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হলে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক জোন তৈরি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সুবিধা বৃদ্ধি, পরিবহন সুবিধা এবং ভালো কানেক্টিভিটি রপ্তানির জন্য উল্লেখযোগ্য এ পদক্ষেপগুলোও প্রয়োজন বলে সিটি মনে করে।

সিটি জানায়, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানির চেয়ে আমদানি বেশি হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু রেমিট্যান্স বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০১৫ সালে ৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি শ্রমিক বিভিন্ন দেশে গমনের সুযোগ পেয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি।

সিটি জানায়, গত বছর সৌদি আরব, মালয়েশিয়া এবং কুয়েতসহ বেশ কিছু দেশে শ্রমিক যাওয়ায় তা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। যদিও ২০১৫ সালে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৫.৩১ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ২.৪৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। সিটির মতে, বাংলাদেশের বেশির ভাগ শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে থাকায় সেসব দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটায় রেমিট্যান্সের আকার কমেছে। তবে শ্রমিক রপ্তানিতে বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাও হাতছানি দিচ্ছে। সৌদি আরব শ্রমবাজার খুলেছে। মালয়েশিয়াও শ্রমিক নিতে আগ্রহী। অন্যদিকে ২০২২ ওয়ার্ল্ড কাপকে ঘিরে কাতারে নির্মাণ খাতের জন্য প্রচুর শ্রমিক প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার সেসব সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

২০১৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়ে হয়েছে রেকর্ড ২৭.৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি। এটি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহায়ক। সিটি জানায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সংস্কার করেছে। অবকাঠামো সংস্কারের পাশাপাশি নতুন কিছু নীতিও করা হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে এবং রপ্তানি খাতের জন্য সুবিধা বয়ে এনেছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হচ্ছে সংসদে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিল ২০১৫ অনুমোদন করা হয়েছে। যার লক্ষ্য অবকাঠামো ও সেবা খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment