পার্বত্যাঞ্চলে আগর চাষে ব্যাপক বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা

স্টাফ রিপোর্ট –

Agar

তিন পার্বত্য জেলায় আগর চাষের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও উদ্যোগ। বিদেশে আগর রপ্তানী করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এতে পার্বত্যবাসীর বেকারত্বও দূরীভূত হবে বলে স্থানীয়দের অভিমত। সিলেটের মৌলভী বাজার বড়লেখায় বাণিজ্যিকভাবে আগর চাষ হয়। আগর গাছ লম্বায় প্রায় ৩৮ মিটার ও পরিধি আড়াই মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি চিরহরিৎ জাতীয় সবুজ উদ্ভিদ। এ গাছের কাণ্ড সোজা এবং তাড়াতাড়ি বাড়ে। এর কাঠ খুবই সুগন্ধিযুক্ত, তাই আগর বাতি তৈরিতে এর ব্যবহার হয়।

এছাড়া আতর, সুগন্ধি তৈল ও উন্নত মানের পারফিউম তৈরি হয় আগর থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে উন্নতমানের প্রতি তোলা আতর প্রায় দুই লাখ টাকা। আগর গাছ কেটে পুড়িয়ে তৈরি করা প্রতি কেজি নির্যাসের দাম প্রায় এক লাখ টাকা। সব আগর গাছে আগর হয়না। তবে গাছে পেরেক ঢুকিয়ে বা বিশেষ ব্যবস্থায় আগর আনার পদ্ধতিও আছে।

আগর হওয়া একটি গাছের দাম ১০ লাখ টাকা থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়। পার্বত্যাঞ্চল আগর চাষের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত স্থান। বন বিভাগের অধীনে সাধারণ চাষীদের মাধ্যমে কাপ্তাই বনরেঞ্জ এলাকায় অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে আগর চাষ শুরু হয়।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০০৭-০৮, ২০০৮-০৯ এবং ২০০৯-১০ অর্থ বছরে তিন দফায় দুই শতাধিক প্লট আগর চাষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চাষীরা আগর চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে অন্যান্য ফসলও চাষ করছেন। এগুলো আগর চাষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। অনেকে আবার অন্যের নিকট এ প্লট বিক্রি করে দিচ্ছে। এর জন্য বন বিভাগের সুষ্ঠু তদারকি প্রয়োজন।

আগর চাষী ইসমাইল ও কবির বলেন, আমার বাগানে আগর চাষ করেছিলাম। কিন্তু কে বা কারা বাগানের আগর গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তাই উৎসাহ থাকলেও প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে আগর বাগান সঠিকভাবে রক্ষনাবেক্ষণ করতে পারছি না। পার্বত্যবাসীদের উৎসাহিত করা হলে আগর থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment