আশাবাদে সর্বোচ্চে বাংলাদেশের মানুষ

Column

কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ –

নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আর্থসামাজিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এরই মধ্যে সাধন করেছে, তা সারা বিশ্বে প্রশংসিত, নন্দিত। এটি এখন আর নতুন খবরও নয়। লন্ডনের ইকোনমিস্ট ও গার্ডিয়ান পত্রিকা বেশ কিছুদিন আগে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে এবং তার প্রশংসা করে। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নানা বিষয়ে মূল্যায়নেও এ দেশের অর্জিত অগ্রগতি ও আরো অগ্রগতির সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। গ্যালপ ইন্টারন্যাশনালের ২০১৫ বছর-শেষ জরিপে দেখা যায়, বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি আশাবাদী। ৬৮টি দেশের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। বাংলাদেশের পেছনে চীন, ভারতসহ অন্যান্য দেশ রয়েছে, যেগুলো সাম্প্রতিককালে খুব দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি সাধন করেছে। গ্যালপের একই জরিপে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ আর্থসামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে খুব দ্রুত উন্নতির পথে অগ্রসর হতে পারবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ‘টেক অফ’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তার মানে, দ্রুতগতিতে উন্নতির জন্য যেসব প্রস্তুতি প্রয়োজন, সেগুলোর প্রায় সবই এ দেশে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে হলে ও দেশের মানুষের আশাবাদকে সঠিক প্রমাণ করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, ‘দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে’ এই প্রত্যয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দৃশ্যমানভাবে অঙ্গীকার থাকতে হবে; যা বর্তমান শীর্ষতম নেতৃত্বে রয়েছে। তবে আত্মসন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। অঙ্গীকারের বিস্তৃতি ও আরো অর্জনে নিবেদিত থাকতে হবে, যাতে বাংলাদেশ শুধু মধ্যম আয় নয়, মধ্যম জীবনমানের দেশে আগামী এক দশকে উন্নীত হতে পারে।

অনেক সূচকে উন্নয়নশীল বিশ্বের অধিকাংশ দেশ থেকেই বাংলাদেশ এগিয়ে; কিন্তু এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হলে যে বিষয়গুলোর দিকে যথাযথ নজর দিতে হবে সেই তালিকার প্রথমেই রয়েছে মানুষকে কেন্দ্র করে উন্নতি যাতে আবর্তিত হয় তার জন্য নীতি-কৌশলগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা জোরদার ও প্রয়োজনে নতুনভাবে গ্রহণ করতে হবে।

মানুষ উন্নয়ন ঘটায় এবং তার ফল ভোগ করে। সব মানুষ সব দায়িত্ব পালন করবে না, সব মানুষ সম-অবস্থান সম্পন্নও হবে না। তবে প্রত্যেকেই যেন তার ন্যায্য অধিকার পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এটি টেকসই উন্নয়নের একটি মৌলিক ভিত্তি।

দ্রুত ও টেকসইভাবে এগিয়ে যাওয়ার আরো একটি পূর্বশত হচ্ছে সমাজের সব পর্যায়ে প্রাক্কলিত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানব-সক্ষমতা বৃদ্ধি। প্রত্যেককে তার নিজের অবস্থান থেকে সঠিকভাবে তার দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং তা ভালোভাবে পালনের জন্য সক্ষমতা যাতে তার থাকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে, যাতে মান সম্পন্ন শিক্ষা বিস্তার লাভ করে। যারা পিছিয়ে আছে তারা যেন শিক্ষা লাভ করা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য এই মৌলিক অধিকার অর্জনের সুযোগ থেকে কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না।

শিক্ষা ছাড়া সক্ষমতা বৃদ্ধির আরো দুটি উপকরণ হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণ। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই তিনটি সেবা ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা আরো জোরদার করতে হবে। আমরা জানি, সরকারের একটি অত্যন্ত উপযোগী শিক্ষানীতি আছে। একটি দক্ষতা সৃষ্টিনীতিও আছে। এই নীতিগুলোর যথাযথ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে, যাতে একই সঙ্গে মানুষ শিক্ষিত ও দক্ষ হয়ে ওঠে। শিক্ষা শুধু পড়া বা পড়ে বোঝা বা হিসাব করতে শেখা বা উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। মানুষের মধ্যে মূল্যবোধ ও নৈতিকতাও জাগিয়ে তোলা ভীষণভাবে প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এর যে লক্ষ্যগুলো আছে, সেগুলোকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একদিকে রয়েছে মানবিক গুণাবলি যথা মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দেশাত্মবোধ ইত্যাদি সৃষ্টি করা এবং অন্যদিকে আছে সক্ষমতা সৃষ্টি। কাজেই এ শিক্ষানীতির সঠিক বাস্তবায়ন হলে মানুষ ‘শুধু নিজের জন্য নয়, সবার জন্যও’ এই নীতিবোধ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে জাগ্রত হবে। নিজের জন্য কাজ করার পাশাপাশি মানবতার জন্য, দেশের জন্য কাজ করার মানসিকতার ব্যাপ্তি ঘটবে। অবশ্যই একজন ব্যক্তি যে তার নিজের দিকটা দেখবে তা বলাবাহুল্য; কিন্তু তার অগ্রগতি যেন অন্যের ক্ষতি না করে এবং অন্যের বিকাশ ব্যাহত না করে সেই মূল্যবোধ সৃষ্টি হবে। এ ধরনের মূল্যবোধ ও মানসিকতার ঘাটতি থাকায় সমাজে হানাহানি চলছে, একজনকে মেরে আরেকজন এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, কেউ জমি দখল করছে, কেউ ব্যাংক দখল করছে, কেউ নদী দখল করছে, কেউ ভূমি দখল করছে, কেউ বনাঞ্চল দখল করছে। এগুলো রোধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের মধ্যে উল্লিখিত মূল্যবোধ সৃষ্টি হলে কুপথ থেকে অনেকেই বিরত থাকবে বলে আশা করা যায়।

শিক্ষার পাশাপাশি বিকাশমান অর্থনীতি ও সমাজের প্রয়োজন ভিত্তিক দক্ষতার ধরন ও স্তর নির্ধারণ করে তা সৃষ্টির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে চলমানভাবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় অনেক অগ্রগতি হয়েছে; কিন্তু অনেক ঘাটতিও রয়েছে। পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বছরের জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জাতিসংঘ কর্তৃক ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে গৃহীত টেকসই উন্নয়নপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করার কথা। একেবারেই যারা পিছিয়ে আছে তাদের দিকে এই প্রক্রিয়ায় বিশেষ নজর দিতে হবে। তাদের যে বিশেষ বিশেষ সমস্যা রয়েছে সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য নীতি ও কৌশল নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে।

সারা বিশ্বে এখন দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন ঘটলেও বৈষম্য প্রকট আকারে বাড়ছে। বাংলাদেশে আয় ও ভোগ বৈষম্য বিগত কয়েক বছরে না বাড়লেও প্রকট। এ ছাড়া সম্পদবৈষম্য বাড়তে শুরু করেছে বলে দেখা যাচ্ছে। ন্যায্য অর্জনের মাধ্যমে তা সব ক্ষেত্রে ঘটছে না। দখলদারি (জমি, নদী, পানি, ফসল, এমনকি ব্যাংক) এ ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। দখলদারির এই ধান্দা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা জরুরি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে বিশাল অর্জন। তার পরও দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ অতিদরিদ্র এবং চার কোটি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করে। কাজেই টেকসই দারিদ্র্য নিরসন ও বৈষম্য সহনীয় মাত্রায় কমিয়ে আনা দেশের টেকসইভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথে দুটি চ্যালেঞ্জ। কার্যকরভাবে এগুলো মোকাবিলা করতে হলে সমাজের সব পর্যায়ের ও সব শ্রেণির মানুষের সক্ষমতা বাড়ানো ও আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের উপযুক্তভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

গ্যালপের উল্লিখিত জরিপে ফুটে ওঠা সব শ্রেণির মানুষের আশাবাদকে বাস্তবে রূপ দিতে ও সবার ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে টেকসই উন্নয়নের পথ ধরে দ্রুত এগিয়ে যেতে চাইলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে করণীয়গুলো চিহ্নিত করে কার্যকরভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশে গ্রামীণ অর্থনীতি (শুধু কৃষি নয়, কৃষিবহির্ভূত খাতগুলোও) একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে। এ খাতগুলোতে অসংখ্য মানুষ জড়িত আছে। দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষিসহ গ্রামীণ খাতগুলোর সঙ্গে জড়িত। এখনো প্রায় ৪৬-৪৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজে নিয়োজিত আছে। নারী কৃষক ও নারী কৃষি শ্রমিকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। ফলে নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে দেশের শ্রমজীবী মানুষের প্রধান অংশটিই কৃষি খাতে জড়িয়ে আছে। কাজেই কৃষি খাতে অব্যাহত উন্নতির দিকে আর্থিক ও নীতিগত প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে, জোরদার করতে হবে।

এখন কোনো কোনো অঞ্চলে কৃষি শ্রমিকের সংকট দেখা যায়। এর পেছনে মূলত দুটি কারণ রয়েছে; অকৃষি খাতগুলোয় বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কাজের জন্য বিদেশ গমন। এই দুইদিকে অগ্রগতির ফলে গ্রামাঞ্চলে মজুরি এখন সাধারণত রোজ ১০-১১ কেজি চালের সমান। কৃষিসংক্রান্ত ব্যস্ততা যে সময় ও সেসব এলাকায় কম, সে ক্ষেত্রেও এই মজুরি পাঁচ-ছয় কেজি চালের সমান। অথচ আশির দশকে দাবিই ছিল সাড়ে তিন কেজি চালের সমমূল্যের অর্থ। সুতরাং বোঝা যাচ্ছে, গ্রামে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে ব্যাপকসংখ্যক মানুষের মনে উন্নততর জীবন যাপনে আশাবাদ ছড়িয়ে গেছে। তাদের সেই আগের দুরবস্থা আর নেই। মোটামুটি বা যথেষ্ট ভালোভাবে জীবন ধারণের ব্যবস্থা তাদের হয়েছে, যদিও এখনো সারা বছর সবার কাজের ব্যবস্থা হয়নি এবং বেকারত্বও রয়েছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে। অবশ্য ব্যাপকভাবে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তাই মানুষের মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হবে, তা সহজেই বোঝা যায়। এর প্রমাণই হলো ওই গ্যালপ জরিপের ফল।

নানা সমস্যা থাকা সত্ত্বেও গত সাত-আট বছর জাতীয় প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে রাখা সম্ভব হয়েছে। রপ্তানি আয় প্রতিবছর বাড়ছে, রেমিট্যান্সও প্রতিবছর বাড়ছে এবং দুটিই প্রতিবছর রেকর্ড সৃষ্টি করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও একইভাবে বাড়ছে রেকর্ড সৃষ্টি করে। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বলতে পারি, আরো এগিয়ে যাওয়ার ভিতটি শক্ত ও সম্ভাবনা-জাগানিয়া। সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের এই অবস্থানের পেছনে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশেরও অবদান রয়েছে। এর মধ্যেই ব্যাপকভাবে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে। গ্রামের প্রতিটি ইউনিয়নে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

তার পরও কথা থাকে। আগেই বলা হয়েছে আত্মসন্তুষ্টির কোনো সুযোগ নেই। সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে যে সমস্যাগুলোর এখনো সমাধান করা সম্ভব হয়নি বা যেসব সমস্যা নতুনভাবে জেগে উঠছে সেগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একটি চলমান অর্থনীতিতে ঘাটতি বা সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, সব সময় সব দেশে এটি ঘটে। সুতরাং বাংলাদেশে তা হবে না এ কথা বাস্তবসম্মত নয়। যেসব ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে সেগুলো পূরণ করতে পারলে ও সময়ে সময়ে নতুনভাবে সৃষ্ট সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ যেভাবে এগিয়ে চলছে তার চেয়ে দ্রুততর গতি পাবে এবং টেকসই উন্নয়ন ঘটবে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার অবসান নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো একটি বিষয়ের দিকে নজর দিতে হবে। বেকারদের, বিশেষ করে যুববেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষিত যুবসমাজের একটি বড় অংশ কর্মহীন রয়ে গেছে। কাজের ব্যবস্থা করলে তাদের নিজেদেরও উন্নয়ন হবে এবং দেশের অর্থনীতির চাকা আরো জোরেশোরে ঘুরবে। আমাদের দেশে এখন যুবসমাজই (১৮-৩৫ বছর) জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ। আর ১৫-৪৫ বছর বয়স্কদের বিবেচনায় নিলে তারুণ্যের প্রাধান্য অনেক বেশি। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিবর্তনের এই পর্যায়কে তাই ব্যাপক সম্ভাবনাময় বলে চিহ্নিত করা যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে যুবসমাজের জন্য প্রশিক্ষণ ও পুঁজির ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশে এর অনুকূলে নীতি-কৌশল ও অনেক কর্মসূচি আছে। বাস্তবায়নে আরো অনেক বেশি যথাযথ তত্পরতা জরুরি। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যে সম্পদ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা সঠিক ও স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যবহার করতে হবে। যে কাজে যা নির্দিষ্ট করা হয় তা যেন সেই কাজে সময়মতো ও যথাযথভাবে লাগে। মাঝপথে দুর্নীতি যেন তাতে ভাগ বসাতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি দরকার। তা না হলে সম্ভাবনা ও আশাবাদী দেশ হিসেবে যে লক্ষ্যে পৌঁছার কথা, তা ব্যাহত হবে।

এই দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের নীতি, কৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বাস্তবতার আলোকে সময় সময় প্রয়োজনমাফিক সংস্কার করতে হবে। সব কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। সরকার ছাড়াও বেসরকারি খাত, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ সবারই দায়িত্ব আছে। সবাই যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে ও সরকার অব্যাহতভাবে সবার অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে, দেশে যা বর্তমানে অনেকটাই বিদ্যমান রয়েছে, তাহলে যে আশাবাদ বাংলাদেশের মানুষ পোষণ করছে তা বাস্তবে রূপ লাভ করবে সে আশাবাদও ব্যক্ত করা যায়।

লেখক : অর্থনীতিবিদ

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment