ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এন্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

রাঙ্গামাটিতে ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এন্ড কমিউনিটি এম-পাওয়ারমেন্ট (এলসিবিসিই) সভা অনুষ্ঠিত

Bketu

ইউনিসেফ কর্তৃক গৃহীত লোকাল ক্যাপাসিটি বিল্ডিং এন্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট (এলসিবিসিই) কর্মসূচির বিষয়ে আজ মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগের স্থানীয় সরকারের পরিচালক ও ডিভিশনাল কনভার্জেন্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সদস্য সচিব দীপক চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা: আলাউদ্দিন মজুমদার, চট্টগ্রাম পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল আলম, রাঙ্গামাটি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: মোস্তফা জামান, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্প (আইসিডিপি)’র প্রকল্প পরিচালক মো: ইয়াছিন। স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন (আইসিডিপি)’র প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: জানে-ই-আলম।

সভার শুরুতে স্থানীয় সরকারের পরিচালক দীপক চক্রবর্তী এলসিবিসিই সম্পর্কে বলেন, এলসিবিসিই হলো কমিউনিটি ক্ষমতায়নকে ত্বরান্বিত করার একটি বিকেন্দ্রীভূত পদ্ধতি বা কৌশল। ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকারের জাতিসংঘ উন্নয়ন সহায়তা কাঠামো, ২০১২ – ২০১৬ এর আওতায় সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে পিছিয়ে পড়া ২০টি জেলাকে চিহ্নিত করেছে। এই কর্মসূচি (এলসিবিসিই) বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় পর্যায়ে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার একটি যৌথ অংশীদারিত্বমূলক কৌশলপত্রে স্বাক্ষর করেছে। চিহ্নিত জেলাসমূহের মধ্যে প্রতিটি জেলা হতে দুইটি করে উপজেলা এবং প্রতিটি উপজেলার সবকটি ইউনিয়ন এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হয়েছে। সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের জন্য গৃহীত বিভিন্ন বিভাগের কর্মসূচি বা কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বিত সম্পর্কের মাধ্যমে একটি সম্মিলিত শক্তি তৈরী করাই এলসিবিসিই এর উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, সকলের সহযোগিতায় সমন্বয় করে আইসিডিপি কর্মসূচির মাধ্যমে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে পার্বত্য এলাকার সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।

আইসিডিপি প্রকল্পের পাড়া কেন্দ্রের মাধ্যমে যে প্রাক্ প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য কার্যক্রমের সেবা প্রদান করা হচ্ছে সেই বিষয়টি ইউনিসেফ-এর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মংইয়াই প্রজেক্টরের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন। পরে এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাড়া, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের মাধ্যমে এলসিবিসিই কার্যক্রম কীভাবে অবহিত করা যায় সে সম্পর্কে তিনি ধারণা প্রদান করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিসেফ কর্তৃক আইসিডিপি তিন পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রসারে যে পাড়া কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এ পাড়া কেন্দ্রের ফলে প্রত্যন্ত এলাকার পিছিয়ে পরা শিশুরা শিক্ষার দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে এসেছে। এর ফলে আগের তুলনায় বর্তমানে পার্বত্য এলাকায় শিক্ষিতের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে যে অবকাঠামো দিয়ে পাড়া কেন্দ্রগুলো নির্মাণ হচ্ছে সেগুলো আরো উন্নত করা গেলে শিক্ষার পরিবেশের পাশাপাশি শিক্ষা উপকরণ, জরুরী ডক্যুমেন্ট রাখা নিরাপদ হবে, এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তিনি ইউনিসেফের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি  বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আইসিডিপির মতো এলসিবিসিই প্রকল্পও এখানকার জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ও ভাগ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

সভায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজ সেবা, শিশু একাডেমী, প্রশাসন, যুব উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনাসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের স্ব – স্ব মতামত প্রদান করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment