হ্রদের পানি না কমায় রাঙ্গামাটির জলে ভাসা জমি চাষ করা যাচ্ছে না

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Paddy

রাঙ্গামাটি হ্রদের পানি সময় মতো না কমানোর ফলে জেলার জলে ভাসা জমিতে (Fringe Land) চাষাবাদ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কৃষক। এতে খাদ্য সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট চাষীরা। সরকারি হিসাব মতে রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় ৪০০ একর জলে ভাসা জমি এখনো কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে আছে। হ্রদের পানি কমার সাথে সাথে এই জমিতে চাষাবাদ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা।

এই দিকে রাঙ্গামাটি জেলার লংগদু উপজেলার বিশাল অংশ জুড়ে জলে ভাসা জমির অবস্থান। এসব জমি হ্রদের পানিতে তলিয়ে থাকায় স্থানীয় কৃষকরা দুর্ভোগে পড়েছে। হ্রদের পানি না কমার কারণে চাষীরা জমিতে বীজ তলাও করতে পারছে না। দেরীতে হ্রদের পানি কমে গেলে চাষাবাদ মারাত্মক ভাবে ব্যাহত বলে তারা  জানান। চাষীরা বলেন, চাষাবাদ দেরীতে শুরু হলে ফসল ঘরে তোলার সময় আমাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়তে হবে। তাই যত সম্ভব হ্রদে পানি কমাতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ২৮ জানুয়ারি রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা নদী রক্ষা কমিটির প্রথম সভায় রাঙ্গামাটি জেলায় ৪০০ একর জলে ভাসা জমি হ্রদের পানিতে ডুবে আছে বলে তথ্য উপস্থাপন করেন রাঙ্গামাটি জেলা কৃষি বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা তপন কান্তি পাল।

তথ্য উপস্থাপন করতে গিয়ে তপন কান্তি পাল বলেন, রাঙ্গামাটি হ্রদের জলে ভাসা জমির উপর রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা নির্ভরশীল। জলে ভাসা জমি রাঙ্গামাটির জন্য খাদ্য শস্য উৎপাদনের একটি বড় উৎস। এই জলে ভাসা জমি যদি হ্রদের পানিতে তলিয়ে থাকে এবং দেরীতে জমি জেগে উঠে তখন চাষাবাদ ব্যাহত হয়। জমি দেরীতে জেগে উঠলে চাষাবাদও দেরীতে শুরু হয় এবং বর্ষার কবলে পড়ে যায়। এতে ধান তোলার আগেই ধানি জমি আবার পানিতে ডুবে যায়। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি হ্রদের পানি বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। কিন্তু গত বছর এবং এর আগেও এ সময় হ্রদে পানি ছিলো ৭৮ এম,এস,এল। হ্রদের পানি আরেকটু কমানো গেলে প্রান্তিক কৃষকরা চাষাবাদ করতে সক্ষম হবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক বলেন, হ্রদের পানি ধরে রাখা খুবই জরুরী। শুষ্ক মৌসুমে রাঙ্গামাটি হ্রদের পানি কমে গেলে চাষাবাদ যেমন ব্যাহত হবে তেমনি যোগাযোগ সুবিধাও কমে আসবে। তিনি বলেন, বর্তমানে হ্রদের পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে যাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় তার ব্যবস্থা নিতে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা রয়েছে। হ্রদের পানি বৃদ্ধির ফলে চাষাবাদ কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। আগামীতে হ্রদের পানিও ধরে রাখতে হবে আবার চাষাবাদও করতে হবে, এই নিয়ে কি করা যায় তার প্রস্তাব দেয়ার জন্য কমিটির সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান জেলা প্রশাসক।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment