রাঙ্গামাটির পাঁচ গুণীব্যক্তিদের সম্মাননা প্রদান, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Academy

আজ শুক্রবার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমি কর্তৃক জেলার গুণী ব্যাক্তিদের সম্মাননা-২০১৪ প্রদান ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৪২ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু বলেছেন, যে জাতি সংস্কৃতিতে যত বেশী উন্নত সে দেশ ততই উন্নত। তিনি বলেন, সামাজিক পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সংস্কৃতির কোন বিকল্প নেই। তাই সমাজের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিদের আমাদের সম্মান করতে হবে। গুণী ব্যক্তিদের সম্মান করলে আরো গুণী ব্যক্তির সৃষ্টি হবে। তিনি বলেন, এ সম্মাননা প্রদান অব্যহত রাখলে এ জেলা থেকে আরো প্রতিভাবান গুণীব্যক্তি উঠে আসবে এবং পার্বত্য জেলার সংস্কৃতি আরো বিকশিত হবে। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে এ দেশের সংস্কৃতির উন্নতির কথা চিন্তা করে শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠিত করেছিল বলেই আমরা সংস্কৃতির দিক দিয়ে আজ বিশ্বের কাছে পরিচিত। জাতির পিতার এ অবদানের কথা কখনো ভোলার নয়।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শহীদউল্লাহ, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য জেবুন্নেসা রহিম, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন কালচারাল অফিসার মুজিবুল হক বুলবুল বক্তব্য রাখেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, একটি দেশের জাতিকে এগিয়ে নিতে হলে সমাজের গুণী ব্যক্তিদের সম্মান করতে হবে। জেলা পরিষদ ও জেলা শিল্পকলার মাধ্যমে জেলার অারও গুণী ব্যক্তিদেরও আগামীতে এ ধরনের সম্মাননা প্রদান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক বলেন, একটি জেলার শিল্প ও সংস্কৃতি যখন সামনের দিকে এগিয়ে যায় তখন দেশও সামনের দিকে এগিয়ে যায়। সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বের মাঝে দেশের পরিচিতি লাভ করে থাকে। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস এবং নৃত্য, সঙ্গীত, ক্রীড়া, শিল্প’সহ অনেক গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি ও ঐতিহ্য রয়েছে। সমাজের এসব গুণী ব্যক্তিদের সঠিকভাবে সম্মান দিতে পারলে সংস্কৃতির আরো বিকশিত হবে।

Chinu

এবারে কন্ঠসংগীতে মনোজ বাহাদুর, চারুকলায় বিজয় দত্ত, নৃত্যকলায় ঝর্ণা রায়, ফটোগ্রাফিতে অমিয় কান্তি চাকমা ও লোক সংস্কৃতিতে রমনী মোহন চাকমা এ পাঁচজন গুণীব্যক্তিকে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা – ২০১৪ প্রদান করার জন্য নির্বাচিত করা হয়।

আলোচনা সভা শেষে সম্মাননা প্রাপ্ত জেলার পাঁচজন গুণী ব্যক্তিদের নগদ ১০ হাজার টাকা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র বিতরণ করেন অতিথিবৃন্দ। শেষে কেক কেটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ৪২ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয় এবং পরে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের নিয়ে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment