শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই

বান্দরবান রিপোর্ট –

BB

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, পার্বত্য চুক্তিতে যা আছে সব কিছু বাস্তবায়ন করা হবে। যে চুক্তি দীর্ঘ ২৪ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, হানাহানি বন্ধ করে সকলের শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে এই চুক্তি হয়েছে। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কারোর সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তবে হয়তো কিছু সময় লাগছে। সবাইকে এ সময়টুকু বৃহত্তর স্বার্থে অপেক্ষা করতে হবে।

শুক্রবার (৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)‘র পাঁচ কোটি ২১ লক্ষ টাকার ব্যয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এলাকার কোন জমি পতিত রাখা যাবে না। অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকট দূর করতে সব পতিত জমিকে আবাদী জমিতে রূপান্তরিত করতে হবে। এতে যা করা দরকার তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আবাদী জমি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিজেদেরই প্রথমে উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকার কোনো মহল্লা-পাড়া বিদ্যুৎবিহীন থাকবে না। যে সব দুর্গম জায়গায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, সে সব এলাকার পাড়ায় প্রতি পরিবারে বিনামূল্যে সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকার সৌর বিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ সংসদে পাশ করা হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান অংথোয়াইচিং মারমার সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় বিশেষ অতিথিসহ অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কাজল কান্তি দাশ, রুমা জোন কমান্ডার লে: কর্নেল গোলাম আরিকুর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, বান্দরবান এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরীফ হোসেন, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মংক্যচিং চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকোশলী মোহাম্মদ আজিজ ও জেলা পরিষদের সদস্য মোজ্জামেল হক বাহাদুর।

মত বিনিময় সভার এক পর্যায়ে সমাজ সেবা বিভাগের উদ্যোগে প্রতিবন্ধীদের মাঝে আইডি কার্ড ও ঢেউটিন এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে অতি দরিদ্র মায়েদের মাতৃত্বকালীন ভাতা বিতরণ করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ চাহের তস্তুরীর সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন এলজিইডি‘র প্রকল্প পরিচালক শুশংকর চন্দ্র। আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি উহ্লাচিং মারমা ও রুমা সদর ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মারমা প্রমুখ।

প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, শিক্ষার জন্য এ সরকারের পূর্ণ আন্তরিকতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এক ঘোষণার মধ্য দিয়ে এখানে কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। এ কলেজটি প্রতিষ্ঠার ফলে এলাকার দরিদ্র পরিবারের ছেলেমেয়েরা ঘরে থেকেই নুনভাত খেয়ে পড়ালেখা করতে পারছে। নিজ নিজ সন্তানদের পড়ালেখার প্রতি অবহেলা না করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবার ছেলেমেয়েকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। যদি শিক্ষিত হয়, তবে সে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টানদের কাছে নয়। শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে সবাই তাকে সম্মান করবে। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

বৌদ্ধ ভিক্ষুদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি বলেন, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় প্রায় চারশত বৌদ্ধ বিহারের ভান্তেগণের শিক্ষা বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেই। যদি নূন্যতম একটি বৌদ্ধ বিহারে একজন দরিদ্র ছেলেকে শিক্ষিত করার চেষ্টা হত, তবে অন্ততঃ বছরে চারশত জন ছেলেমেয়ে এসএসসি ও এইচ্এসসি উত্তীর্ণ হতো। ভাল কাজে উদ্যোগ নিলে কয়েক বছর পর অনেকজন শিক্ষিত হয়ে সমাজ সেবায় এগিয়ে আসতে পারে। প্রতিমন্ত্রী বলেন প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারেও ভান্তেদেরকে শিক্ষা উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।  তাই শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানান তিনি।

এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রীয় ওয়াইবিএ ভবন উদ্বোধন, ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে রেস্ট হাউস নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এলজিইডি‘র বাস্তবায়নে সেতু নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। বান্দরবান থেকে রুমা আসার পথে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক ১৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মুরুংগো বাজার জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বীর বাহাদুর।

রুমা উপজেলায় আজ একদিনের সরকারি সফরে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার ৫ টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment