আগামীকাল রাঙ্গামাটিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Demo

পার্বত্যাঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারসহ খুন, অপহরণ, গুম, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আগামীকাল রাঙ্গামাটিতে সচেতন জনগণের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ”অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলুন” এ স্লোগানকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার সচেতন নাগরিক ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি সফল করতে রাঙ্গামাটি শহরের পাড়া ও মহল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয়।

লিফলেটে বলা হয়, ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ার পর পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে, এমনটিই পার্বত্যবাসী মনে করেছিল। অতীব পরিতাপের বিষয় চুক্তির অব্যবহিত পরই আবার শুরু হয় অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার ও চাঁদাবাজি, দেখা দেয় জনজীবনে নিরাপত্তাহীনতা। ফলশ্রুতিতে অবৈধ অস্ত্র ও চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি হয় সারা পার্বত্যবাসী।

লিফলেটে আরো বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা সত্ত্বেও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিধি দিন দিন বেড়ে চলেছে। এটা ঠিক যে মাঝে মাঝে কিছু অস্ত্রসস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে, গুটি কয়েক সন্ত্রাসীও ধরা পড়ছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয় বলে আমরা মনে করি। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে জোরালোভাবে তৎপরতা না চলায় অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হয়ে উঠছে আরো অনিয়ন্ত্রিত, আরো বেপোরোয়া।

চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র আরে সন্ত্রাসী গ্রুপসমূহের মধ্যে প্রায়ই সশস্ত্র সংঘর্ষ, হত্যা, অপহরণ, আকস্মিক ও চোরাগোপ্তা হামলা চলছে। কোন ঘটনা ঘটার পরপরই এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দায়ী করে, আবার সেই গ্রুপ ঘটনার জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে থাকে। ফলে বেড়েই চলেছে দিন দিন তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত ঘটছে সশস্ত্র সংঘাত, ঝরছে রক্ত। অস্ত্রধারী পক্ষ-বিপক্ষ ছাড়াও এর শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের।

লিফলেটে আরো বলা হয়, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের ফলে পার্বত্যবাসী সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বললে মারধর, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, এমনকি খুন করা হয়। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায় না। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের শিকার কেউ ভয়ে মামলা পর্যন্ত করতে পারে না। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলে জঙ্গী দমনে প্রশাসন তৎপর, যৌথ বাহিনী কর্তৃক চলছে সাঁড়াশি অভিযান। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামেও শান্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর অভিযান চালানো খুবই জরুরী।

তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান অপহরণ, হত্যা, গুম, হুমকি, মুক্তিপণ, অস্ত্রবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে এবং এসবের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের প্রতি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জোরালো দাবি জানাতে এবং এর বিরুদ্ধে তীব্র গণ-প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের দল-মত, বর্ণ-ধর্ম ও পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই আয়োজন করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment