খাগড়াছড়ি শহরে সবধরনের সভা-সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি

খাগড়াছড়ি রিপোর্ট –

Ban

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের ধারাবাহিক সহিংসতাসহ পাল্টা-পাল্টি লাঠি মিছিল, হামলা-ভাংচুর  ও  একই স্থানে একই সময় পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি আহবান করায় খাগড়াছড়ি শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ফের সহিংসতার আশংকায় জেলা প্রশাসন সোমবার থেকে খাগড়াছড়ি শহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য সভা, সমাবেশ ও মানব বন্ধনসহ পাঁচজনের অধিক জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রোববার রাত পৌনে ১২টার দিকে শহরে মাইকিং করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান এ নিষেধাজ্ঞার জারির কথা স্বীকার করে বলেন, জনস্বার্থে জারি করা এ নিষেধাজ্ঞা কেউ লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম ও তার ছোট ভাই খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতা ও তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুরসহ পুরো শহরে তান্ডবলীলা চালাচ্ছে বলে গতকাল সোমবার আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। আর এ বিভক্তির জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা,পাল্টা হামলা ও পরস্পর বিরোধী মিছিল সমাবেশ হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার বিকালে দলীয় কোন্দলের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় খাগড়াছড়ি জেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক জানু সিকদার (৩৭) গুরুতর আহত হয়। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় চট্রগ্রামে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সন্ধ্যায় জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন কুমার ত্রিপুরার নেতৃত্বে  খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা শহরে লাঠি মিছিল বের করে, শান্ত ভাবে শাপলা চত্বর ঘুরে আদালত সড়ক দিকে আসার সময় পেছন দিক থেকে আসা একটি গ্রুপ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর হামলা চালায়। জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমকে দায়ী করে তার বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়। এ সময় পৌরসভা ভবনসহ বেশ কয়েকটি দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে।

তার পর পরই খাগড়াছড়ি পৌর সভার মেয়র মো: রফিকুল আলমের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল আলমের অনুসারীরা শহরে পাল্টা লাঠি মিছিল বের করে এবং দোকানপাটে হামলার অভিযোগ এনে এমপির বিরুদ্ধে শ্লোগান দেয়।

পরে পৌরসভা মিলনাতয়নে এক সভায় মেয়র মো: রফিকুল আলম পৌরসভা ভবনে হামলা, ভাংচুর ও বিভিন্ন স্থানে তার কর্মী সমর্থকদের উপর হামলার জন্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপিকে দায়ী করেন।

সোমবার সকাল ১১ টায় নাগরিক কমিটি ও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ আহবান করে। অপর দিকে জেলা যুবলীগও একই সময় একই স্থানে সমাবেশ আহবান করলে প্রশাসন ফের সহিংসতার আশংকায় শহরে অনির্দিস্টকালের জন্য সভা-সমাবেশসহ সব ধরনের জমায়েত পূর্ব অনুমতি ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment