খাগড়াছড়ি পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় ছয়টি জিডি

খাগড়াছড়ি রিপোর্ট –

GD

খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে হামলা, হত্যাচেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি প্রদানসহ একাধিক অভিযোগে ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জেলার রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিকসহ সাধারণ জেলাবাসী।

প্রাণনাশের অভিযোগে স্থানীয় যুবক রাপ্রুচাই চৌধুরী বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে জিডি করেন।

জেলা শহরের রুইখই চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা রাপ্রুচাই জানান, ২৮ মার্চ খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ সভায় মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করলে তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন মেয়র।

রাপ্রুচাইয়ের অভিযোগ, মেয়র তার বৃদ্ধা মা গোলাপ ফুল চৌধুরীর নামীয় সম্পত্তি জবরদখল, পৌর মার্কেট নির্মাণসহ ৪৫ লাখ টাকা ও ৩টি বাণিজ্যিক প্লট হস্তান্তর করছেন না।

তবে এসব জিডিকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন মেয়র মো. রফিকুল আলম।

এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি রণ বিক্রম ত্রিপুরার অভিযোগ, জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের ছোট ভাই মেয়র রফিকুল আলম প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান এবং বাড়িঘরে হামলা চালাচ্ছেন।

গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলমের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। আর এ বিভক্তির জেরে দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা ও পরস্পর বিরোধী মিছিল-সমাবেশ হচ্ছে খাগড়াছড়ি শহরে।

সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, এসব হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা কল্যাণ মিত্র বড়ুয়া ও নির্মলেন্দু চৌধুরীও পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন।

এর আগে স্থানীয় দুই সাংবাদিক অপু দত্ত ও মো. নুরুল আজমও পৌর মেয়র রফিকুল আলমের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেন।

এদিকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন, ‘সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমার ওপর হামলা চালাচ্ছে, উল্টো মামলা দিচ্ছে।’

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুদ্দীন ভূঁইয়া জানান, পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র মো. রফিকুল আলম ও শানে আলম গ্রুপ পরস্পর বিরোধী অন্তত দেড় ডজন মামলা করেছেন। তার মধ্যে মেয়র গ্রুপের বিরুদ্ধে হয়েছে প্রায় ১২টি। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব লেগেই আছে। তিনি জানান, উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীরা অধিকাংশ মামলায় জামিনে আছেন।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment