বিজু ২০১৬ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু

রাঙ্গামাটি রিপোর্ট –

Bketu

ফিরোজা বেগম চিনু এমপি বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বৈচিত্রপূর্ণ পোশাক পরিচ্ছেদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জন্য ফ্যাশনবল হতে পারে। তিনি আরো বলেন, সম্প্রীতি বজায় থাকলে সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের কৃষ্টি সংস্কৃতির বিকাশে যে কোন উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে তার পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, পাহাড়ি-বাঙালি সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে যাতে পার্বত্য সংস্কৃতিকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে পারি।

আগামী ১২ এপ্রিল থেকে তিন দিন ব্যাপী শুরু হতে যাওয়া বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিহু-কে সামনে রেখে সোমবার (৪ এপ্রিল) থেকে রাঙ্গামাটিতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ৩ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন শেষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজা বেগম চিনু এমপি একথা বলেন।

রাঙ্গামাটি পার্বত্য  জেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক মো: সামসুল আরেফিন, জেলা পরিষদ সদস্য সান্তনা চাকমা ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির প্রাক্তন পরিচালক মুজিবুল হক বুলবুল। স্বাগত বক্তব্যে রাখেন রাঙ্গামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুনেল চাকমা।

সভাপতির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যেই জাতিগোষ্ঠীর হইনা কেন সকলে মিলেমিশে সকলের উৎসব সানন্দে পালন করব। ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তিনি বলেন, কালের বিবর্তনে নৃ-গোষ্ঠীদের হস্ত শিল্প কর্ম হারিয়ে যেতে  বসেছে। এসব শিল্পকে আমাদের তুলে ধরতে হবে বিশ্ব বাজারে। হস্ত শিল্পের প্রসারে তিনি সমিতির মাধ্যমে জেলা পরিষদ কর্তৃক সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের নিজস্ব তৈরী হস্তশিল্পের নমুনা পাঠানোর জন্য আমেরিকা রাষ্ট্রদূত এর পক্ষ থেকে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। যদি তাদের পছন্দ হয় তবে তাদের বাজারেও এসব পণ্য বাজারজাত করণের উদ্যোগ নিবেন তারা।

তিন  দিনব্যাপী মেলার মধ্যে রয়েছে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা,  চিত্র প্রদর্শনী, আদিবাসী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটক। এছাড়া  তিন দিন ব্যাপী মেলায়  আদিবাসীদের  তৈরী পোশাক অলংকার সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল বসানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) এগার ভাষাভাষী চৌদ্দটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আদিবাসী জাতিসত্তার বসবাস। এসব সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু-সাংগ্রাই-বৈসুক-বিষু বা বিহু। পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত আদিবাসীদের এই উৎসবটি নৃ-গোষ্ঠীরা বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করলেও এর বৈশিষ্ট্য ও ধরন কিন্তু একই। তাই এ উৎসবটি আদিবাসী পাহাড়িদের শুধু আনন্দের নয়, সমগ্র পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী সম্প্রদায়ের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিকভাবে ঐক্য ও মৈত্রী বন্ধনের প্রতীকও বটে।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment