বিজু উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা

১২.০৪.২০১৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Biju

‘উৎসবের জন্য চাই নিরাপদ পরিবেশ, জাতিসত্তা হিসেবে চাই সাংবিধানিক স্বীকৃতি’ দাবি সম্বলিত স্লোগান নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসবের প্রথম দিন আজ ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার খাগড়াছড়িতে সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোররা স্ব-স্ব সম্প্রদায়ের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করেন।

খাগড়াছড়ি শহরের মধুপুর বাজারে মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বেলুন উড়িয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। পরে শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ মাঠে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা।

সার্বজনীন বৈসাবি উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক রণিক ত্রিপুরার সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কমিটির সদস্য সচিব তৃপ্তিময় চাকমা। এতে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান চঞ্চুমনি চাকমা, পৌরসভার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিরণ মারমা ও সমাজসেবিকা যুগতারা দেওয়ান।

সভায় চঞ্চুমনি চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জাতিগুলোর সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে এই বিজু উৎসব। এই উৎসবের মধ্যে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি যুক্ত রয়েছে।  কাজেই আমরা এই বিজুর ঐতিহ্যকে কিছুতেই ত্যাগ করতে পারবো না। তিনি প্রতি বছর যাতে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বিজু উৎসব আয়োজন করা যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

কিরণ মারমা তার বক্তব্যে বলেন, সাংগ্রাই মানেই পার্বত্যবাসীদের জন্য মিলন মেলা। পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত জাতিসত্তাসমূহের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করার একটি উৎসব হচ্ছে এই বৈসাবি।  এই বৈসাবি-ই হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের সংস্কৃতি। এই উৎসব আমরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারি তার জন্য সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিবছর আমরা নিরাপদে উৎসব পালন করতে চাই।

তিনি গত বছর বৈসাবি উৎসবে হামলাকারীদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তির জন্য আপনি চুক্তি করেছেন। কিন্তু তারপরও আমরা নিরাপদে উৎসব পালন করতে পারি না কেন? তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবি উৎসব নিরাপদ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

কিরণ মারমা বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে জাতিসত্তাসমূহের মধ্যে ঐক্য সংহতি জোরদার করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

যুগতারা দেওয়ান বলেন, চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা হিসেবে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে। আমাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য লালন করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আলোচনা সভা শেষে ঐতিহাসিক গরিয়া নৃত্য ও সাঁওতাল নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

Biju

শোভাযাত্রার আগে সকাল ৬টায় চেঙ্গী নদীতে ফুল দিয়ে ঐতিহ্যবাহী বিজু উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়। চেঙ্গী ব্রিজ ও খবংপয্যা এলাকায় ভোর হতে না হতেই শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ নদীতে ফুল দিতে জড়ো হয়। তারা নদীতে ফুল দিয়ে নতুন বছরের জন্য শান্তি ও মঙ্গল কামনা করেন।

আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শান্তি ও মঙ্গল কামনায় গ্রামে গ্রামে ফানুস উত্তোলন করা হবে। এছাড়া বর্ষবরণ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল খাগড়াছড়ি শহরের মহাজন পাড়া এলাকায় প্রদীপ প্রজ্বলন করা হবে।

বার্তা প্রেরক –

তৃপ্তিময় চাকমা
সদস্য সচিব
বৈসাবি উদযাপন কমিটি ২০১৬
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment