থানচিতে অপহরণ ও খুনের ঘটনায় আট গণসংগঠনের বিবৃতি

১৯ এপ্রিল ২০১৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Press release
বান্দরবান জেলার থানচিতে দুর্বৃত্তদের হাতে অপহৃত ও নিহত তিন গরু বেপারির লাশ উদ্ধারের পরবর্তীতে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন দাবিতে সক্রিয় আট গণসংগঠনের কনভেনিং কমিটি (গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘ, সাজেক নারী সমাজ, সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটি, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ও প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াড)–আজ মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল সংবাদ মাধ্যমে এক যুক্ত বিবৃতি দিয়ে অপহরণ ও হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছে এবং ত্রিপুরা দম্পতির ওপর হামলারও নিন্দা জানিয়ে নিরীহ লোকদের হয়রানি না করতে আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্ত বিবৃতিতে আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ খুন খারাবিকে গুরুতর অপরাধ আখ্যায়িত করে নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন। অতীতের ঘটনা স্মরণ করে আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অপহরণ ও খুনের পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য হাসিলের মতলবে “কোন মহল” থেকে ইন্ধন বা গরু বেপারিদের মধ্যকার ব্যবসায়িক কোন দ্বন্দ্ব রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা জরুরী বলে মত দিয়েছেন।

আশির দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি জনগণের ঐক্যবদ্ধ লড়াই সংগ্রাম দুর্বল করার লক্ষ্যে বান্দরবানের দক্ষিণাঞ্চলে নানা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে কতিপয় যুবক দিয়ে তথাকথিত ‘গরম বাহিনী’ গঠন, সাম্প্রতিক কালে এক প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে লামা সদরে জাঁকজমকভাবে তথাকথিত ‘ম্রো ন্যাশনেলিস্ট পার্টির’ আত্মসমর্পণ নাটক মঞ্চস্থকরণ, ইতিপূর্বে তথাকথিত ‘সিএইচটিএনএফ’ (সিএইচটি ন্যাশলিস্ট ফ্রন্ট)-এর কার্যকলাপ, যেটি ‘নব্য মুখোশ বাহিনী’ পরিচিতি লাভ করে সাধারণ গ্রামবাসীর প্রতিরোধের মুখে বিলুপ্ত হয়। সাম্প্রতিক কালে তথাকথিত ‘ত্রিপুরা ন্যাশলিস্ট পার্টি’ বা ‘ত্রিপুরা গ্রুপ’ -এর নামে সংঘটিত বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্ন ঘটনার পেছনেও কোন মহলের ইন্ধন (যা পার্বত্য চট্টগ্রামে জারী থাকা নীল নক্সার অংশ) আছে কিনা, সে সংশয় ব্যক্ত করে আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংবাদ মাধ্যমে দেয়া যুক্ত বিবৃতিতে দুর্বৃত্তের প্রতি কোন ধরনের পক্ষপাত কিংবা আনুকূল্য প্রদর্শন সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকল ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির নিন্দা ও ঘৃণার উদ্রেক করবে মন্তব্য করে আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা যে সম্প্রদায়ের হোক না কেন তাদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করাই সভ্য সমাজের রীতি। কিন্তু কিছু দুর্বৃত্তের খুনখারাবির মত অপকর্মকে উছিলা হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক বিষ বাষ্প ছড়ানো এবং সম্প্রদায়ের অপর নিরীহ নিরাপরাধ লোকদের ওপর নির্বিচার হামলা-লুটপাট অত্যন্ত গর্হিত কাজ, দুঃখজনক হলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সময় বারে বারে তাই ঘটছে, যা প্রায় ক্ষেত্রে সংবাদ মাধ্যমেও বস্তুনিষ্ঠভাবে প্রকাশ পায় না। বান্দরবানের থানচির তংপুপাড়ায় সংঘটিত অপহরণ ও খুনের ঘটনায়ও সাম্প্রদায়িকতার রঙ ছড়ানোর কারণে নিরীহ পাহাড়িদের ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে, তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

দুর্বৃত্ত কর্তৃক ৩ গরু বেপারির হত্যার ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বান্দরবানে কিংবা অন্যত্র ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ওপর নির্বিচার আক্রমণের মাধ্যমে আক্রোশ প্রকাশকে সমগ্র পাহাড়ি জনগণের ওপর আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংবাদ মাধ্যমে দেয়া যুক্ত বিবৃতিতে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন।

সাম্প্রতিককালে সারা দেশে অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় সরকার-প্রশাসনের নির্লিপ্ত ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেছেন আট গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। যুক্ত বিবৃতিতে তারা শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী গজনীতে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৩ জন গারো যুবককে অপহরণের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাদের ব্যাপারে সরকারকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

যুক্ত বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের সদ্য নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা ও জিকো ত্রিপুরা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম নারী সংঘের সভাপতি সোনালী চাকমা, সাজেক নারী সমাজের সভাপতি নিরূপা চাকমা (২), সাজেক ভূমি রক্ষা কমিটির সভাপতি জ্ঞানেন্দু চাকমা, ঘিলাছড়ি নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি কাজলী ত্রিপুরা ও প্রতিরোধ সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের সভাপতি জ্ঞানকীর্তি চাকমা।

বার্তা প্রেরক :

অংগ্য মারমা
সভাপতি
গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম (ডিওয়াইএফ)
কেন্দ্রীয় কমিটি

সদস্য সচিব
আট গণসংগঠনের কনভেনিং কমিটি।

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment