আগামী ৮ মে নান্দনিক ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ এর ভিত্তিফলক উন্মোচন

বিশেষ রিপোর্ট –

CHT Complexরাজধানীর বেইলি রোডে নির্মাণাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের নকশা

রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান – এই তিন পার্বত্য জেলার মানুষ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যরা রাজধানী ঢাকায় এলে কোথায় থাকবেন, তা নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় থাকেন। তাঁদের সেই দুশ্চিন্তার দিন শেষ হতে চলেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে তাঁরা যেন স্থায়ী একটি ঠিকানা পান, সেই লক্ষ্যে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র বেইলি রোডে তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আবাসস্থল ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’। আর এ সুযোগ করে দিয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

১ দশমিক ৯৪ একর জমির ওপর নির্মাণাধীন এই কমপ্লেক্সের ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৬ কোটি টাকা। কমপ্লেক্সটিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি অঞ্চলটির স্বাতন্ত্র্য তুলে ধরার পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর বাসভবন, আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিনজন সার্কেলপ্রধানের ঢাকায় অবস্থানের সময় থাকার ব্যবস্থা থাকবে। কমপ্লেক্সে একটি সাধারণ বিশ্রামাগারও থাকবে, যেখানে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যখন খুশি এসে বিশ্রাম নিতে পারবেন। এ ছাড়া সামান্য ভাড়ায় তাঁরা তিন দিন তিন রাতের জন্য রুম ভাড়াও নিতে পারবেন। থাকবে পাহাড়ি খাওয়াদাওয়ারও সুব্যবস্থা। থাকবে একটি মিলনায়তন, প্রশাসনিক ভবন, মিউজিয়াম ও লাইব্রেরি।

আগামী ৮ মে ৩৩ বেইলী রোড, ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যমন্ডিত “পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স” নামে একটি নান্দনিক ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স এর ভিত্তিফলক উন্মোচন করবেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের উপনেতা ও শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র, আ, ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স” শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারের মধ্য মেয়াদী বাজেটের অন্তর্ভুক্ত যা ২০১৬ সালের ০৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক-এ অনুমোদিত হয়। এখানে একটি মাল্টিপারপাস হল, ডরমেটরি, প্রশাসনিক ভবন, মিউজিয়াম, লাইব্রেরি ইত্যাদি ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যানের বাসভবন নির্মাণ করা হবে। ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কমপ্লেক্সের নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের সাথে সমতলের মানুষের পারস্পরিক সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, সহযোগিতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরিতে কমপ্লেক্সটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তাছাড়া স্থাপনাটি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সামাজিক রীতি-নীতি, ভাষা, ধর্ম এবং আচরণগত স্বাতন্ত্র্য সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলবে। কমপ্লেক্সটি পর্যটকদের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও কৃষ্টি-সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন শৈল্পিক স্থাপনা হিসেবেও বিবেচিত হবে।

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দিনের অপেক্ষায়ই ছিলাম, যেদিন আমরা রাজধানীর বুকে একটি ঠিকানা খুঁজে পাব। যখন আমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাইনি, তখনো আমার ইচ্ছা ছিল পাহাড়িরে জন্য ঢাকায় কেমন করে একটি ঠিকানা গড়ে তোলা যায়। স্বপ্ন বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

বীর বাহাদুর আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মতো একজন হৃদয়বান মানুষের পক্ষেই পিছিয়ে পড়া পাহাড়িদের জন্য এমন মূল্যবান একটি জমি দান করে তাতে সরকারি খরচে কমপ্লেক্স তৈরি করে দেওয়া সম্ভব। এটি পাহাড়িদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অমূল্য উপহার হয়ে থাকবে।’

খবরটি শেয়ার করুন

Post Comment